অতিন বিশ্বাস:
ন্যূনতম মজুরি ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণসহ বিভিন্ন দাবিতে ঢাকার আশুলিয়ায় আবারও সড়কে নেমেছেন তৈরি পোশাকশ্রমিকেরা।
আজ বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) সকাল থেকে বিভিন্ন কারখানার শ্রমিকেরা মিছিল নিয়ে সড়কে অবস্থান নেন। শ্রমিক অসন্তোষ ও নিরাপত্তা পরিস্থিতির কারণে সাভার ও আশুলিয়ার দুই শতাধিক পোশাক কারখানায় ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে।
শ্রমিকদের আন্দোলন ঘিরে শিল্পাঞ্চলের বিভিন্ন এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। কয়েকটি স্থানে শ্রমিকদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ ও ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ার ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ টিয়ারশেল ও সাউন্ড গ্রেনেড ব্যবহার করে।
বুধবার সকাল থেকে শ্রমিকেরা বিভিন্ন কারখানা থেকে বের হয়ে সড়কের বিভিন্ন পয়েন্টে জড়ো হন। উলাইলে, ফুলবাড়িয়া, ঘোষবাগ, নিশ্চিন্তপুর, নরসিংহপুর, হেমায়েতপুর ও পদ্মার মোড় এলাকায় বিক্ষোভ ও সংঘর্ষের খবর পাওয়া যায়।
ঢাকা জেলার পুলিশ সুপার শামীমা পারভীন জানান, পদ্মার মোড় এলাকায় সকালে প্রায় ৩০ থেকে ৪০ হাজার শ্রমিক সড়কের দুই পাশে অবস্থান নেন। এ সময় পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। বিক্ষোভকারীদের হামলায় সাভার মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার ব্যবহৃত একটি গাড়িতে আগুন দেওয়া হয় বলে তিনি জানান। ওই ঘটনায় ওসি গুরুতর আহত হন।
আশুলিয়া শিল্প পুলিশ-১-এর পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মোমিনুল ইসলাম ভূঁইয়া জানান, শ্রমিক অসন্তোষের কারণে সাভার ও আশুলিয়ার দুই শতাধিক কারখানায় ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। এতে শিল্পাঞ্চলের উৎপাদন কার্যক্রম ব্যাহত হয়।
শ্রমিকদের প্রধান দাবি, বর্তমান ১২ হাজার ৫০০ টাকা ন্যূনতম মাসিক মজুরি বাড়িয়ে ৩০ হাজার টাকা করা। এ ছাড়া রেশনিং সুবিধা চালু, শ্রমিকদের ট্রেড ইউনিয়ন করার অধিকার নিশ্চিত, অন্যায়ভাবে ছাঁটাই ও কালো তালিকাভুক্তি বন্ধ এবং শ্রমিকদের মৃত্যুর ঘটনায় ন্যায়বিচারের দাবিও জানিয়েছেন তাঁরা।
এদিকে শ্রমিকদের মজুরি নির্ধারণে সরকার ইতিমধ্যে ছয় সদস্যের নিম্নতম মজুরি বোর্ড গঠন করেছে। গত ৪ নভেম্বর বোর্ডের প্রথম সভায় নতুন মজুরি কাঠামো ১ ডিসেম্বর থেকে কার্যকরের বিষয়ে সম্মতি হয়। তবে নতুন মজুরির পরিমাণ এখনো চূড়ান্ত হয়নি। বোর্ডের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, নতুন কাঠামোয় শ্রমিকেরা প্রথম বেতন পাবেন আগামী বছরের জানুয়ারিতে।
শ্রমিকদের দাবি ও মজুরি বোর্ডের কার্যক্রম নিয়ে আলোচনা চললেও শিল্পাঞ্চলে বিক্ষোভ অব্যাহত রয়েছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, শ্রমিকদের দাবি নিয়ে আলোচনার পাশাপাশি কারখানার উৎপাদন ও শ্রমিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে মালিকপক্ষ, শ্রমিক প্রতিনিধি এবং প্রশাসনের সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন।
Google News-এ Press Point BD-এর খবর দেখুন আমাদের সর্বশেষ সংবাদ ও প্রতিবেদন Google News-এ পড়ুন।














