দেশের গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকট মোকাবিলায় ৫২টি নতুন গ্যাসকূপ খননের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। গত দুই দশকে নতুন কূপ খনন না করায় যে ঘাটতি তৈরি হয়েছে, তা পূরণে এ উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম।
বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) আন্তর্জাতিক কনভেনশন সিটি বসুন্ধরায় ১৪তম আন্তর্জাতিক কৃষি প্রযুক্তি মেলা-২০২৬ উদ্বোধন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন প্রতিমন্ত্রী। এ সময় তিনি জানান, ভোলা, নোয়াখালী ও তিতাস গ্যাসক্ষেত্র থেকে নতুন গ্যাস পাওয়ার সুখবর এসেছে।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকট নিরসনে সরকার কাজ করছে। দীর্ঘদিন নতুন কূপ খনন না হওয়ায় সরবরাহে যে ঘাটতি তৈরি হয়েছে, তা কাটিয়ে উঠতে ৫২টি কূপ খননের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
কৃষি প্রযুক্তি মেলার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, কৃষির আধুনিকায়ন, উৎপাদনশীলতা বাড়ানো এবং খাদ্যনিরাপত্তা নিশ্চিত করাই এ আয়োজনের লক্ষ্য। আগামী ৭ নভেম্বর পর্যন্ত চলবে মেলা। স্মার্ট কৃষি ও খাদ্যনিরাপত্তায় প্রিসিশন এগ্রিকালচারকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
মীর শাহে আলম জানান, প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ নির্দেশনায় এবারের মেলায় ১২টি দেশের প্রায় ২৫০টি কৃষি প্রতিষ্ঠান অংশ নিয়েছে। ৫৩টি স্টলে বিভিন্ন আধুনিক কৃষিপ্রযুক্তি ও উদ্ভাবন তুলে ধরা হচ্ছে। কৃষকদের দক্ষতার মূল্যায়ন, গবেষকদের বেতন-ভাতা বৃদ্ধি এবং সামাজিক মর্যাদা উন্নয়নেও সরকার কাজ করছে।
কৃষিতে ভূগর্ভস্থ পাইপলাইনের মাধ্যমে সেচের পানি সরবরাহের সুফল তুলে ধরে প্রতিমন্ত্রী বলেন, বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ ও আরডিএর উদ্যোগে এ পদ্ধতিতে প্রায় ৪০ শতাংশ পানি সাশ্রয় সম্ভব হয়েছে। পাশাপাশি সারের সঠিক ব্যবহার, অতিরিক্ত সার প্রয়োগ কমানো এবং জৈব সারের ব্যবহার বাড়ানোর ওপর জোর দেন তিনি।
উত্তরাঞ্চলের উদ্বৃত্ত আলু কাজে লাগাতে স্টার্চ পাউডার তৈরির কারখানা স্থাপনের প্রয়োজনীয়তার কথাও বলেন প্রতিমন্ত্রী। এতে বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয় হবে বলে তাঁর ধারণা। বগুড়া বিমানবন্দরকে কার্গো সুবিধাসহ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে উন্নীত করে উত্তরাঞ্চলের আলু ও সবজি বিদেশে রপ্তানির পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি।
অনুষ্ঠানে আরডিএর মহাপরিচালক আব্দুল মজিদ প্রামাণিক কৃষিতে যান্ত্রিকীকরণ, প্রযুক্তির ব্যবহার এবং গবেষণা ও শিল্প খাতের মধ্যে সমন্বয়ের ওপর গুরুত্ব দেন। সভাপতির বক্তব্যে পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় বিভাগের সচিব ড. রফিকুল ই মোহামেদ কৃষি প্রযুক্তি সম্প্রসারণ, গবেষণার ফল মাঠপর্যায়ে প্রয়োগ এবং সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্বের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন।













