রাজধানীতে তীব্র বিদ্যুৎ বিভ্রাট: চরম ভোগান্তিতে সাধারণ মানুষ

প্রেসপয়েন্ট বিডি

প্রকাশ :সেপ্টেম্বর ১৭, ২০২৬

রাজধানীতে তীব্র বিদ্যুৎ বিভ্রাট: চরম ভোগান্তিতে সাধারণ মানুষ

নাবিলা কবির: রাজধানী ঢাকায় হঠাৎ করেই বেড়েছে লোডশেডিংয়ের তীব্রতা। ভাদ্র-আশ্বিনের ভ্যাপসা গরমের মধ্যে দিন-রাত মিলিয়ে দফায় দফায় বিদ্যুৎ চলে যাওয়ায় অসহনীয় পরিস্থিতিতে পড়েছেন নগরবাসী।

কোনো কোনো এলাকায় দিনে মাত্র কয়েক ঘণ্টা বিদ্যুৎ মিললেও বেশিরভাগ সময় থাকতে হচ্ছে অন্ধকারে। লোডশেডিংয়ের এই ভয়াবহতায় থমকে গেছে দৈনন্দিন জীবনযাত্রা, ব্যাহত হচ্ছে ব্যবসা-বাণিজ্য, স্থবির হয়ে পড়েছে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা এবং পানির সংকটে বাসা-বাড়িতে হাহাকার শুরু হয়েছে। বিশেষ করে বয়োবৃদ্ধ, অসুস্থ ব্যক্তি ও শিশুরা গরমে মারাত্মক শারীরিক ঝুঁকিতে পড়েছেন।
নগরীর বিভিন্ন এলাকা ঘুরে বিদ্যুৎ সংকট ও জনদুর্ভোগের বাস্তব চিত্র।

উত্তরা (সেক্টর ৭ ও ১০):
পরিকল্পিত আবাসিক এলাকা হওয়া সত্ত্বেও উত্তরার বাসিন্দারাও ভোগান্তি থেকে রেহাই পাচ্ছেন না। দিনে অন্তত ৩ বার বিদ্যুৎ চলে যায় এবং প্রতিবারে ১ থেকে দেড় ঘণ্টা পর্যন্ত বিদ্যুৎ থাকে না। কোনো নির্দিষ্ট সময়সূচি ছাড়াই হঠাৎ বিদ্যুৎ চলে যাওয়ায় বাসা থেকে অফিসের কাজ (ওয়ার্ক ফ্রম হোম) করা পেশাজীবীদের ভোগান্তি চরমে।
"দিনে কোনো নির্দিষ্ট সূচি ছাড়াই ৩-৪ ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকে না, ফলে জেনারেটর চালিয়েও কাজ করা কঠিন হয়ে গেছে" বলে জানান উত্তরা ১০-এর প্রকৌশলী জাহিদ হাসান।

তীব্র ভ্যাপসা গরমের মধ্যে এমন অনিয়মিত ও দীর্ঘস্থায়ী বিদ্যুৎ বিভ্রাটে নগরবাসীর দৈনন্দিন জীবন এখন পুরোপুরি বিপর্যস্ত। একদিকে প্রচণ্ড তাপদাহ, অন্যদিকে দীর্ঘ লোডশেডিং উভয় সংকটে রাজধানীজুড়ে জনক্ষোভ বাড়ছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত এই বিদ্যুৎ বিভ্রাট নিরসনে কার্যকর ও বাস্তবমুখী পদক্ষেপ না নিলে জনদুর্ভোগ আরও চরম রূপ নেবে বলে আশঙ্কা করছেন ভুক্তভোগী সাধারণ মানুষ।

মিরপুর (১০ ও ১১ নম্বর সেক্টর):
মিরপুরের বিভিন্ন সেকশনে দিনে গড়ে ৪ থেকে ৫ বার বিদ্যুৎ যাচ্ছে। প্রতিবার লোডশেডিংয়ের স্থায়িত্ব প্রায় দেড় থেকে দুই ঘণ্টা। দিনে ও রাতে মিলিয়ে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে প্রায় ৮ থেকে ১০ ঘণ্টাই বিদ্যুৎহীন থাকতে হচ্ছে এই ঘনবসতিপূর্ণ অঞ্চলের বাসিন্দাদের।
মিরপুর ১১ বাসিন্দা রফিকুল ইসলাম বলেন, "সন্ধ্যার পর বিদ্যুৎ না থাকায় গরমে বাচ্চারা টেবিলেই বসতে পারছে না, আইপিএসও ব্যাকআপ দিচ্ছে না।" একই এলাকার আরেক বাসিন্দা শিউলি বিশ্বাস বলেন, “ঢাকা শহরে কারেন্ট আসলে মাঝেমাঝে আসে।” রাতে কমপক্ষে ৩ থেকে চার ঘন্টা কারেন্ট থাকেনা, গরমে ঘুমাতে পারিনা বলেও জানান তিনি।

মোহাম্মদপুর ও বসিলা:
এই অঞ্চলে পরিস্থিতি সবচেয়ে নাজুক। দিনে এক ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকলে পরবর্তী দেড় ঘণ্টা থাকছে না। অর্থাৎ দিনের অর্ধেকের বেশি সময় বিদ্যুৎহীন থাকছে এলাকা। বিশেষ করে মধ্যরাতে লোডশেডিং হওয়ায় সাধারণ মানুষের ঘুম ও বিশ্রাম পুরোপুরি ব্যাহত হচ্ছে।
"দিনের অর্ধেক সময় কারেন্ট থাকে না, ফ্রিজের খাবার নষ্ট হচ্ছে এবং রাতে ঘুমানোর কোনো উপায় নেই বলে জানান বসিলার ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী, আল-আমিন।”

পুরান ঢাকা (লালবাগ ও চকবাজার):
পুরান ঢাকার ঘিঞ্জি গলি ও বাতাসহীন ভবনগুলোতে বিদ্যুৎ বিভ্রাটের প্রভাব অত্যন্ত তীব্র। দিনে গড়ে ৫ থেকে ৬ ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকছে না। এতে স্থানীয় ক্ষুদ্র প্লাস্টিক কারখানা, লেথ মেশিন ও ছাপাখানাগুলোর উৎপাদন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।
লালবাগ ব্যবসায়ী হাজি মো. কামরুল বলেন, "দিনে তিন-চার বার বিদ্যুৎ যায়, তীব্র গরমে কারখানা চালু রাখা এবং কাজ করা অসম্ভব হয়ে পড়েছে।"

বাড্ডা ও রামপুরা:
বাড্ডা, রামপুরা ও সংলগ্ন এলাকাগুলোতে দিনে গড়ে ৩ থেকে ৪ বার লোডশেডিং হচ্ছে, যার মোট সময়সীমা প্রায় ৫ থেকে ৬ ঘণ্টা। বিদ্যুৎ না থাকায় ভবনের মোটর চালিয়ে পানি তোলা সম্ভব হচ্ছে না, ফলে তীব্র পানি সংকটে পড়েছেন গৃহিণীরা।
"বিদ্যুৎ না থাকায় পানি তুলতে পারছি না, মধ্যরাতেও লোডশেডিং হওয়ায় বাচ্চাদের নিয়ে চরম ভোগান্তিতে আছি বলে জানিয়েছেন রামপুরার বাসিন্দা শারমিন সুলতানা।” একই এলাকার আরেক বাসিন্দা শিলা রায় বলছেন, আমার ছোট দুটি বাচ্চা, তাদের নিয়ে গরমে ভীষণ কষ্ট হয়। বাচ্চারা রাতে তো ঘুমাতেই পারে না। দিনেও ঘুমায় না কারণ কারেন্ট থাকেনা।

সুতরাং বলা যায়, বিদ্যুৎতের এমন অবস্থা গ্রহণযোগ্য নয়। সারাদিনের লোডশেডিংয়ের কারণে একই সাথে গরমে অতিষ্ঠ নগরজীবন। কতদিন বিদ্যুৎতের এমন আনাগোনা চলবে তা বলা কঠিন। Bangladesh Power Development Board

আরো পড়ুন...

প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে অষ্টম একনেক সভা শুরু