বিশ্বকাপের সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতা এমবাপে

প্রেসপয়েন্ট বিডি

প্রকাশ :জুলাই ১৯, ২০২৬

বিশ্বকাপের সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতা এমবাপে

খেলাধুলা ডেস্ক: বিশ্বকাপের সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতা এমবাপে।

ফ্রান্সের অধিনায়ক কিলিয়ান এমবাপে লিওনেল মেসিকে ছাড়িয়ে ফিফা বিশ্বকাপের ইতিহাসে সর্বোচ্চ গোলদাতা হয়েছেন।

রবিবার (১৯ জুলাই) বাংলাদেশ সময় ভোর ৩টায় তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচে ফ্রান্সকে ৬-৪ গোলে পরাজিত করে ইংল্যান্ড।

হাফ টাইমের পর দুটি গোল করে এমবাপে বিশ্বকাপে তার ক্যারিয়ারের মোট গোলসংখ্যা ২২-এ উন্নীত করেন, যা মেসির ২১ গোলকে ছাড়িয়ে যায়। 2026 FIFA World Cup

২০২৬ বিশ্বকাপে মোট ১০ গোল করে টুর্নামেন্টের সর্বোচ্চ গোলদাতাকে দেওয়া গোল্ডেন বুটের দৌড়ে

তিনি মেসির চেয়ে দুই গোল এগিয়ে রয়েছেন।

ফ্রান্সের অধিনায়ক কিলিয়ান এমবাপে বলেন,এই ব্যক্তিগত অর্জন তেমন কোনো গুরুত্ব বহন করে না ,ফাইনালে উঠতে না পারার কষ্ট ভোলার মতো নয়।

ফক্স স্পোর্টসকে দেয়া এক সাক্ষাতকারে তিনি বলেন, "আমি বরং ইতিহাসের সর্বোচ্চ গোলদাতা না হয়ে

আগামীকালের ম্যাচে খেলতে পারলে বেশি খুশি হতাম।"

নিজেদের তৃতীয় বিশ্বকাপ ফাইনালে পৌঁছানোর আশা করেছিল ফ্রান্স , কিন্তু সেমিফাইনালে স্পেনের কাছে হেরে বাদ পড়ে যায়।

ফাইনালের পর টুর্নামেন্টের সর্বোচ্চ গোলদাতা হিসেবে থাকতে পারলে এমবাপে প্রথম খেলোয়াড় হিসেবে এই পুরস্কারটি দুইবার জেতার সুযোগ পাবেন তিনি। Yahoo Sports

এমবাপে

এর আগে কাতারে অনুষ্ঠিত ২০২২ বিশ্বকাপে আট গোল করে গোল্ডেন বুটও জিতেছিলেন তিনি।

বিশ্বকাপে গোলের রেকর্ড:

১৯৫৮ সালে ১৩ গোল করে ফ্রান্সের জাস্ট ফনতেইন এখনও রেকর্ডটি ধরে রেখেছেন।

এরপর ১৯৫৪ সালে ১১ গোল করে হাঙ্গেরির সান্ডর কোসিস এবং ১৯৭০ সালে জার্মানির গার্ড মুলারও ১০ গোল করেছিলেন।

ম্যাচের শুরুতে ৪-০ গোলে পিছিয়ে থাকার পর ফ্রান্স দুর্দান্তভাবে খেলায় ফিরে আসে।

৪৮ মিনিটে এমবাপে ‘লে ব্লুস’-এর হয়ে প্রথম গোলটি করেন এবং ৬৬ মিনিটে আবারও গোল করে বিশ্বকাপে ক্যারিয়ারের সর্বোচ্চ গোলের রেকর্ড গড়েন।

ব্র্যাডলি বারকোলা এবং উসমান দেম্বেলেও গোল করেন।

অন্যদিকে মাইকেল ওলিসে দুটি অ্যাসিস্ট করে টুর্নামেন্টে তার মোট অ্যাসিস্টের সংখ্যা সাতে নিয়ে যান

এবং বিশ্বকাপে অ্যাসিস্টের নতুন রেকর্ড গড়েন।

পারফরম্যান্স নিয়ে বলতে গিয়ে এমবাপে স্বীকার করেন যে খেলার শুরুকে ফ্রান্স প্রত্যাশার চেয়ে অনেক পিছিয়ে ছিল।

"হাফ টাইমের পর চিত্র ছিল সম্পূর্ণ ভিন্ন। প্রথমার্ধে আমরা হতবাক হয়ে গিয়েছিলাম এবং তার মূল্য দিতে হয়েছে।

বিরতির পর আমরা ঘুরে দাঁড়িয়েছিলাম, কিন্তু ততক্ষণে অনেক দেরি হয়ে গিয়েছিল," বলে জানান তিনি।

এই ম্যাচটি ফ্রান্সের প্রধান কোচ হিসেবে দিদিয়ের দেশাম্পের ১৪ বছরের মেয়াদেরও সমাপ্তি ঘটায়।

খেলোয়াড়রা হতাশ যে তারা তাদের কোচকে একটি বিজয়ী বিদায় দিতে পারেনি বলেও হতাশা প্রকাশ করেন অধিনায়ক এমবাপে।

তিনি আরো বলেন, "এটা কোচের জন্য দুর্ভাগ্যজনক, কারণ আমরা তার জন্য জিততে চেয়েছিলাম।

প্রথমার্ধের খেলা দেখে হয়তো মনে হতে পারে যে আমরা তাকে হতাশ করেছি, কিন্তু আমরা চাইনি তার শেষ ম্যাচটি এভাবে স্মরণীয় হয়ে থাকুক,"।

দেশাম্প, যিনি ফ্রান্সকে ২০১৮ বিশ্বকাপের শিরোপা এবং ২০২২ সালের ফাইনালে পৌঁছে দিয়েছিলেন, তিনি তার দায়িত্বে থাকা সময়কে তার ক্যারিয়ারের সবচেয়ে ফলপ্রসূ অধ্যায় হিসেবে বর্ণনা করেছেন।

"এটি একটি অসাধারণ যাত্রার সমাপ্তি। ২০১২ সালে দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে আমি সবসময় ফরাসি জাতীয় দলকে সবার আগে রেখেছি," তিনি বলেন।

ব্যাপকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, ফরাসি ফুটবল ফেডারেশন আগামী দিনগুলোতে দেশাম্পের উত্তরসূরি হিসেবে ফ্রান্সের সাবেক অধিনায়ক জিনেদিন জিদানকে নিয়োগ দেবে।

-প্রেসপয়েন্টবিডি/খেলাধুলা

আরো পড়ুন....জোড়া গোলে ১৭-১৮তম বিশ্বকাপ গোল রেকর্ড এমবাপের