রাষ্ট্রপতির নতুন উদ্যোগ থাকছে কৃষকরা

প্রেসপয়েন্ট বিডি

প্রকাশ :সেপ্টেম্বর ২৭, ২০২৬

রাষ্ট্রপতির নতুন উদ্যোগ থাকছে কৃষকরা

নাবিলা কবির: কৃষকদের কৃষি খাতে উদ্ভাবন ও অসামান্য অবদানের স্বীকৃতি দিতে ‘রাষ্ট্রপতি কৃষি পুরস্কার’ চালুর উদ্যোগ নেওয়ার কথা জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। কৃষকদের সম্মানিত ও উৎসাহিত করার পাশাপাশি তাদের সামগ্রিক স্বার্থ রক্ষায় জাতীয় পর্যায়ে আরও সংগঠিত উদ্যোগ প্রয়োজন বলেও তিনি গুরুত্বারোপ করেছেন।

আজ রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) বঙ্গভবনে বাংলাদেশ কৃষক সমিতির সভাপতি মো. সিদ্দিকুর রহমান কুল ময়েজের নেতৃত্বে আট সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করে। এ সময় কৃষকদের বিভিন্ন দাবি ও সমস্যার কথা রাষ্ট্রপতির কাছে তুলে ধরেন প্রতিনিধিরা। রাষ্ট্রপতির প্রেস উইংয়ের তথ্য অনুযায়ী, আলোচনায় কৃষকদের উন্নয়ন, কৃষিপণ্যের ন্যায্যমূল্য এবং কৃষি খাতের আধুনিকায়নসহ বিভিন্ন বিষয় উঠে আসে।

রাষ্ট্রপতি বলেন, দেশের কৃষকরা কৃষি উৎপাদন ও অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। কৃষকদের সম্মান জানাতে এবং তাদের আরও উৎসাহিত করতে কৃষি ক্ষেত্রে নতুন উদ্ভাবন ও অসামান্য অবদানের জন্য রাষ্ট্রপতি কৃষি পুরস্কার চালুর উদ্যোগ নেওয়া হবে। এর মাধ্যমে কৃষকদের কাজের স্বীকৃতি দেওয়ার পাশাপাশি নতুন প্রজন্মকে কৃষির সঙ্গে যুক্ত হওয়ার বিষয়ে উৎসাহিত করা সম্ভব হবে বলে মনে করা হচ্ছে।

কৃষকদের সামগ্রিক স্বার্থ সংরক্ষণে দল-মত-পথের ঊর্ধ্বে উঠে জাতীয় পর্যায়ে একটি কেন্দ্রীয় সংগঠন গড়ে তোলার ওপরও গুরুত্ব দিয়েছেন রাষ্ট্রপতি। কৃষকদের নিজেদের অধিকার ও স্বার্থ নিয়ে আরও সংগঠিত হওয়ার পাশাপাশি কৃষি ও বাণিজ্য মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট সরকারি দপ্তরের সঙ্গে কার্যকর যোগাযোগ বাড়ানোর পরামর্শ দেন তিনি। একই সঙ্গে কৃষকদের বিভিন্ন দাবিকে একটি বৃহত্তর আন্দোলনে রূপ দেওয়ার কথাও বলেন রাষ্ট্রপতি।

আলোচনায় কৃষিপণ্যের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করার বিষয়টি বিশেষ গুরুত্ব পায়। কৃষকরা অনেক সময় উৎপাদন খরচের তুলনায় পর্যাপ্ত দাম না পাওয়ায় আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হন। এ কারণে কৃষিপণ্যের কার্যকর বিপণনব্যবস্থা গড়ে তোলা এবং উৎপাদিত পণ্য যাতে সহজে ভোক্তার কাছে পৌঁছাতে পারে, সে বিষয়ে উদ্যোগ নেওয়ার প্রয়োজনীয়তার কথা উঠে আসে।

কৃষকদের পক্ষ থেকে বিনা বা কম সুদে ঋণ সুবিধা, কৃষক দিবস পালন, জাতীয় পর্যায়ে কৃষকদের পুরস্কৃত করা, শস্যবীমা চালু, কৃষকদের আইনশৃঙ্খলা-সংক্রান্ত স্থানীয় কমিটিতে প্রতিনিধিত্ব এবং কৃষি উপকরণের সহজলভ্যতাসহ বিভিন্ন দাবি রাষ্ট্রপতির কাছে তুলে ধরা হয়। কৃষকদের ঋণের সুদের হার কমানোর বিষয়েও উদ্যোগ নেওয়ার আশ্বাস দেন রাষ্ট্রপতি। বিশেষ করে এনজিও থেকে নেওয়া ঋণের সুদের হার কমানোর বিষয়টি আলোচনায় আসে।

রাষ্ট্রপতি কৃষি খাতকে দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ও সম্ভাবনাময় খাত হিসেবে উল্লেখ করেন। তার মতে, কৃষকের শ্রম ও পরিশ্রমের পাশাপাশি উচ্চফলনশীল জাত, আধুনিক প্রযুক্তি এবং নতুন কৃষি উদ্ভাবনের ব্যবহারে দেশের কৃষি উৎপাদন উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। তাই কৃষির উন্নয়নকে আরও টেকসই করতে প্রযুক্তিনির্ভর উৎপাদনব্যবস্থা জোরদারের প্রয়োজন রয়েছে।

কৃষিপণ্য রপ্তানির সম্ভাবনার কথাও তুলে ধরেন রাষ্ট্রপতি। দেশের ফলমূল ও বিভিন্ন কৃষিজাত পণ্যের আন্তর্জাতিক বাজারে চাহিদা রয়েছে উল্লেখ করে আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে রপ্তানি বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেন তিনি। একই সঙ্গে কৃষিপণ্য সংরক্ষণের জন্য আধুনিক হিমাগার, কৃষিপণ্যভিত্তিক প্রক্রিয়াজাত শিল্প এবং খামারে সৌরবিদ্যুতের ব্যবহার বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তার কথা বলেন।

কৃষি খাতের এই উদ্যোগগুলো বাস্তবায়িত হলে কৃষকদের উৎপাদন, সংরক্ষণ ও বাজারজাতকরণের সুযোগ বাড়তে পারে। তবে পুরস্কার বা নীতিগত ঘোষণা বাস্তব সুবিধায় রূপ দিতে হলে কৃষিপণ্যের ন্যায্যমূল্য, সহজ ঋণ, বাজারব্যবস্থা, সংরক্ষণ অবকাঠামো ও কৃষি প্রযুক্তির সুবিধা মাঠপর্যায়ে পৌঁছানো গুরুত্বপূর্ণ হবে।

রাষ্ট্রপতির নতুন উদ্যোগের মধ্যে ‘রাষ্ট্রপতি কৃষি পুরস্কার’ চালুর বিষয়টি কৃষকদের স্বীকৃতির ক্ষেত্রে নতুন একটি কাঠামো তৈরির ইঙ্গিত দিচ্ছে। পাশাপাশি কৃষকদের অর্থনৈতিক স্বার্থ রক্ষা ও কৃষিকে আরও আধুনিক ও রপ্তানিমুখী করার যে বিষয়গুলো আলোচনায় এসেছে, সেগুলোর বাস্তবায়নই এখন সংশ্লিষ্টদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।

আরো পড়ুন.....

রামুতে টাকার বিনিময়ে রোহিঙ্গাদের ভোটার বানানোর অভিযোগ, তালিকায় ১২ জনের নাম