রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর সম্বোধনে ‘মহামান্য’ ও ‘মাননীয়’ ব্যবহার না করার নির্দেশ

shohrab russel

প্রকাশ :সেপ্টেম্বর ৯, ২০২৬

রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর সম্বোধনে ‘মহামান্য’ ও ‘মাননীয়’ ব্যবহার না করার নির্দেশ

অতিন বিশ্বাস:
সরকারি দাপ্তরিক যোগাযোগ, নথিপত্র ও সারসংক্ষেপে রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রীসহ মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও উপমন্ত্রীদের পদবির আগে ‘মহামান্য’ ও ‘মাননীয়’সহ কোনো সম্মানসূচক শব্দ ব্যবহার না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।

বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সাধারণ অধিশাখা থেকে এ বিষয়ে একটি পরিপত্র জারি করা হয়েছে। পরিপত্রে নির্দেশনাটিকে ‘অতীব গুরুত্বপূর্ণ’ উল্লেখ করে তা অনতিবিলম্বে কার্যকর করার কথা বলা হয়েছে।

যেসব ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে নির্দেশনা

পরিপত্র অনুযায়ী, গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি এবং গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও উপমন্ত্রীদের সঙ্গে সরকারি দাপ্তরিক যোগাযোগের ক্ষেত্রে তাঁদের পদবির আগে ‘মহামান্য’, ‘মাননীয়’ কিংবা অন্য কোনো সম্মানসূচক শব্দ লিখিতভাবে ব্যবহার করা যাবে না।

অর্থাৎ সরকারি চিঠিপত্র, নথি, সারসংক্ষেপসহ সংশ্লিষ্ট দাপ্তরিক যোগাযোগে পদবির সঙ্গে অতিরিক্ত সম্মানসূচক শব্দ যুক্ত না করে সরাসরি পদবি ব্যবহারের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

সব মন্ত্রণালয় ও দপ্তরে কার্যকর

মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের পরিপত্রে বলা হয়েছে, সরকারের সব মন্ত্রণালয় ও বিভাগ এবং এর অধীন দপ্তরগুলোর দাপ্তরিক যোগাযোগ, নথিপত্র ও সারসংক্ষেপ পাঠানোর ক্ষেত্রে এ নির্দেশনা অনুসরণ করতে হবে।

নির্দেশনাটি বাস্তবায়নের জন্য সংশ্লিষ্ট সিনিয়র সচিব ও সচিবদের তাঁদের নিয়ন্ত্রণাধীন সব দপ্তর ও সংস্থাকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়ার অনুরোধ জানানো হয়েছে।

যাদের কাছে পাঠানো হয়েছে পরিপত্র

মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের উপসচিব তানিয়া আফরোজ স্বাক্ষরিত পরিপত্রটি প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব, সব সিনিয়র সচিব ও সচিব, বিভাগীয় কমিশনার, প্রধান তথ্য কর্মকর্তা, মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের কর্মকর্তাদের পাশাপাশি জেলা প্রশাসক (ডিসি) ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের (ইউএনও) কাছে পাঠানো হয়েছে।

এর মাধ্যমে কেন্দ্রীয় সরকার থেকে মাঠ প্রশাসন পর্যন্ত সরকারি দপ্তরগুলোতে একই ধরনের দাপ্তরিক রীতি অনুসরণের বিষয়টি নিশ্চিত করতে বলা হয়েছে।

অভিন্ন দাপ্তরিক রীতি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্য

পরিপত্রে বলা হয়েছে, সরকারের দাপ্তরিক যোগাযোগ ও নথিপত্রে রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ পদধারীদের সম্বোধনের ক্ষেত্রে একটি অভিন্ন রীতি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যেই এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

সরকারের বিভিন্ন স্তরের দপ্তরে ব্যবহৃত সরকারি নথিতে পদবি লেখার ক্ষেত্রে যেন একই ধরনের পদ্ধতি অনুসরণ করা হয়, সে বিষয়টিই নতুন নির্দেশনায় গুরুত্ব পেয়েছে।

তবে নির্দেশনাটি মূলত লিখিত সরকারি দাপ্তরিক যোগাযোগ, নথিপত্র ও সারসংক্ষেপের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। অর্থাৎ রাষ্ট্রপতি বা প্রধানমন্ত্রীকে সাধারণ সামাজিক বা ব্যক্তিগত কথোপকথনে কীভাবে সম্বোধন করতে হবে—পরিপত্রে সে বিষয়ে কোনো নির্দেশনা দেওয়া হয়নি।

নতুন এই সিদ্ধান্তের ফলে সরকারি দপ্তরের চিঠিপত্র ও নথিতে রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী এবং মন্ত্রীদের পদবি ব্যবহারের প্রচলিত রীতিতে পরিবর্তন আসছে। নির্দেশনাটি এখন থেকে সংশ্লিষ্ট সব সরকারি দপ্তরে কার্যকর হবে।

আরো পড়ুন...

সুফি তাফসিরের নতুন দিগন্ত নিয়ে সিররুল কুরআনের প্রকাশনা উৎসব