সৈয়দ আতিক ফয়সাল, রাবি প্রতিনিধি: ৪৯তম বিসিএসের চূড়ান্ত গেজেটে সাময়িকভাবে মনোনীত প্রার্থীদের মধ্য থেকে ৫৭ জনের নাম বাদ পড়ার প্রতিবাদে মানববন্ধন করেছেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (রাকসু) নেতারা।
বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) দুপুর ১২টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্যারিস রোডে এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। মানববন্ধনে রাকসুর কেন্দ্রীয় সংসদের নেতাকর্মী, হল সংসদের প্রতিনিধি এবং শিক্ষার্থীরা অংশ নেন।
প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, ৪৯তম বিসিএস (বিশেষ) পরীক্ষার চূড়ান্ত ফলে ৬৬৮ জনকে নিয়োগের জন্য সাময়িকভাবে মনোনীত করা হয়েছিল। তবে ৩০ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত চূড়ান্ত গেজেটে ৬১১ জনের নাম রয়েছে। ফলে আগের তালিকা থেকে ৫৭ জনের নাম বাদ পড়েছে। গেজেটে তাঁদের বাদ পড়ার নির্দিষ্ট কারণ উল্লেখ করা হয়নি।মানববন্ধনে রাকসুর সহসভাপতি (ভিপি) মোস্তাকুর রহমান জাহিদ বলেন, বর্তমান সরকারও দলীয়করণের পথে হাঁটছে বলে তারা মনে করছেন।
তার অভিযোগ, ভেরিফিকেশন ও নিয়োগপ্রক্রিয়ায় মেধার যথাযথ মূল্যায়ন নিশ্চিত করা হচ্ছে না।
তিনি বলেন, উত্তীর্ণ হওয়ার পরও যাঁদের নাম গেজেটে অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি, তাঁদের বিষয়ে স্বচ্ছ ব্যাখ্যা দিতে হবে। বাদ পড়া প্রার্থীদের নিয়োগের বিষয়টি পুনর্বিবেচনা করে তাঁদের ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত করার দাবিও জানান তিনি।রাকসুর সংস্কৃতিবিষয়ক সম্পাদক জাহিদ হাসান জোহা অভিযোগ করেন, সরকারি নিয়োগে দলীয় বিবেচনা প্রাধান্য পাচ্ছে।
তার দাবি, নিয়োগপ্রক্রিয়ায় মৌখিক পরীক্ষার নম্বর ও যাচাই-বাছাইয়ের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে হবে, যাতে যোগ্য প্রার্থীরা বঞ্চিত না হন।রাকসুর মহিলাবিষয়ক সম্পাদক সৈয়দা হাফসা বলেন, চূড়ান্ত সুপারিশ পাওয়ার পরও যাচাই-বাছাইয়ের কারণে প্রার্থীদের বাদ পড়ার বিষয়টি উদ্বেগজনক।
কোনো প্রার্থীকে বাদ দেওয়া হলে তার সুনির্দিষ্ট কারণ জানানো প্রয়োজন বলে তিনি মন্তব্য করেন। দাবি পূরণ না হলে আন্দোলন আরও জোরদার করার হুঁশিয়ারিও দেন তিনি।মানববন্ধনে রাকসুর তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক বি এম নাজমুস সাকিব, বিতর্ক ও সাহিত্য সম্পাদক ইমরান লস্কর, কার্যনির্বাহী সদস্য ইমু জিয়াউল হক কামালিসহ হল ও ছাত্র সংসদের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
উল্লেখ্য, ৪৯তম বিসিএসের চূড়ান্ত গেজেটে ৫৭ জনের নাম না থাকায় প্রার্থীদের মধ্যে প্রশ্ন ও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। তবে তাদের প্রত্যেককে বাদ দেওয়ার কারণ সম্পর্কে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা পাওয়া না যাওয়া পর্যন্ত এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যাচ্ছে না।













