দূষিত শহরের তালিকায় ঢাকা থাকা লজ্জার: প্রধানমন্ত্রী

Ahmed Siam

প্রকাশ :অক্টোবর ১৫, ২০২৬

জয়শ্রী রানী, নিজস্ব প্রতিবেদক:
বিশ্বের সবচেয়ে দূষিত শহরগুলোর তালিকায় ঢাকার নাম বারবার উঠে আসাকে দেশের জন্য লজ্জাজনক বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। পরিবেশের এই পরিস্থিতি বদলে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য বাসযোগ্য বাংলাদেশ গড়তে সরকার ও নাগরিকদের সম্মিলিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে মন্ত্রণালয়ের কার্যক্রমের অগ্রগতি ও বাস্তবায়ন পর্যালোচনাসংক্রান্ত সভায় প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

ঢাকার বায়ুদূষণ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি বলেন, দীর্ঘদিন ধরে বিশ্বের দূষিত শহরের তালিকায় ঢাকা প্রথম কিংবা দ্বিতীয় স্থানে উঠে আসছে। এটি দেশের জন্য লজ্জার। পরিস্থিতি পরিবর্তনে প্রত্যেককে নিজ নিজ অবস্থান থেকে দায়িত্ব নিতে হবে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, শহরে মানুষের প্রকৃতির সান্নিধ্যে যাওয়ার সুযোগ সীমিত। তাই উন্মুক্ত সবুজ জায়গা বাড়ানোর পাশাপাশি ছাদবাগান, স্কুলবাগান ও বিভিন্ন ভবনে বাগান তৈরিতে উৎসাহ দিতে হবে।

সভায় আগামী ছয় মাসের মধ্যে দেশের গুরুত্বপূর্ণ ‘মাদার ট্রি’ শনাক্ত করে সংরক্ষণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। বৃক্ষরোপণের পাশাপাশি চারার নিয়মিত পরিচর্যা, রোপণ করা গাছের বেঁচে থাকার হার পর্যবেক্ষণ এবং পার্বত্য চট্টগ্রামে বনায়ন সম্প্রসারণের নির্দেশ দেন প্রধানমন্ত্রী।

পরিবেশ রক্ষায় জনসচেতনতার ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, সরকারের উদ্যোগের পাশাপাশি সাধারণ মানুষকে সম্পৃক্ত করতে হবে। মানুষ যত বেশি সচেতন হবে, পরিবেশ সংরক্ষণের কাজ তত সহজ হবে।

সরকারি কর্মকর্তাদের নির্ধারিত দায়িত্বের বাইরে গিয়ে কাজ করার আহ্বান জানিয়ে তারেক রহমান বলেন, দেশের জন্য কাজ করার সুযোগ সবার আসে না। দায়িত্বশীল পদে থাকা ব্যক্তিদের সেই সুযোগ কাজে লাগাতে হবে। শুধু নিয়মিত দাপ্তরিক কাজ শেষ করলেই দায়িত্ব শেষ হয়ে যায় না।

তিনি আরও বলেন, পরিবেশের অবনতি হলে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম। তাই দেশের স্বার্থে প্রত্যেককে নিজের সামর্থ্য অনুযায়ী বাড়তি উদ্যোগ নিতে হবে।

দেশব্যাপী ২৫ কোটি গাছ লাগানোর পরিকল্পনার কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, পরিকল্পনাটি যথাযথভাবে বাস্তবায়ন করা গেলে এর সুফল দেশের সব মানুষ পাবে। সম্মিলিত প্রচেষ্টায় পরিবেশবান্ধব ও বাসযোগ্য বাংলাদেশ গড়ে তোলা সম্ভব।

সভায় পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনমন্ত্রী আব্দুল আউয়াল মিন্টু, প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম, প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী সাইমুম পারভেজ, ভারপ্রাপ্ত সচিব ফাহমিদা খানমসহ মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

Google News-এ Press Point BD-এর খবর দেখুন আমাদের সর্বশেষ সংবাদ ও প্রতিবেদন Google News-এ পড়ুন।