চট্টগ্রাম বন্দরের এনসিটি নিয়ে আমিরাতভিত্তিক প্রতিষ্ঠান সাথে চুক্তি সম্পন্ন আজ

প্রেসপয়েন্ট বিডি

প্রকাশ :অক্টোবর ৮, ২০২৬

চট্টগ্রাম বন্দরের এনসিটি নিয়ে আমিরাতভিত্তিক প্রতিষ্ঠান সাথে চুক্তি সম্পন্ন আজ

মো: আব্দুল্লাহ মামুন সোহান,চট্টগ্রাম প্রতিনিধি: চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব সংযুক্ত আরব আমিরাতভিত্তিক প্রতিষ্ঠান ডিপি ওয়ার্ল্ডের কাছে দেওয়ার প্রক্রিয়া চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছেছে। এ বিষয়ে ১৫ বছরের কনসেশন চুক্তি

আজ বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) বিকেল ৩টায় ঢাকার ইনভেস্ট বাংলাদেশ অডিটোরিয়ামে চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। বাংলাদেশ ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর প্রতিনিধিরা এতে অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে।

চুক্তির আওতায় এনসিটির পাশাপাশি এর ওভারফ্লো কনটেইনার ইয়ার্ড (ওসিওয়াই) পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্বও ডিপি ওয়ার্ল্ড পাবে। চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের মালিকানা ও নিয়ন্ত্রণ বহাল রেখে ‘ল্যান্ডলর্ড পোর্ট’ মডেলে টার্মিনাল পরিচালনার পরিকল্পনা করা হয়েছে।

বন্দরের ৪০ শতাংশের বেশি কনটেইনার এনসিটিতে

চট্টগ্রাম বন্দরের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কনটেইনার টার্মিনালগুলোর একটি এনসিটি। গত অর্থবছরে টার্মিনালটি বন্দরের মোট কনটেইনার পরিবহনের ৪০ শতাংশের বেশি পরিচালনা করেছে। ২০০৭ সালে প্রায় ২ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত এই টার্মিনালে পাঁচটি জেটি ও বন্দরের ১৮টি কুইসাইড গ্যান্ট্রি ক্রেনের মধ্যে ১৪টি রয়েছে।

বর্তমানে বাংলাদেশ নৌবাহিনী-নিয়ন্ত্রিত চিটাগং ড্রাই ডক লিমিটেড এনসিটি পরিচালনা করছে। চুক্তি কার্যকর হলে ডিপি ওয়ার্ল্ড টার্মিনালটির পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব নেবে।

প্রস্তাবিত চুক্তি অনুযায়ী, টার্মিনালের আধুনিকায়ন, যন্ত্রপাতি উন্নয়ন ও প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বাড়াতে অপারেটর বিনিয়োগ করবে। চুক্তির মেয়াদ শেষে প্রয়োজনীয় প্রযুক্তি ও কারিগরি জ্ঞানসহ টার্মিনালটি চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তরের পরিকল্পনা রয়েছে।

চুক্তি নিয়ে আপত্তি শ্রমিক ও বন্দর রক্ষা কমিটির

এদিকে এনসিটি বিদেশি প্রতিষ্ঠানের কাছে দেওয়ার উদ্যোগের বিরোধিতা করে আসছে বন্দরসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন শ্রমিক সংগঠন ও বন্দর রক্ষা কমিটি। তাদের দাবি, গুরুত্বপূর্ণ এই বন্দর অবকাঠামো বিদেশি অপারেটরের হাতে দেওয়ার আগে জনস্বার্থ ও শ্রমিকদের বিষয়গুলো বিবেচনা করা প্রয়োজন।

চুক্তি স্বাক্ষর হলে বন্দর কার্যক্রম বন্ধ করে দেওয়ার হুমকিও দিয়েছেন আন্দোলনকারীদের কেউ কেউ। বন্দর রক্ষা কমিটি চুক্তির উদ্যোগের তীব্র বিরোধিতা করেছে এবং এটিকে বন্ধ করার দাবি জানিয়েছে।

অন্যদিকে সরকারের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, আন্তর্জাতিক অপারেটর যুক্ত হলে এনসিটির পরিচালন দক্ষতা, প্রযুক্তি ও কনটেইনার হ্যান্ডলিং সক্ষমতা বাড়বে। সরকারের এই উদ্যোগের লক্ষ্য বন্দরের লজিস্টিকস কার্যক্রম আরও আধুনিক ও দক্ষ করা।

এনসিটি পরিচালনায় আন্তর্জাতিক অপারেটর নিয়োগের প্রক্রিয়া শুরু হয় ২০১৯ সালে। দীর্ঘ আলোচনা, প্রশাসনিক ও আইনি প্রক্রিয়ার পর গত ১ অক্টোবর ১৫ বছরের কনসেশন চুক্তির খসড়ায় নীতিগত অনুমোদন দেওয়া হয়। এরপর আজ চুক্তি স্বাক্ষরের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

আরো পড়ুন...

চট্টগ্রামে হকার উচ্ছেদ অভিযান নিয়ে প্রশ্ন, স্থায়ী সমাধান চান নগরবাসী