নিজস্ব প্রতিবেদক:
সেনাবাহিনীর সদস্যদের অবসরজীবনে আর্থিক নিরাপত্তা বাড়াতে ‘ওয়ান র্যাংক ওয়ান পেনশন’ ব্যবস্থা চালুর উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এ ব্যবস্থা বাস্তবায়নের প্রক্রিয়া চলছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। একই সঙ্গে সেনাসদস্যদের বেতন-ভাতা, আবাসন, চিকিৎসা ও অন্যান্য কল্যাণমূলক সুবিধা বাড়ানোর বিষয়েও সরকারের অগ্রাধিকারের কথা তুলে ধরেন তিনি।
রোববার (১৮ অক্টোবর) সকালে সাভার সেনানিবাসে আয়োজিত ন্যাশনাল স্ট্যান্ডার্ড প্রদান অনুষ্ঠান-২০২৬-এ প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।
তারেক রহমান জানান, সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যদের জীবনমান উন্নয়নে সরকার বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছে। ইতোমধ্যে জাতীয় পে-স্কেলের আওতায় তাঁদের বেতন ও ভাতা ১০০ থেকে ১৩৮ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে। এর পাশাপাশি শিক্ষা, প্রশিক্ষণ, পেশাগত উন্নয়ন এবং অবসর-পরবর্তী সামাজিক সুরক্ষার বিষয়গুলো গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হচ্ছে।
সেনা পরিবারের সদস্য হিসেবে বেড়ে ওঠার স্মৃতিচারণ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সেনানিবাসের পরিবেশ তাঁর কাছে নতুন নয়। সেনাসদস্যদের পেশাগত দায়িত্ব, শৃঙ্খলা ও জীবনযাপনের সঙ্গে তিনি ছোটবেলা থেকেই পরিচিত।
অনুষ্ঠানে সেনাবাহিনীর সাতটি ইউনিটকে পেশাগত দক্ষতা ও সাফল্যের স্বীকৃতি হিসেবে ন্যাশনাল স্ট্যান্ডার্ড দেওয়া হয়। ইউনিটগুলো হলো ৭ ও ৩২ ফিল্ড রেজিমেন্ট আর্টিলারি, ২৫ এয়ার ডিফেন্স রেজিমেন্ট, ৯ ইঞ্জিনিয়ার ব্যাটালিয়ন, ৫৬ ও ৫৭ ইস্ট বেঙ্গল এবং প্রেসিডেন্ট গার্ড রেজিমেন্ট। এ সম্মাননা অর্জন করায় সংশ্লিষ্ট ইউনিটগুলোর সদস্যদের অভিনন্দন জানান প্রধানমন্ত্রী।
ন্যাশনাল স্ট্যান্ডার্ডের গুরুত্ব ব্যাখ্যা করে তারেক রহমান বলেন, এটি শুধু একটি পতাকা নয়, বরং সংশ্লিষ্ট ইউনিটের গৌরবময় ইতিহাস, শৃঙ্খলা, ত্যাগ ও পেশাদারত্বের স্বীকৃতি। দেশের প্রতি আনুগত্য এবং জাতীয় পতাকার মর্যাদা অক্ষুণ্ন রাখার দায়িত্বও এই সম্মাননা স্মরণ করিয়ে দেয়।
প্রতিরক্ষা খাতে প্রযুক্তির ক্রমবর্ধমান গুরুত্ব তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিশ্বজুড়ে যুদ্ধের ধরন দ্রুত পরিবর্তিত হচ্ছে। প্রচলিত সামরিক সক্ষমতার পাশাপাশি ড্রোন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, মহাকাশ প্রযুক্তি ও ইলেকট্রনিক যুদ্ধব্যবস্থা এখন প্রতিরক্ষার গুরুত্বপূর্ণ অংশ। এসব পরিবর্তনের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে দেশের সামরিক প্রস্তুতি আধুনিক করা হচ্ছে।
তিনি জানান, সামরিক সরঞ্জামের জন্য বিদেশের ওপর নির্ভরতা কমাতে দেশীয় প্রতিরক্ষা শিল্প গড়ে তোলার ওপর সরকার গুরুত্ব দিচ্ছে। অস্ত্র, গোলাবারুদ ও প্রয়োজনীয় প্রতিরক্ষাসামগ্রী দেশে উৎপাদনের সক্ষমতা বাড়ানোর পাশাপাশি তিন বাহিনীর মধ্যে সমন্বয় জোরদারের প্রয়োজনীয়তার কথাও বলেন তিনি।
দেশের নিরাপত্তার বাইরে দুর্যোগ মোকাবিলা ও আন্তর্জাতিক শান্তিরক্ষায় সশস্ত্র বাহিনীর অবদানের প্রশংসা করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, বন্যা, ঘূর্ণিঝড় ও অগ্নিকাণ্ডসহ বিভিন্ন সংকটে সেনাসদস্যরা মানুষের পাশে দাঁড়ান। জাতিসংঘের শান্তিরক্ষা কার্যক্রমেও বাংলাদেশের সশস্ত্র বাহিনী সুনামের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করছে।
Google News-এ Press Point BD-এর খবর দেখুন আমাদের সর্বশেষ সংবাদ ও প্রতিবেদন Google News-এ পড়ুন।















