ট্রাম্পের বৈঠকের ডাক, কিমের নীরবতা মাঝেই ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়ল উত্তর কোরিয়া

প্রেসপয়েন্ট বিডি

প্রকাশ :আগস্ট ২০, ২০২৬

ট্রাম্পের বৈঠকের ডাক, কিমের নীরবতা মাঝেই ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়ল উত্তর কোরিয়া

অতিন বিশ্বাস: ট্রাম্পের বৈঠকের ডাক, কিমের নীরবতা মাঝেই ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়ল উত্তর কোরিয়া।

উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উনের সঙ্গে চলতি বছরের শেষের দিকে বৈঠক করতে চান মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

ট্রাম্পের এমন আগ্রহের মধ্যেই পিয়ংইয়ং থেকে এসেছে সতর্ক বার্তা।

কিমের বোন ও দেশটির প্রভাবশালী কর্মকর্তা কিম ইয়ো জং জানিয়েছেন, তাঁর ভাইয়ের সঙ্গে ট্রাম্পের সাম্প্রতিক যোগাযোগের বিষয়ে তিনি অবগত নন।

তবে একই সঙ্গে তিনি বলেছেন, দুই নেতার ব্যক্তিগত সম্পর্ক এখনো ‘চমৎকার’।

ট্রাম্প এর আগে জানিয়েছিলেন, কিম তাঁর সঙ্গে কথা বলার অনুরোধে সাড়া দিয়েছেন।

কিন্তু কিম ইয়ো জংয়ের বক্তব্যে সেই যোগাযোগের বিষয়টি নিয়ে তৈরি হয়েছে নতুন ধোঁয়াশা।

তাঁর মন্তব্যে একদিকে যোগাযোগের খবর অস্বীকারের সুর থাকলেও অন্যদিকে ট্রাম্পের সঙ্গে কিমের ভালো সম্পর্কের বিষয়টি স্পষ্ট করা হয়েছে।

ফলে পিয়ংইয়ং যে আলোচনার দরজা পুরোপুরি বন্ধ করে দেয়নি, এমন সম্ভাবনাও দেখছেন পর্যবেক্ষকেরা।

এর মধ্যেই উত্তর কোরিয়াকে ঘিরে সামরিক উত্তেজনা কমানোর উদ্যোগ নিয়েছে ওয়াশিংটন।

ট্রাম্পের নির্দেশে যুক্তরাষ্ট্র ও দক্ষিণ কোরিয়ার বার্ষিক Ulchi Freedom Shield সামরিক মহড়ার সময় ১১ দিন থেকে কমিয়ে পাঁচ দিন করা হয়েছে।

পাশাপাশি কিছু মাঠপর্যায়ের প্রশিক্ষণও কমানো হয়েছে। উদ্দেশ্যগুলোর একটি ছিল পিয়ংইয়ংয়ের সঙ্গে কূটনৈতিক যোগাযোগের পরিবেশ তৈরি করা।

কিন্তু সেই উদ্যোগের পরও উত্তর কোরিয়ার সামরিক তৎপরতা থামেনি।

২০ আগস্ট দেশটি পূর্ব উপকূলের দিকে প্রায় ১০টি স্বল্পপাল্লার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়ে। দক্ষিণ কোরিয়ার সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, ক্ষেপণাস্ত্রগুলো প্রায় ৩০০ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে সাগরে পড়ে।

পিয়ংইয়ংয়ের এই অবস্থান থেকে স্পষ্ট, সামরিক চাপ কমানোর মার্কিন উদ্যোগকে তারা এখনো যথেষ্ট মনে করছে না।

কিম ইয়ো জংও বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের ‘শত্রুতাপূর্ণ নীতি’ বদলায়নি। ফলে ট্রাম্পের পক্ষ থেকে আলোচনার বার্তা এলেও

উত্তর কোরিয়া একই সঙ্গে সামরিক সক্ষমতা প্রদর্শনের পথও ধরে রেখেছে।

ট্রাম্প ও কিম শেষ পর্যন্ত বৈঠকে বসলে প্রথম ধাপেই বড় কোনো পারমাণবিক চুক্তি হওয়ার সম্ভাবনা সীমিত।

বরং সামরিক উত্তেজনা কমানো, সরাসরি যোগাযোগ পুনঃস্থাপন এবং ভবিষ্যৎ আলোচনার পথ তৈরি এসব বিষয়ই বেশি গুরুত্ব পেতে পারে।

উত্তর কোরিয়া এখন নিজেদের পারমাণবিক ও সামরিক সক্ষমতাকে আগের তুলনায় শক্ত অবস্থানে নিয়ে গেছে।

তাই যুক্তরাষ্ট্রের একতরফা পারমাণবিক নিরস্ত্রীকরণের দাবিতে দ্রুত সম্মতি দেওয়ার সম্ভাবনা কম।

এর পরিবর্তে ধাপে ধাপে সমঝোতা, সামরিক মহড়া কমানো, নিষেধাজ্ঞা শিথিল করা কিংবা পারস্পরিক আস্থা তৈরির মতো বিষয় আলোচনায় আসতে পারে।

তবে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হলো কিম আদৌ বৈঠকে বসতে আগ্রহী কি না।

কিম ইয়ো জংয়ের বক্তব্যে ট্রাম্পের সঙ্গে ব্যক্তিগত সম্পর্কের ইতিবাচক দিকটি তুলে ধরা হলেও যুক্তরাষ্ট্রের নীতির সমালোচনা করা হয়েছে।

অর্থাৎ ব্যক্তিগত সম্পর্কের দরজা খোলা থাকলেও রাজনৈতিক দর-কষাকষির দরজা এখনো পুরোপুরি খোলেনি।

ট্রাম্প-কিমের আগের বৈঠকগুলোতে ব্যক্তিগত সম্পর্ক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিল। এ

বারও সেই সম্পর্ক কাজে লাগিয়ে আলোচনা শুরু করা সম্ভব হলে কোরীয় উপদ্বীপে উত্তেজনা কমানোর নতুন সুযোগ তৈরি হতে পারে।

তবে ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ এবং পারমাণবিক ইস্যুতে পিয়ংইয়ংয়ের কঠোর অবস্থান বলছে বৈঠক হলেও বড় কোনো সমঝোতায় পৌঁছানো সহজ হবে না।

আরো পড়ুন…..

এফডিএ প্রধান হিসেবে ডা. হাইডি ওভারটনকে বেছে নিলেন ট্রাম্পকে/