নাবিলা কবির: ডিলিট উপাধি গ্রহণ অনুষ্ঠানে সব্যসাচীর শাড়ি ছেড়ে পাওয়ার স্যুটে রানি।
ভারতীয় চলচ্চিত্রের অন্যতম প্রতিভাবান অভিনেত্রী রানি মুখার্জি। গত তিন দশক ধরে তিনি তার অভিনয়শৈলী দিয়ে দর্শকদের মন জয় করে চলেছেন।
সম্প্রতি এই কিংবদন্তি অভিনেত্রী তার কর্মজীবনের এক অনন্য উচ্চতায় পৌঁছেছেন।
অস্ট্রেলিয়ার মেলবোর্নে আয়োজিত ‘ইন্ডিয়ান ফিল্ম ফেস্টিভ্যাল অফ মেলবোর্ন’ (IFFM) ২০২৬-এর মঞ্চে রানি মুখার্জিকে
সম্মানসূচক ‘ডক্টর অফ লেটারস’ (D.Litt) উপাধিতে ভূষিত করেছে লা ট্রোব বিশ্ববিদ্যালয়।
প্রায় তিন দশকের চলচ্চিত্র ক্যারিয়ার এবং সামাজিক কর্মকাণ্ডে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ তাকে এই সম্মান প্রদান করা হয়েছে।
২০১৯ সালে শাহরুখ খানের পর দ্বিতীয় ভারতীয় চলচ্চিত্র ব্যক্তিত্ব হিসেবে রানি মুখার্জি ‘লা ট্রোব বিশ্ববিদ্যালয়ের এই মর্যাদাপূর্ণ সম্মান লাভ করলেন।
অনুষ্ঠানে আবেগপ্রবণ রানি জানান, এটি তার জীবনের অন্যতম স্মরণীয় এবং বিনম্র অভিজ্ঞতা।
তিনি বলেন, “যখন আমি খুব ছোট ছিলাম, আমার স্বপ্ন ছিল আমার পরিবার ও দেশকে গর্বিত করা।
আজ এই আন্তর্জাতিক মঞ্চে দাঁড়িয়ে সেই স্বপ্ন পূরণ হতে দেখে আমি আপ্লুত।”

সম্মাননা গ্রহণ ছাড়াও রানি মুখার্জি আলোচনার কেন্দ্রে ছিলেন তার চমৎকার ফ্যাশন সেন্সের জন্য। এই বিশেষ দিনে তিনি দুটি সম্পূর্ণ ভিন্নধর্মী সাজে নিজেকে উপস্থাপন করেন, যা ফ্যাশন সমালোচকদের দৃষ্টি কাড়তে বাধ্য হয়েছে।
অনুষ্ঠানের শুরুতে রানি বেছে নিয়েছিলেন প্রথাগত ও আভিজাত্যের প্রতীক সব্যসাচী মুখার্জির ডিজাইন করা একটি গাঢ় নীল রঙের শাড়ি। শাড়ির পাড়ে থাকা সোনালী কারুকার্য তার লুকে আভিজাত্য ও স্নিগ্ধতা ফুটিয়ে তুলেছিল।
কানের দুল এবং হাতে থাকা কালো ঘড়ি তার শাড়ির লুককে পূর্ণতা দিয়েছিল। মেকআপে তিনি রেখেছিলেন স্নিগ্ধ ভাব গোলাপী আভা
এবং কোহল-লাইন্ড চোখে তাকে বরাবরের মতোই মোহময়ী দেখাচ্ছিল।
তবে শাড়ির আভিজাত্য থেকে বেরিয়ে এসে তিনি মুহূর্তের মধ্যে নিজেকে বদলে ফেলেন আধুনিক ‘পাওয়ার স্যুটে’।
সব্যসাচীর শাড়ি থেকে সরে এসে তিনি বেছে নেন ‘ম্যাক্স মারা’র একটি লাল রঙের অর্গাঞ্জা পাওয়ার স্যুট।
ডাবল-ব্রেস্টেড ব্লেজার এবং মানানসই ট্রাউজারে রানিকে অত্যন্ত আত্মবিশ্বাসী ও ক্ষমতাবান দেখাচ্ছিল।
এই পশ্চিমা পোশাকেও তিনি ভারতীয়ত্বের ছোঁয়া রাখতে ভোলেননি; গলায় বা হাতে থাকা চুড়ির স্টাইলিং ছিল দেখার মতো।
দুই ভিন্নধর্মী পোশাকে রানি বুঝিয়ে দিয়েছেন, তিনি যেমন ঐতিহ্য ধরে রাখতে জানেন, তেমনি আধুনিকতার সাথেও নিজেকে মানিয়ে নিতে দক্ষ।
রানি মুখার্জির এই ডক্টরেট কেবল তার ব্যক্তিগত প্রাপ্তি নয়, বরং এটি বিশ্বমঞ্চে ভারতীয় চলচ্চিত্র এবং সংস্কৃতির স্বীকৃতির প্রতীক।
‘ব্ল্যাক’, ‘হিচকি’, ‘মর্দানি’ কিংবা ‘মিসেস চ্যাটার্জি ভার্সেস নরওয়ে’-এর মতো সিনেমায় তার অভিনয় সমাজের বিভিন্ন স্তরে নারী ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর অধিকার নিয়ে কথা বলতে শিখিয়েছে।
লা ট্রোব বিশ্ববিদ্যালয়ের চ্যান্সেলর জন ব্রাম্বি তাকে সম্মান জানাতে গিয়ে বলেন, রানি মুখার্জি কেবল একজন দক্ষ শিল্পীই নন
তিনি একজন সমাজ সচেতন মানুষ, যিনি তার কাজের মাধ্যমে বিশ্বজুড়ে সমতা ও ন্যায়বিচারের বার্তা পৌঁছে দিয়েছেন।
ক্যারিয়ারের এই দীর্ঘ যাত্রায় রানি সবসময়ই ঝুঁকি নিতে পছন্দ করেছেন।
তার প্রতিটি চরিত্র যেন এক একটি লড়াইয়ের গল্প। এই সম্মাননা তার সেই অদম্য যাত্রাকেই নতুন করে স্বীকৃতি দিল।
রানি মুখার্জির এই প্রাপ্তি একদিকে যেমন অনুপ্রেরণামূলক, অন্যদিকে তার ফ্যাশন ও ব্যক্তিত্বের মিশেল তাকে ফ্যাশন আইকন হিসেবেও নতুন করে প্রতিষ্ঠিত করেছে।
মেলবোর্নের সেই বিশেষ দিনে রানি যেন একইসাথে একজন অভিনেত্রী, একজন সমাজকর্মী
এবং একজন স্টাইল আইকন হিসেবে বিশ্বমঞ্চকে আলোকিত করলেন।
-প্রেসপয়েন্টবিডি/আন্তর্জাতিক













