নাবিলা কবির: ডেঙ্গুর বিস্তার ঠেকাতে ব্যক্তি পর্যায় থেকে সচেতনতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, শুধু সরকারি উদ্যোগের ওপর নির্ভর না করে প্রত্যেক নাগরিককে নিজের ঘরবাড়ি ও আশপাশের পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে।
মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) জাতীয় সংসদ ভবনে নেত্রকোনার কলমাকান্দা বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে সাক্ষাৎকালে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন। শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি ডেঙ্গু প্রতিরোধে পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখার গুরুত্ব তুলে ধরেন।
প্রধানমন্ত্রী শিক্ষার্থীদের নিজেদের বাড়ি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও আশপাশে কোথাও পানি জমে আছে কি না, সেদিকে নজর রাখার পরামর্শ দেন। এডিস মশার বংশবিস্তারের সম্ভাব্য স্থান তৈরি না হলে ডেঙ্গুর ঝুঁকি অনেকটাই কমানো সম্ভব বলে তিনি উল্লেখ করেন।
পরিচ্ছন্নতার অভ্যাস পরিবার থেকে শুরু করার আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী শিক্ষার্থীদের নিজেদের পাশাপাশি পরিবারের সদস্য, বন্ধু ও প্রতিবেশীদেরও সচেতন করতে বলেন। তার মতে, ছোট ছোট উদ্যোগের মাধ্যমে একটি পরিচ্ছন্ন পরিবেশ গড়ে তোলা সম্ভব এবং এ ধরনের সম্মিলিত প্রচেষ্টা ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে।
এদিকে ডেঙ্গুর ঝুঁকি মোকাবিলায় আগামী ১২ সেপ্টেম্বর থেকে দেশব্যাপী তিন মাসের বিশেষ পরিচ্ছন্নতা ও জনসচেতনতামূলক কর্মসূচি শুরু করার সিদ্ধান্ত হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী এই কর্মসূচির উদ্বোধন করবেন। ডেঙ্গুর জন্য আগামী তিন মাসকে ঝুঁকিপূর্ণ সময় বিবেচনা করে এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
এই কর্মসূচিতে সরকারি সংস্থার পাশাপাশি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন, স্কাউট, বিএনসিসি, গার্ল গাইডস, রেড ক্রিসেন্ট এবং স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীদের সম্পৃক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে। মহানগর এলাকায় সিটি করপোরেশন এবং জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে সংশ্লিষ্ট প্রশাসন কার্যক্রম সমন্বয় করবে।
কর্মসূচির অংশ হিসেবে প্রতি শনিবার বিভিন্ন এলাকায় পরিচ্ছন্নতা অভিযান চালানো হবে। স্বেচ্ছাসেবক ও শিক্ষার্থীরা বাসাবাড়ি ও বিভিন্ন স্থাপনা পরিদর্শনের মাধ্যমে এডিস মশার সম্ভাব্য প্রজননস্থল চিহ্নিত করার পাশাপাশি মানুষকে সচেতন করবেন।
প্রধানমন্ত্রী ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে শুধু মশকনিধন কার্যক্রমের ওপর নির্ভর না করে মশার প্রজননস্থল ধ্বংস এবং জনসম্পৃক্ততা বাড়ানোর ওপর জোর দিয়েছেন। পাশাপাশি গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ডেঙ্গু প্রতিরোধের বিষয়ে ব্যাপক প্রচারের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি নাগরিকদের সচেতন অংশগ্রহণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বাড়ির ছাদ, বারান্দা, ফুলের টব, পরিত্যক্ত পাত্র কিংবা অন্য কোনো স্থানে জমে থাকা পানি এডিস মশার প্রজননের সুযোগ তৈরি করতে পারে। তাই নিয়মিত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার মাধ্যমে এসব সম্ভাব্য প্রজননস্থল ধ্বংস করা প্রয়োজন।
ডেঙ্গুর প্রকোপ মোকাবিলায় সরকারের নতুন কর্মসূচির পাশাপাশি সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন সচেতনতা কতটা কার্যকরভাবে নিশ্চিত করা যায়, সেটিই এখন বড় বিষয়। প্রধানমন্ত্রীও শিক্ষার্থীদের মাধ্যমে পরিবার ও সমাজে এই সচেতনতা ছড়িয়ে দেওয়ার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন।













