কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষা বাধ্যতামূলক হবে: শিক্ষামন্ত্রী

প্রেসপয়েন্ট বিডি

প্রকাশ :জুন ২৮, ২০২৬

কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষা বাধ্যতামূলক হবে: শিক্ষামন্ত্রী

জাতীয় ডেস্ক: দেশে কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষা বাধ্যতামূলক করা হবে বলে জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহসানুল হক মিলন ।

রবিবার (২৮ জুন) জাতীয় সংসদের ২০২৬-২০২৭ অর্থবছরের বাজেট বিষয়ক আলোচনায় এই কথা বলেন তিনি।

শিক্ষামন্ত্রী আরো বলেন, প্রস্তাবিত বাজেটে শিক্ষা খাতের জন্য ১ লাখ ৩৬ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ করেছেন প্রধানমন্ত্রী।

তিনি বরাবর দেশে উন্নত শিক্ষাকে গুরুত্ব দিয়েছেন।

পূর্ববর্তী সরকারের সময়ে শিক্ষা খাতে বরাদ্দ ছিল মোট জিডিপির মাত্র ১.৩৯ শতাংশ যদিও পরিসংখ্যানটি বিভ্রান্তিকর বলে দাবি কলেন মন্ত্রী।

ষষ্ঠ শ্রেণি থেকে কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষা অগ্রাধিকার দিয়ে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, দক্ষ মানবসম্পদ উন্নয়নের জন্য প্রয়োজন প্রশিক্ষণমূলক কারিগরি শিক্ষা।

মন্ত্রী আরো বলেন, শিক্ষাখাতের বরাদ্দের একটি অংশ বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের মধ্যে বণ্টন করা হয়, যার মধ্যে পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের জন্য ১০৭.২৪ কোটি টাকা রয়েছে।

তিনি আরও বলেন, এই তহবিল প্রত্যন্ত অঞ্চলের স্কুলের ঘাটতি পূরণে সহায়ক হতে পারত।

বর্তমান সরকারের শিক্ষা ব্যবস্থা আলোচনা করতে গিয়ে তিনি বলেন, মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুম স্থাপন,

শিক্ষকদের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা এবং সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে বিনামূল্যে ওয়াই-ফাই চালু করার ব্যাপারে ভাবছে সরকার।

এছাড়া, দেশের প্রত্যেক শিক্ষার্থীর জন্য একটি শিক্ষা আইডি চালু এবং শিক্ষার্থীদের মধ্যে পরিবেশ-বান্ধব কার্যক্রমকে উৎসাহিত করার জন্য উদ্যোগ বিভিন্ন নেওয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, মাল্টিমিডিয়া শিক্ষাদান সহজ করতে, পাঠ পরিকল্পনা তৈরি করতে

এবং ডিজিটালভাবে শিক্ষার্থীদের রেকর্ড সংরক্ষণ করতে শিক্ষকদের ট্যাবলেট কম্পিউটার সরবরাহ করা হবে।

মন্ত্রী বলেন, শুধুমাত্র পাঠ্যবই ও খাতার ওপর শিক্ষার্থীদের নির্ভরতা কমিয়ে ‘আনন্দের সাথে শিক্ষা’কে উৎসাহিত করাই সরকারের একমাত্র উদ্দেশ্য

এবং এই কর্মসূচি বাস্তবায়নের জন্য শিক্ষকদের প্রশিক্ষণও দেওয়া হচ্ছে।

শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহসানুল হক মিলন দেশের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক প্রতিষ্ঠানে আরও ২০,০০০ মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুম স্থাপনের পরিকল্পনাও ঘোষণা করেন।

সামাজিক ও ভৌগোলিক বৈষম্য কমাতে সরকার প্রায় ৫০০টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের জিওগ্রাফিক ইনফরমেশন সিস্টেম (জিআইএস) ম্যাপিং শুরু করেছে এবং ১৫,০০০ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে বিনামূল্যে ওয়াই-ফাই প্রদানের পরিকল্পনা রয়েছে।

প্রধানমন্ত্রীর ‘এক শিশু, এক গাছ’ উদ্যোগের বরাত দিয়ে তিনি বলেন, সারাদেশের প্রত্যেক শিক্ষার্থীকে একটি করে গাছ লাগাতে উৎসাহিত করা হবে যাতে পরিবেশ পরিশুদ্ধতায় শিক্ষার্থীরা উদ্যাগ রাখতে পারে।

আগামী বছর থেকে দেশব্যাপী বিএনসিসি ক্যাডেটের সংখ্যা ২৪,০০০-এ উন্নীত করার প্রস্তুতি চলছে বলেও আশ্বাস দেন তিনি।

এসময় প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের ইউনিফর্ম, জুতা, ব্যাগ এবং মধ্যাহ্নভোজ প্রদানে সরকারের পরিকল্পনার কথাও তুলে ধরেন।

মাদ্রাসা শিক্ষকদের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন

ও সনদ প্রদানকারী কর্তৃপক্ষের (এনটিআরসিএ) মাধ্যমে নিয়োগপ্রাপ্ত প্রায় ১৭,০০০ শিক্ষক মে ও জুন মাসের বেতন পাননি,

কারণ পূর্ববর্তী সরকার প্রয়োজনীয় তহবিলের ব্যবস্থা করেনি।

প্রথম পর্যায়ে দেশের নির্বাচিত কিছু বিদ্যালয়ে পাইলট প্রজেক্ট হিসেবে এটি চালু করা হবে

এবং পরবর্তীতে পর্যায়ক্রমে সব বিদ্যালয়ে এই পাঠ্যক্রম ছড়িয়ে দেওয়া হবে বলে মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে।

-প্রেসপয়েন্টবিডি/জাতীয়/স্বাস্থ্য

আরো পড়ুন.... লাইসেন্স স্থগিতের ঘটনায় জামায়াতের তীব্র সমালোচনা স্বাস্থ্যমন্ত্রীর