কর্ণাটকের ভোটার তালিকা থেকে নাম মুছে দেয়ার অভিযোগ

প্রেসপয়েন্ট বিডি

প্রকাশ :আগস্ট ১২, ২০২৬

কর্ণাটকের ভোটার তালিকা থেকে নাম মুছে দেয়ার

রানা সরকার: কর্ণাটকের ভোটার তালিকা থেকে নাম মুছে দেয়ার।

কর্ণাটকের ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ পড়া নিয়ে বিতর্কে অভিনেতা প্রকাশ রাজ।

ভারতের প্রখ্যাত অভিনেতা প্রকাশ রাজ কর্ণাটকের ভোটার তালিকা থেকে তাঁর নাম বাদ পড়ার অভিযোগ তুলে এক নতুন রাজনৈতিক

ও প্রশাসনিক বিতর্কের জন্ম দিয়েছেন।

তিনি দাবি করেন, নির্বাচন কমিশনের ‘বিশেষ নিবিড় সংশোধন’ (Special Intensive Revision বা SIR) প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে

বেঙ্গালুরুর ভোটার তালিকা থেকে তাঁর নাম মুছে ফেলা হয়েছে।

ঘটনাকে কেন্দ্র করে ভারতের রাজনৈতিক অঙ্গনে ভোটাধিকার এবং নির্বাচন ব্যবস্থার স্বচ্ছতা নিয়ে তুমুল আলোচনা শুরু হয়েছে।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রকাশিত একটি ভিডিও বার্তায় প্রকাশ রাজ অত্যন্ত ব্যঙ্গাত্মক সুরে এই বিষয়টি জনসমক্ষে আনেন।

তিনি জানান, তিনি একমাত্র নন বরং এসআইআর (SIR) প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পর বেঙ্গালুরু এলাকার

প্রায় ৬৫ লক্ষ ভোটারের নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে।

নিজের ক্ষোভ ও হতাশা প্রকাশ করে এই অভিনেতা বলেন যে বেঙ্গালুরু শহরেই তাঁর জন্ম, তিনি এখানেই পড়াশোনা করেছেন,

নাটক করেছেন এবং অতীতে এই নির্বাচনী এলাকা থেকেই সংসদ সদস্য (MP) পদপ্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন।

যে শহরে তাঁর নাড়ীর টান এবং দীর্ঘদিনের স্মৃতি জড়িয়ে রয়েছে, সেখানকার ভোটার তালিকা থেকে কীভাবে তাঁর নাম বাদ পড়ে,

তা নিয়ে তিনি তীব্র প্রশ্ন তোলেন।

ভিডিওটিতে প্রকাশ রাজ আরও ব্যঙ্গ করে বলেন যে, ভোটার আইডি কার্ড ফিরে পেতে তাঁকে এখন কোন কোন কাগজ

ও নথিপত্র দেখাতে হয়, সেটাই তিনি দেখতে চান।

একই সঙ্গে তিনি কেন্দ্রীয় শাসকগোষ্ঠীকে কটাক্ষ করে অভিযোগ করেন যে, সরকার সম্ভবত সেই সমস্ত নাগরিকদের ভোটাধিকার কেড়ে নিতে চাইছে

যারা তাদের রাজনৈতিক মতাদর্শের অনুসারী নয় বা তাদের ভোট দেয় না।

তবে এর মধ্য দিয়ে সাধারণ মানুষের রাজনৈতিক সচেতনতা বা সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করার অধিকার যে কেড়ে নেওয়া যাবে না, সেই হুশিয়ারিও তিনি উচ্চারণ করেন।

নির্বাচন কমিশন কি বলছে?

অন্যদিকে, প্রকাশ রাজের এই অভিযোগের পর তাৎক্ষণিকভাবে জবাব দিয়েছে নির্বাচন কমিশন ও স্থানীয় প্রশাসন।

বেঙ্গালুরু সেন্ট্রাল সিটি কর্পোরেশনের পক্ষ থেকে জানানো হয় যে, বুথ লেভেল অফিসারদের (BLO) বাড়ি

বাড়ি গিয়ে করা যাচাইাই প্রক্রিয়া অনুযায়ী জানা গেছে অভিনেতা দীর্ঘ চার বছর ধরে তাঁর নিবন্ধিত পুরোনো ঠিকানায় বসবাস করছেন না।

আশপাশের প্রতিবেশী, অ্যাপার্টমেন্টের ম্যানেজার

এবং খোদ ফ্ল্যাটের মালিকের সাথে কথা বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে যে ওই ঠিকানায় এখন অন্য ভাড়াটেরা থাকেন।

আইনি প্রক্রিয়া ও নির্বাচন কমিশনের নির্দেশিকা মেনেই তাঁর নাম ‘স্থানান্তরিত’ (Shifted) হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।

এছাড়া প্রশাসনের পক্ষ থেকে আরও জানানো হয় যে অভিনেতা বর্তমানে অন্য একটি বিধানসভা এলাকায় বসবাস করছেন

এবং তিনি চাইলে নতুন ঠিকানায় ফরম-৬ পূরণের মাধ্যমে ভোটার তালিকায় নাম অন্তর্ভুক্ত করতে পারেন।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, প্রকাশ রাজের মতো একজন জাতীয় পুরস্কারপ্রাপ্ত

ও প্রভাবশালী ব্যক্তিত্বের ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ যাওয়ার বিষয়টি সাধারণ প্রশাসনিক ত্রুটি নয়,

বরং এটি ভারতের নির্বাচনি ব্যবস্থার কড়াকড়ি এবং স্বচ্ছতা নিয়ে এক বিরাট প্রশ্নচিহ্ন এঁকে দেয়।

একদিকে নির্বাচন কমিশন যখন আইনানুগভাবে ভোটার তালিকা হালনাগাদ করার দাবি করছে,

অন্যদিকে বিরোধী মতাবলম্বী বিশিষ্ট ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে এ ধরনের ঘটনা রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত কি না তা নিয়ে সংশয় থেকেই যাচ্ছে।

সব মিলিয়ে, এই ঘটনা ভারতের আগামী দিনের রাজনৈতিক ও গণতান্ত্রিক অধিকার সুরক্ষার বিতর্কে এক নতুন মাত্রা যোগ করেছে।

-প্রেসপয়েন্টবিডি/আন্তর্জাতিক

আরো পড়ুন….. এমবাপে-ইয়ামালকে পেছনে ফেলে হ্যারি কেইন

প্রাণনাশের হুমকির জেরে পুলিশের কাছে সৌরভ গাঙ্গুলী