ইরানের হামলায় জর্ডানে ক্ষতিগ্রস্ত ৯ মার্কিন যুদ্ধবিমান

প্রেসপয়েন্ট বিডি

প্রকাশ :সেপ্টেম্বর ১০, ২০২৬

ইরানের হামলায় জর্ডানে ক্ষতিগ্রস্ত ৯ মার্কিন যুদ্ধবিমান

সেতু মাহমুদ: জর্ডানে ইরানের হামলায় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের একটি সামরিক ঘাঁটিতে অন্তত নয়টি মার্কিন সামরিক বিমান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত বিমানগুলোর মধ্যে একটি এ-১০ থান্ডারবোল্ট এবং প্রায় আটটি এফ-১৫ যুদ্ধবিমান রয়েছে। মার্কিন সামরিক স্থাপনায় হামলার এই ঘটনা মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সংঘাতকে আরও তীব্র করে তুলেছে।

মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিবিএসের প্রতিবেদনের বরাতে রয়টার্স জানিয়েছে, জর্ডানের মুওয়াফাক সালতি বিমানঘাঁটিতে রাতভর চালানো হামলায় এসব বিমান ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ঘাঁটিটি জর্ডানে থাকা মার্কিন সামরিক উপস্থিতির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে।

গুরুতর ক্ষতি এ-১০ বিমানে

হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত বিমানগুলোর মধ্যে একটি এ-১০ থান্ডারবোল্ট সবচেয়ে বেশি ক্ষতির মুখে পড়েছে। বিমানটির একটি ডানা বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে বলে সিবিএসের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

অন্যদিকে প্রায় আটটি এফ-১৫ যুদ্ধবিমানেও ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। তবে এসব ক্ষতি তুলনামূলকভাবে সামান্য ছিল এবং বিমানগুলো পরবর্তীতে আবার ব্যবহারের উপযোগী করে তোলা হয়েছে বলে প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।

এতে বোঝা যায়, হামলাটি মার্কিন বিমানঘাঁটিতে সরাসরি প্রভাব ফেললেও সব ক্ষতিগ্রস্ত বিমান স্থায়ীভাবে অচল হয়ে যায়নি।

২০ ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়ার দাবি

এর আগে ইরান জর্ডানে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিকে লক্ষ্য করে ২০টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়ার দাবি করে। জর্ডানের পক্ষ থেকে জানানো হয়, দেশটির আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এর মধ্যে ১৮টি ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করেছে। বাকি দুটি জনবসতিহীন এলাকায় পড়ে বলে জানানো হয়। হামলায় কোনো মার্কিন সেনা হতাহত হয়নি বলে যুক্তরাষ্ট্র জানিয়েছে।

তবে ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করা সত্ত্বেও কিছু প্রক্ষেপণ ঘাঁটির ভেতরে পৌঁছে মার্কিন সামরিক সরঞ্জামের ক্ষতি করতে সক্ষম হয়েছে বলে সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।

কেন জর্ডানে মার্কিন ঘাঁটি লক্ষ্যবস্তু?

জর্ডান দীর্ঘদিন ধরে যুক্তরাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ আঞ্চলিক অংশীদার। দেশটিতে একাধিক মার্কিন সামরিক স্থাপনা রয়েছে। এর মধ্যে মুওয়াফাক সালতি বিমানঘাঁটি মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক কার্যক্রমের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বলে বিবেচিত হয়।

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে জর্ডানের ঘনিষ্ঠ সামরিক সম্পর্কের কারণে দেশটির বিভিন্ন মার্কিন ঘাঁটি ইরানের হামলার ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। এর আগেও জর্ডানের আকাশসীমা দিয়ে ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন যাওয়ার ঘটনা ঘটেছে।

বাড়ছে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান উত্তেজনা

জর্ডানে এই হামলার ঘটনা যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে পাল্টাপাল্টি হামলার ধারাবাহিকতার অংশ। সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্র ইরানের পাঁচটি তেলবাহী ট্যাঙ্কারে হামলা চালিয়ে সেগুলো ধ্বংস করার ঘোষণা দেয়। ওয়াশিংটনের দাবি, ইরানের বিপ্লবী গার্ডের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট তেল নেটওয়ার্কের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা হিসেবেই এসব হামলা চালানো হয়েছে।

এর পর ইরান জর্ডানে মার্কিন সামরিক স্থাপনা লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায়। একই সময়ে উপসাগরীয় অঞ্চলের জাহাজ চলাচল নিয়েও উত্তেজনা বেড়েছে। ইরান একাধিক জাহাজে হামলার দাবি করেছে, অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রও ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপ অব্যাহত রেখেছে।

আঞ্চলিক নিরাপত্তায় নতুন উদ্বেগ

জর্ডানে মার্কিন বিমান ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ঘটনা মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাত আরও বিস্তৃত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি করেছে। বিশেষ করে জর্ডানের মতো তুলনামূলকভাবে স্থিতিশীল একটি দেশ সরাসরি যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সংঘাতের প্রভাবের মুখে পড়ায় আঞ্চলিক নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে।

অন্যদিকে বিমানঘাঁটিতে ক্ষয়ক্ষতি হলেও মার্কিন সামরিক সক্ষমতা বড় ধরনের ধাক্কা খেয়েছে কি না, তা এখনই নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে না। কারণ ক্ষতিগ্রস্ত বেশিরভাগ এফ-১৫ বিমান সামান্য ক্ষতির পর আবার ব্যবহারে ফিরেছে বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।

তবে একটি এ-১০ যুদ্ধবিমানের গুরুতর ক্ষতি এবং একাধিক এফ-১৫ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ঘটনা দেখিয়ে দিচ্ছে, জর্ডানে থাকা মার্কিন সামরিক স্থাপনাগুলোও ইরানের পাল্টা হামলার বাইরে নয়। ফলে আগামী দিনগুলোতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সংঘাত আরও কোন দিকে গড়ায়, সেদিকেই এখন নজর আন্তর্জাতিক মহলের।

আরো পড়ুন...

বাঁধনের ওপর হামলা: ইতালীয় পুলিশের তদন্তে কী জানা যাচ্ছে?