ঘুমন্ত বাবাকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগ

প্রেসপয়েন্ট বিডি

প্রকাশ :অক্টোবর ১২, ২০২৬

ঘুমন্ত বাবাকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগ

তারেক মাসুদ: মেহেরপুরের সদর উপজেলায় জমিজমা নিয়ে বিরোধের জেরে ঘুমন্ত বাবাকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে ছেলের বিরুদ্ধে। সোমবার (১২ অক্টোবর) দুপুরে উপজেলার ঝাউবাড়িয়া গ্রামের নওদাপাড়ায় নিজ বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে। ঘটনার পর অভিযুক্ত ছেলে সাহাবুল শেখকে আটক করেছে পুলিশ।

নিহত ব্যক্তির নাম হাবেল শেখ (৭০)। তিনি ঝাউবাড়িয়া গ্রামের বাসিন্দা। অভিযুক্ত সাহাবুলের বয়স ৪০ বছর বলে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রের বরাতে জানা গেছে, সোমবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে হাবেল শেখ নিজ বাড়ির শয়নকক্ষে ঘুমিয়ে ছিলেন। এ সময় তাঁর ছেলে সাহাবুল ধারালো অস্ত্র দিয়ে তাঁকে আঘাত করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। গুরুতর আহত হাবেলকে উদ্ধার করে মেহেরপুর ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।

প্রাথমিকভাবে জমিজমা ও পারিবারিক বিরোধকে এ ঘটনার সম্ভাব্য কারণ হিসেবে দেখছে পুলিশ। সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হাবেলের স্ত্রী প্রায় দুই বছর আগে মারা যান। এরপর তিনি আবার বিয়ে করার সিদ্ধান্ত নিলে ছেলে সাহাবুলের সঙ্গে তাঁর বিরোধ তৈরি হয়। জমি ও সম্পত্তি নিয়েও বাবা-ছেলের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে মনোমালিন্য চলছিল বলে জানা গেছে।

পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, ঘটনার দিন সকালে নিজেদের জমিতে কাজ করতে গিয়ে সাহাবুল জানতে পারেন, তাঁর বাবা জমির একটি অংশ অন্য একজনকে বর্গা দিয়েছেন। এ নিয়ে ওই ব্যক্তির সঙ্গে তাঁর কথা-কাটাকাটি হয় বলে প্রাথমিক তথ্যে উঠে এসেছে। পরে বাড়িতে ফিরে এসে তিনি বাবার ওপর হামলা চালান বলে অভিযোগ।

এদিকে, ঘটনার পর অভিযুক্ত সাহাবুল নিজেই মেহেরপুর সদর থানায় হাজির হন বলে কয়েকটি সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে। পুলিশ তাঁকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করছে। তবে হত্যাকাণ্ডের পেছনে জমি নিয়ে বিরোধ ছাড়াও অন্য কোনো কারণ ছিল কি না, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।

মেহেরপুর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা হুমায়ুন কবীরের বরাত দিয়ে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ঘটনার প্রকৃত কারণ ও বিস্তারিত তথ্য জানতে অভিযুক্তকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। তদন্তের ভিত্তিতে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

পারিবারিক ও সম্পত্তিসংক্রান্ত বিরোধ কীভাবে প্রাণঘাতী সহিংসতায় রূপ নিতে পারে, ঘটনাটি আবারও সেই উদ্বেগ সামনে এনেছে। তবে ঘটনার সব দিক তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন। অভিযুক্তের বিরুদ্ধে অভিযোগের চূড়ান্ত সত্যতা নির্ধারণ করবে তদন্ত ও বিচারিক প্রক্রিয়া।


আরো পড়ুন....

ধানখেত থেকে স্কুলছাত্রীর মরদেহ উদ্ধারে হোটেল কর্মচারী গ্রেফতার