এক দফা দাম বাড়ানোর পরও এলপিজির বাজারে সংকট কাটেনি। নির্ধারিত দামে সিলিন্ডার না পাওয়ার অভিযোগের মধ্যেই আবারও দাম বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছে কোম্পানিগুলো। তাদের প্রস্তাব অনুমোদন পেলে ১২ কেজির সিলিন্ডারের দাম সর্বোচ্চ ৩০০ টাকা বাড়তে পারে।
গত ৪ অক্টোবর বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) ১২ কেজি এলপিজি সিলিন্ডারের দাম ২৫২ টাকা বাড়িয়ে ১ হাজার ৮৩৭ টাকা নির্ধারণ করে। এবার মজুত ও বোতলজাতকরণ, ঋণ ও অর্থায়ন, মুনাফা, বিভিন্ন কমিশনসহ একাধিক খাতে ব্যয় বৃদ্ধির প্রস্তাব দিয়েছে এলপিজি কোম্পানিগুলো।
বেসরকারি এলপিজি অপারেটরদের সংগঠন লোয়াবের সহসভাপতি হুমায়ূন রশীদ বলেন, পরিচালন ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় মূল্য সমন্বয়ের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। তাঁর ভাষ্য, কোম্পানিগুলো লোকসানে পড়লে আমদানি কমিয়ে দিতে পারে, যার প্রভাব পড়বে বাজারে এলপিজির সরবরাহের ওপর। তাই প্রতিষ্ঠানগুলোর ব্যয় বিবেচনায় রেখে দাম নির্ধারণ করা প্রয়োজন।
তবে আন্তর্জাতিক বাজারে এলপিজির দাম কমলে দেশের বাজারেও মূল্য হ্রাসের বিষয়টি বিবেচনা করা হবে বলে জানান হুমায়ূন রশীদ। তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক সরবরাহ বাড়া, সৌদি আরবের কন্ট্রাক্ট প্রাইস (সিপি) কমা কিংবা পরিবহন ব্যয় হ্রাসের প্রভাবও মূল্য সমন্বয়ের ক্ষেত্রে বিবেচনায় আসতে পারে।
কোম্পানিগুলোর ব্যয় বাড়ানোর উদ্যোগে আপত্তি তুলেছেন স্থানীয় এলপিজি পরিবেশকেরা। তাঁদের বক্তব্য, পরিবেশকদের কমিশন বাড়ানোর দাবি বিবেচনা না করে কোম্পানিগুলোর ব্যয় বৃদ্ধির প্রস্তাব অনুমোদন করা হলে বাজারে বিরূপ প্রতিক্রিয়া তৈরি হতে পারে।
এলপিজি ব্যবসায়ী সমবায় সমিতির অর্থ সম্পাদক আবু তাহের কোরেশী বলেন, কোম্পানিগুলোর ব্যয় বৃদ্ধির কারণ ও খাতগুলো পরিষ্কার নয়। এত দিন পর বিষয়টি সামনে এনে গণশুনানির আয়োজনের যৌক্তিকতা নিয়েও তিনি প্রশ্ন তোলেন। তাঁর মতে, এলপিজির দাম ধারাবাহিকভাবে বাড়লে ভোক্তারা বিকল্প জ্বালানি ব্যবহারের কথা ভাবতে পারেন। আবার দাম কমার সময় কোম্পানিগুলোর ব্যয় কমানো হবে কি না, সেটিও পরিষ্কার হওয়া দরকার।
অন্যদিকে, প্রস্তাবিত মূল্য সমন্বয় নিয়ে বিইআরসির গণশুনানি বর্জনের ঘোষণা দিয়েছেন কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) জ্বালানি উপদেষ্টা অধ্যাপক এম শামসুল আলম। তাঁর অভিযোগ, কমিশন ভোক্তাদের অধিকার রক্ষায় কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারছে না।
শামসুল আলম বলেন, ২০২১ সালে এলপিজির দাম নির্ধারণের সময় প্রতি সিলিন্ডারে ৫৫ টাকা অতিরিক্ত বাড়ানো হয়েছিল বলে তাঁরা অভিযোগ করেছিলেন। ওই বাড়তি দামের প্রভাব গত পাঁচ বছরে কীভাবে সমন্বয় করা হয়েছে, তার ব্যাখ্যা চান তিনি। তাঁর আরও অভিযোগ, কোম্পানিগুলোর দাম বাড়ানোর প্রস্তাব গণশুনানি ছাড়াই কার্যকর করা হয়েছিল। এ অবস্থায় নতুন গণশুনানির কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে।
বিইআরসি ২০২১ সালে প্রথমবার সরকারি ও বেসরকারি এলপিজির দাম নির্ধারণের জন্য গণশুনানি করে। সে সময় বিভিন্ন খাতে নির্ধারিত চার্জের ভিত্তিতে পরবর্তী সময়ে প্রতি মাসে এলপিজির দাম নির্ধারণের ব্যবস্থা চালু হয়।


















