সৈয়দ আতিক ফয়সাল, রাবি প্রতিনিধি: রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে(রাবি) পেশাগত দায়িত্ব পালনের সময় সাংবাদিকদের ওপর ছাত্রদলের হামলার প্রতিবাদে মানববন্ধন করেছে বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা।
আজ সোমবার (৫ অক্টোবর) বেলা সাড়ে ১১ টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর একাডেমিক ভবনের সামনে এই কর্মসূচি পালন করা হয়। কর্মসূচিতে অংশগ্রহণকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের অধ্যাপক আবদুল্লাহ আল-মামুন বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন প্রায় নিস্ক্রিয় ছিল এবং এমন সহিংস ঘটনা ঘটার সুযোগ করে দিয়েছে। এই প্রশাসন যদি এমন ভাবে চলে তাহলে এমন সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড এবং সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনা আরও ঘটবে। ফলে আমাদের দামি পরিষ্কার, যারা আমাদের সাংবাদিক শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা চালিয়েছে অতি দ্রুত সময়ের মধ্যে আমরা তাদের শাস্তির প্রক্রিয়া শুরু করা হয়।’
শিক্ষকতার তিন দশকে সাংবাদিকদের ওপর কখনো এমন আঘাত দেখেননি বলে মন্তব্য করেন অধ্যাপক মশিহুর রহমান। তিনি বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন অগ্রাধিকার ভিত্তিতে অপরাধীদের বিরুদ্ধে মামলা করে ফৌজদারি আইনের আওতায় শাস্তির ব্যবস্থা করুক। একই সঙ্গে অপরাধ প্রমাণিত হলে ছাত্রত্ব বাতিলসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাতিষ্ঠানিকভাবে যে শাস্তির সুযোগ রয়েছে, সেসব পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। যাতে একজন শিক্ষার্থী নির্ভয়ে চলাফেরা করতে পারে এবং গণমাধ্যমকর্মীরা নির্ভয়ে তথ্য সংগ্রহ করতে পারেন।’
তিনি আরও বলেন, ‘কোন ভাবেই এটি দুর্ঘটনাজনিত বা হঠাৎ আক্রমণ নয়। আমার কাছে মনে হয়, তারা প্রচন্ড আক্রোশের সাথে একবারে টার্গেট করে সাংবাদিকদের ওপর হামলা চালিয়েছে। সাংবাদিকদের ওপর আক্রমণ কোনো ব্যাক্তির ওপর আক্রমণ বলে মানতে আমি রাজি নই। একজন সাংবাদিক যখন আক্রমণের শিকার হন তখন এটি তথ্য, গণমাধ্যম, মুক্তবুদ্ধির চর্চা এবং মতপ্রকাশের স্বাধীনতা এবং সামগ্রিকভাবে এই প্রতিষ্ঠানের ওপর আক্রমণ বলে আমাদের বিবেচনা করতে হয়।’
সহযোগী অধ্যাপক কাজী মামুন হায়দার বলেন, ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পরে সকল গণমাধ্যম সংস্কার না হয়ে রাতারাতি দখলের চেষ্টা করল। সাংবাদিকদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে, প্রেস অ্যাক্রিডিটেশন কার্ড বাতিল করা হয়েছে। দুটি গুরুত্বপূর্ণ গণমাধ্যমের ওপর সরাসরি হামলা হয়েছে। যখন এই হামলা হচ্ছে ঢাকাতে, তখন রাজশাহী ও জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে ইসলামী ছাত্রশিবিরের সভাপতিরা এই হামলার মদদ দিচ্ছে। অসাধারণ ব্যাপার! যে গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ও সংস্কারের কথা বলতে চেয়েছিলাম, তার বদলে আরও ধ্বংশ হয়েছে। সবশেষ গতকাল এখানে খেয়াল করলে দেখা যাবে, নির্দিষ্ট করে করে সাংবাদিকদের মারা হয়েছে।’
বিভাগের সভাপতি মোজাম্মেল হোসেন বকুল বলেন, ‘আমাদের শিক্ষার্থীরা যখন রক্তাক্ত, ব্যথায় কাতর, তখন আমাদের মানববন্ধনে দাঁড়াতে হয়েছে। এ পরিস্থিতিতে আমরা বিভাগের আজকে ক্লাস বর্জন করেছি। দুপুরে একাডেমিক কমিটির সভাও আহ্বান করা হয়েছে। সেখানে পরবর্তী করণীয় নির্ধারণ করা হবে।’
ফারজানা তন্বি বলেন, ‘সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনায় সব ধরনের স্পষ্ট ফুটেজ আছে। আজকের মধ্যে প্রশাসন যদি দৃষ্টান্তমূলক কোনো শাস্তির ব্যবস্থা না নেয়, তাহলে আজকেই পদত্যাগ করা উচিত। যে প্রশাসনের সামনে শিক্ষার্থীদের মারে, সেখানে প্রশাসনের অস্তিত্ব নেই।’
মানববন্ধনে আরও উপস্থিত ছিলেন, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতির সাবেক সভাপতি ইরফান তামিম ও বর্তমান সাধারণ সম্পাদক মাহবুব হাসান, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় প্রেসক্লাবের সভাপতি আশিকুল ইসলাম, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় রিপোর্টাস ইউনিটির অর্থ সম্পাদক দীন ইসলাম। এছাড়াও বিভাগটির বিভিন্ন বর্ষের শিক্ষার্থীরাসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের সচেতন শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন। মানববন্ধনটি সঞ্চালনা করেন বিভাগের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী আবু সালেহ শোয়েব।













