রামুতে টাকার বিনিময়ে রোহিঙ্গাদের ভোটার বানানোর অভিযোগ, তালিকায় ১২ জনের নাম

প্রেসপয়েন্ট বিডি

প্রকাশ :সেপ্টেম্বর ২৭, ২০২৬

রামুতে টাকার বিনিময়ে রোহিঙ্গাদের ভোটার বানানোর অভিযোগ, তালিকায় ১২ জনের নাম

মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ মামুন সোহান,চট্টগ্রাম প্রতিনিধি: কক্সবাজারের রামুতে মিয়ানমার থেকে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের মোটা অঙ্কের টাকার বিনিময়ে বাংলাদেশি সাজিয়ে ভোটার তালিকাভুক্ত করার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, একজন রোহিঙ্গাকে ভোটার করতে ১ লাখ থেকে দেড় লাখ টাকা পর্যন্ত লেনদেন হচ্ছে। mofa.gov.bd

অনুসন্ধানে পাওয়া কাগজপত্রে দেখা যায়, রামু উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের ভুয়া ঠিকানা ব্যবহার করে অন্তত ১২ জনকে নতুন ভোটার করা হয়েছে। তাদের মধ্যে ৬৬ বছর বয়সী বৃদ্ধ থেকে শুরু করে ৪৪, ৪৩ ও ৪১ বছর বয়সী ব্যক্তিরাও রয়েছেন। অথচ সংশ্লিষ্ট এলাকার চেয়ারম্যান-মেম্বাররা বলছেন, এসব নামের কাউকেই তারা চেনেন না।

নথি অনুযায়ী, খুনিয়াপালং, দক্ষিণ মিঠাছড়ি, ঈদগড় ও গর্জনিয়া ইউনিয়নের বিভিন্ন ওয়ার্ডের ঠিকানা ব্যবহার করা হয়েছে। খুনিয়াপালংয়ের পেঁচারদ্বীপের ঠিকানায় নুর হোসাইন (৬৬), দক্ষিণ মিঠাছড়ির বলিপাড়ায় ফাতেমা বেগম (৪৪), একই ইউনিয়নের মোক্তার বাপেরপাড়ায় ইসমত আরা সুলতানা (২৬), পূর্ব পানেরছড়ায় ফয়সাল (২৬) ও সিরাজুল মোস্তাফা (২২), ঈদগড়ের করলিয়ামোরায় মুনতাহা (২৫), ছগিরাকাটায় খালেদা আক্তার (২৮) ও রফিক (২৩), চরপাড়ায় রবিদা (৪১), নয়া পাড়ায় রেহেনা হেলাল (৪৩), করলিয়ামোরায় রবিদা (৪১) এবং গর্জনিয়ার ফকিরপাড়ায় জাবের (৩২) কে ভোটার দেখানো হয়েছে।

এ বিষয়ে ঈদগড় ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান জসিম উদ্দিন সিকদার ও স্থানীয় ইউপি সদস্য রাজা মিয়া, শফিকুল ইসলাম সোহেল, শাকের আহমদ জানান, তালিকায় থাকা এসব ব্যক্তি তাদের এলাকার বাসিন্দা নন। তাদের ধারণা, জাল কাগজপত্র তৈরি করে স্থানীয় পরিচয়ে রোহিঙ্গাদের ভোটার করা হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রের অভিযোগ, রামুতে প্রতি বছরই কয়েকশ রোহিঙ্গাকে অবৈধভাবে ভোটার করার চক্র সক্রিয়। আবেদনকারী সংগ্রহ থেকে শুরু করে কাগজপত্র তৈরি ও নিবন্ধন পর্যন্ত প্রতিটি ধাপে উপজেলা নির্বাচন অফিসের কিছু অসাধু কর্মচারী জড়িত। এ চক্রের সমন্বয়কারী হিসেবে অফিস সহায়ক নুর মোহাম্মদের নাম উঠে এসেছে। যদিও তিনি অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।

এলাকাবাসীর দাবি, সন্দেহভাজন এসব ভোটারের জন্মনিবন্ধন, নাগরিক সনদ, পিতা-মাতার পরিচয় ও জনপ্রতিনিধিদের প্রত্যয়নপত্র নতুন করে যাচাই করা হোক।

রামু উপজেলা দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির সাধারণ সম্পাদক খালেদ শহীদ বলেন, এটি জাতীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকি। টাকার বিনিময়ে কেউ এই সুযোগ করে দিলে তদন্ত করে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে।

এ বিষয়ে রামু উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মিজানুর রহমানের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

তবে রামু উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জিল্লুর রহমান জানিয়েছেন, বিষয়টি তিনি জেনেছেন এবং ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে। তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আরো পড়ুন....

সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিওতে হামলা