বাঁধনের ওপর হামলা: ইতালীয় পুলিশের তদন্তে কী জানা যাচ্ছে?

shohrab russel

প্রকাশ :সেপ্টেম্বর ১০, ২০২৬

বাঁধনের ওপর হামলা: ইতালীয় পুলিশের তদন্তে কী জানা যাচ্ছে?

জয়শ্রী রানী, নিজস্ব প্রতিবেদক:
ইতালির ভেনিসে অভিনেত্রী আজমেরী হক বাঁধনের ওপর হামলা ও হেনস্তার ঘটনায় তদন্ত শুরু করেছে দেশটির বিশেষ পুলিশ শাখা ডিগোস। তবে এখন পর্যন্ত নির্ভরযোগ্য কোনো প্রতিবেদনে এই তদন্তের সঙ্গে ২০১৬ সালের হলি আর্টিজান হামলার জঙ্গিদের কোনো যোগসূত্রের কথা নিশ্চিত করা হয়নি।

মেস্ত্রে এলাকায় হামলার শিকার হওয়ার পর বাঁধন স্থানীয় থানায় আনুষ্ঠানিক অভিযোগ করেছেন। তাঁর অভিযোগে মোট আট বাংলাদেশির নাম বা পরিচয় উল্লেখ করা হয়েছে বলে জানা গেছে। তিনি অভিযোগ করেছেন, হামলাকারীদের কয়েকজন নিজেদের আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের সঙ্গে সম্পৃক্ত বলে পরিচয় দিয়েছিলেন। বিষয়টি এখন ইতালীয় পুলিশের তদন্তের আওতায় রয়েছে।

ভিডিও ও সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখছে পুলিশ

ইতালির সংবাদমাধ্যমের বরাতে জানা গেছে, তদন্তকারীরা ঘটনাস্থল এবং আশপাশের নিরাপত্তা ক্যামেরার ফুটেজ পরীক্ষা করছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওও তদন্তের অংশ হিসেবে বিশ্লেষণ করা হচ্ছে। এসব ফুটেজের মাধ্যমে হামলায় জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত এবং ঘটনার ধারাবাহিকতা বোঝার চেষ্টা চলছে।

বাঁধনের প্রকাশ করা ভিডিও ও তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, তাঁকে লক্ষ্য করে পানি, কোমল পানীয় ও ডিম ছোড়া হয় এবং একপর্যায়ে শারীরিকভাবে হেনস্তা করা হয়। তাঁর মোবাইল ফোনও ফেলে দেওয়া হয় বলে তিনি অভিযোগ করেছেন। ঘটনার সময় তাঁর ভাই, ভাবি ও পরিবারের শিশুসন্তানও সেখানে ছিলেন।

রাজনৈতিক বিরোধের অভিযোগ

বাঁধনের দাবি, ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের আন্দোলনে তাঁর অবস্থানের কারণেই তাঁকে লক্ষ্য করে হামলা করা হয়েছে। হামলাকারীদের কয়েকজন নিজেদের আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের কর্মী হিসেবে পরিচয় দিয়েছেন বলেও তিনি অভিযোগ করেন।

তবে এসব অভিযোগের সত্যতা নির্ধারণের দায়িত্ব এখন তদন্তকারী কর্তৃপক্ষের। পুলিশের তদন্ত শেষ হওয়ার আগে হামলায় জড়িত ব্যক্তিদের রাজনৈতিক পরিচয় বা উদ্দেশ্য সম্পর্কে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যাচ্ছে না।

হলি আর্টিজানের সঙ্গে যোগসূত্রের দাবি কতটা সত্য?

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ইতোমধ্যে নানা ধরনের দাবি ও আলোচনা দেখা যাচ্ছে। এর মধ্যে হলি আর্টিজান হামলায় জড়িত জঙ্গিদের সঙ্গে বর্তমান ঘটনার কোনো সম্পর্ক রয়েছে কি না, এমন প্রশ্নও উঠেছে।

তবে এখন পর্যন্ত ইতালীয় পুলিশের তদন্তসংক্রান্ত প্রকাশিত নির্ভরযোগ্য প্রতিবেদনে এমন কোনো যোগসূত্রের কথা উল্লেখ নেই। ডিগোস বর্তমানে মূলত মেস্ত্রের হামলার ঘটনা, হামলাকারীদের পরিচয় এবং ঘটনার প্রেক্ষাপট নিয়ে কাজ করছে বলে সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছে।

২০১৬ সালের ১ জুলাই ঢাকার গুলশানের হলি আর্টিজান বেকারিতে জঙ্গি হামলায় ২২ জন নিহত হন, যাদের মধ্যে নয়জন ইতালীয় নাগরিক ছিলেন। সেই কারণে ইতালিতে বাংলাদেশের নাগরিকদের সংশ্লিষ্ট কোনো গুরুতর ঘটনায় অতীতের ওই হামলার প্রসঙ্গ সামনে আসা অস্বাভাবিক নয়। তবে কেবল এই কারণে বর্তমান ঘটনার সঙ্গে হলি আর্টিজানের জঙ্গিদের যোগসূত্র আছে—এমন সিদ্ধান্তে যাওয়া ঠিক হবে না।

আইনি প্রক্রিয়ায় এগোচ্ছেন বাঁধন

হামলার পর বাঁধন ইতালীয় পুলিশের কাছে অভিযোগ করেছেন এবং আইনি প্রক্রিয়া শেষ না করে দেশে ফিরবেন না বলে জানিয়েছেন। বাংলাদেশ দূতাবাস ও মিলানে বাংলাদেশ কনস্যুলেটও তাঁকে সহযোগিতা করছে। বাংলাদেশ সরকারও ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে ইতালি কর্তৃপক্ষের কাছে বিষয়টি তুলেছে।

এখন তদন্তের গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে—কারা হামলায় অংশ নিয়েছিল, হামলার সুনির্দিষ্ট কারণ কী ছিল এবং ঘটনার আগে-পরে কী ঘটেছিল। তদন্ত শেষ হলে এসব প্রশ্নের উত্তর আরও পরিষ্কার হতে পারে।

তাই আপাতত বলা যায়, বাঁধনের ওপর হামলার ঘটনায় ইতালীয় পুলিশ তদন্ত করছে; কিন্তু হলি আর্টিজান হামলার জঙ্গিদের সঙ্গে এই ঘটনার কোনো যোগসূত্রের প্রমাণ এখন পর্যন্ত প্রকাশ্যে আসেনি। তদন্ত থেকে নতুন কোনো তথ্য পাওয়া গেলে সেই অনুযায়ী বিষয়টির প্রকৃত চিত্র স্পষ্ট হবে। ইতালীয় পুলিশের তদন্তে কী জানা যাচ্ছে?

জয়শ্রী রানী,নিজস্ব প্রতিবেদক:
ইতালির ভেনিসে অভিনেত্রী আজমেরী হক বাঁধনের ওপর হামলা ও হেনস্তার ঘটনায় তদন্ত শুরু করেছে দেশটির বিশেষ পুলিশ শাখা ডিগোস। তবে এখন পর্যন্ত নির্ভরযোগ্য কোনো প্রতিবেদনে এই তদন্তের সঙ্গে ২০১৬ সালের হলি আর্টিজান হামলার জঙ্গিদের কোনো যোগসূত্রের কথা নিশ্চিত করা হয়নি।

মেস্ত্রে এলাকায় হামলার শিকার হওয়ার পর বাঁধন স্থানীয় থানায় আনুষ্ঠানিক অভিযোগ করেছেন। তাঁর অভিযোগে মোট আট বাংলাদেশির নাম বা পরিচয় উল্লেখ করা হয়েছে বলে জানা গেছে। তিনি অভিযোগ করেছেন, হামলাকারীদের কয়েকজন নিজেদের আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের সঙ্গে সম্পৃক্ত বলে পরিচয় দিয়েছিলেন। বিষয়টি এখন ইতালীয় পুলিশের তদন্তের আওতায় রয়েছে।

ভিডিও ও সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখছে পুলিশ

ইতালির সংবাদমাধ্যমের বরাতে জানা গেছে, তদন্তকারীরা ঘটনাস্থল এবং আশপাশের নিরাপত্তা ক্যামেরার ফুটেজ পরীক্ষা করছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওও তদন্তের অংশ হিসেবে বিশ্লেষণ করা হচ্ছে। এসব ফুটেজের মাধ্যমে হামলায় জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত এবং ঘটনার ধারাবাহিকতা বোঝার চেষ্টা চলছে।

বাঁধনের প্রকাশ করা ভিডিও ও তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, তাঁকে লক্ষ্য করে পানি, কোমল পানীয় ও ডিম ছোড়া হয় এবং একপর্যায়ে শারীরিকভাবে হেনস্তা করা হয়। তাঁর মোবাইল ফোনও ফেলে দেওয়া হয় বলে তিনি অভিযোগ করেছেন। ঘটনার সময় তাঁর ভাই, ভাবি ও পরিবারের শিশুসন্তানও সেখানে ছিলেন।

রাজনৈতিক বিরোধের অভিযোগ

বাঁধনের দাবি, ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের আন্দোলনে তাঁর অবস্থানের কারণেই তাঁকে লক্ষ্য করে হামলা করা হয়েছে। হামলাকারীদের কয়েকজন নিজেদের আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের কর্মী হিসেবে পরিচয় দিয়েছেন বলেও তিনি অভিযোগ করেন।

তবে এসব অভিযোগের সত্যতা নির্ধারণের দায়িত্ব এখন তদন্তকারী কর্তৃপক্ষের। পুলিশের তদন্ত শেষ হওয়ার আগে হামলায় জড়িত ব্যক্তিদের রাজনৈতিক পরিচয় বা উদ্দেশ্য সম্পর্কে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যাচ্ছে না।

হলি আর্টিজানের সঙ্গে যোগসূত্রের দাবি কতটা সত্য?

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ইতোমধ্যে নানা ধরনের দাবি ও আলোচনা দেখা যাচ্ছে। এর মধ্যে হলি আর্টিজান হামলায় জড়িত জঙ্গিদের সঙ্গে বর্তমান ঘটনার কোনো সম্পর্ক রয়েছে কি না, এমন প্রশ্নও উঠেছে।

তবে এখন পর্যন্ত ইতালীয় পুলিশের তদন্তসংক্রান্ত প্রকাশিত নির্ভরযোগ্য প্রতিবেদনে এমন কোনো যোগসূত্রের কথা উল্লেখ নেই। ডিগোস বর্তমানে মূলত মেস্ত্রের হামলার ঘটনা, হামলাকারীদের পরিচয় এবং ঘটনার প্রেক্ষাপট নিয়ে কাজ করছে বলে সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছে।

২০১৬ সালের ১ জুলাই ঢাকার গুলশানের হলি আর্টিজান বেকারিতে জঙ্গি হামলায় ২২ জন নিহত হন, যাদের মধ্যে নয়জন ইতালীয় নাগরিক ছিলেন। সেই কারণে ইতালিতে বাংলাদেশের নাগরিকদের সংশ্লিষ্ট কোনো গুরুতর ঘটনায় অতীতের ওই হামলার প্রসঙ্গ সামনে আসা অস্বাভাবিক নয়। তবে কেবল এই কারণে বর্তমান ঘটনার সঙ্গে হলি আর্টিজানের জঙ্গিদের যোগসূত্র আছে—এমন সিদ্ধান্তে যাওয়া ঠিক হবে না।

আইনি প্রক্রিয়ায় এগোচ্ছেন বাঁধন

হামলার পর বাঁধন ইতালীয় পুলিশের কাছে অভিযোগ করেছেন এবং আইনি প্রক্রিয়া শেষ না করে দেশে ফিরবেন না বলে জানিয়েছেন। বাংলাদেশ দূতাবাস ও মিলানে বাংলাদেশ কনস্যুলেটও তাঁকে সহযোগিতা করছে। বাংলাদেশ সরকারও ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে ইতালি কর্তৃপক্ষের কাছে বিষয়টি তুলেছে।

এখন তদন্তের গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে—কারা হামলায় অংশ নিয়েছিল, হামলার সুনির্দিষ্ট কারণ কী ছিল এবং ঘটনার আগে-পরে কী ঘটেছিল। তদন্ত শেষ হলে এসব প্রশ্নের উত্তর আরও পরিষ্কার হতে পারে।

তাই আপাতত বলা যায়, বাঁধনের ওপর হামলার ঘটনায় ইতালীয় পুলিশ তদন্ত করছে; কিন্তু হলি আর্টিজান হামলার জঙ্গিদের সঙ্গে এই ঘটনার কোনো যোগসূত্রের প্রমাণ এখন পর্যন্ত প্রকাশ্যে আসেনি। তদন্ত থেকে নতুন কোনো তথ্য পাওয়া গেলে সেই অনুযায়ী বিষয়টির প্রকৃত চিত্র স্পষ্ট হবে।

আরো পড়ুন...

প্রযুক্তি ও সাইবার অনুসন্ধানে রাঙ্গামাটিতে ৪২টি মোবাইল ও ৭ হাজার টাকা উদ্ধার