সেতু মাহমুদ: জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের অংশ হিসেবে নিউইয়র্কে আয়োজিত "হাই-লেভেল মিটিং অন ক্লাইমেট অ্যাকশন অ্যান্ড দ্য জাস্ট ট্রানজিশন" শীর্ষক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে ভাষণ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
বুধবার (স্থানীয় সময়) বিকেলে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত মোকাবিলা, জলবায়ু ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা এবং টেকসই জ্বালানি রূপান্তরে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা আরও জোরদারের জোর আহ্বান জানান তিনি।
ভাষণে প্রধানমন্ত্রী বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনজনিত ঝুঁকিতে সবচেয়ে বেশি ভুগছে বাংলাদেশের মতো উপকূলীয় ও নিম্নাঞ্চলীয় দেশগুলো, যদিও বৈশ্বিক উষ্ণায়নে তাদের ভূমিকা নগণ্য। তিনি বলেন, জলবায়ু-ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোর জন্য সহজ শর্তে ও সুলভ অর্থায়ন নিশ্চিত করা এবং বৈশ্বিক উষ্ণায়ন ১ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখার লক্ষ্য অর্জনে উন্নত দেশগুলোর সুনির্দিষ্ট ও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া এখন সময়ের দাবি। un.org
তিনি আরও বলেন, জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় বিশ্বব্যাপী নেওয়া উদ্যোগগুলো এখনো অত্যন্ত ধীরগতির ও অসম, যদিও কিছু কিছু ক্ষেত্রে গত বছরের তুলনায় সীমিত অগ্রগতি পরিলক্ষিত হয়েছে। এই ধীরগতির পেছনে মূল বাধা হিসেবে তিনি অর্থায়নের ঘাটতি, ক্রমবর্ধমান জলবায়ুজনিত দুর্যোগ এবং উন্নয়নশীল দেশগুলোর ওপর চেপে বসা ঋণের বোঝাকে চিহ্নিত করেন।
জলবায়ু ন্যায়বিচারের প্রশ্নে সরকারের দৃঢ় অবস্থান তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, যেসব দেশ ঐতিহাসিকভাবে সবচেয়ে বেশি কার্বন নিঃসরণ করে বৈশ্বিক উষ্ণায়নের জন্য দায়ী, ক্ষতিপূরণ ও অভিযোজন খাতে তাদেরই সবচেয়ে বেশি দায়িত্ব নেওয়া উচিত। এ প্রসঙ্গে তিনি "ক্ষয়ক্ষতি তহবিল" (লস অ্যান্ড ড্যামেজ ফান্ড)-এর কার্যকর বাস্তবায়নের ওপরও বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করেন।
tariquerahman.info
আগামী নভেম্বরে অনুষ্ঠেয় জাতিসংঘের জলবায়ু সম্মেলন কপ-৩১-এও জলবায়ু ন্যায়বিচার ও ক্ষতিপূরণের এই দাবি আরও জোরালোভাবে তুলে ধরার পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের, যেখানে পরিবেশবান্ধব পাটজাত পণ্যের সম্ভাবনা ও গুরুত্বও বিশ্ব দরবারে তুলে ধরা হবে বলে আগে জানিয়েছিলেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ।
এই উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে বক্তব্যের মধ্য দিয়ে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে চলমান তাঁর সফরে জলবায়ু ইস্যুতে বাংলাদেশের অবস্থান স্পষ্টভাবে তুলে ধরলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, যিনি আগামী ২৪ সেপ্টেম্বর সাধারণ পরিষদের সাধারণ বিতর্ক পর্বেও ভাষণ দেবেন।













