মো: আব্দুল্লাহ মামুন সোহান,চট্টগ্রাম প্রতিনিধি: দীর্ঘ ২৩ বছর ধরে চট্টগ্রাম বন্দরে পড়ে থাকা মেয়াদোত্তীর্ণ ও ব্যবহারের অনুপযোগী বিপজ্জনক রাসায়নিক অবশেষে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।
শনিবার (৩ অক্টোবর) সকাল থেকে চট্টগ্রাম কাস্টম হাউসের উদ্যোগে ৯টি কনটেইনারে থাকা মোট ১৫০ দশমিক ৮৯ মেট্রিক টন বিপজ্জনক রাসায়নিক অপসারণের এই কার্যক্রম শুরু হয়।
চট্টগ্রাম কাস্টমস সূত্রে জানা যায়, এসব রাসায়নিকের মধ্যে রয়েছে ১ কনটেইনার সালফিউরিক অ্যাসিড (২৫ দশমিক ৫৫ মেট্রিক টন), ৫০০ কেজি নাইট্রিক অ্যাসিড, পাঁচ কনটেইনার মিথানল (৯২ দশমিক ৫৪ মেট্রিক টন বা ৯২ হাজার ৫৪৪ কেজি) এবং থিনার (৩২ দশমিক ৩০ মেট্রিক টন বা ১৩ হাজার ৮০০ কেজি)। উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, এর মধ্যে একটি কনটেইনার থিনার সর্বপ্রথম ২০০৩ সালে চট্টগ্রাম বন্দরে আমদানি হয়েছিল, যা দীর্ঘ ২৩ বছর পর গতকাল বন্দর থেকে বের করা সম্ভব হলো।
কাস্টমস কর্মকর্তা মো. রাসেল আহমেদ জানান, চট্টগ্রাম বন্দরের নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং দীর্ঘদিনের কনটেইনার জট নিরসনের লক্ষ্যেই এই বিপজ্জনক রাসায়নিক ধ্বংসের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তিনি জানান, পরীক্ষা-নিরীক্ষার মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া গেছে যে, দীর্ঘদিন বন্দরে পড়ে থাকায় এসব রাসায়নিক ইতিমধ্যে মেয়াদোত্তীর্ণ ও সম্পূর্ণ ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে।
সকাল ১০টায় কাস্টমসের ধ্বংস কমিটির সদস্যদের উপস্থিতিতে পুলিশি প্রহরায় রাসায়নিকবাহী যানবাহনগুলো চট্টগ্রাম বন্দর থেকে নারায়ণগঞ্জের উদ্দেশে যাত্রা শুরু করে। চট্টগ্রামে এ ধরনের জটিল ও বিপজ্জনক রাসায়নিক ধ্বংসের প্রয়োজনীয় অবকাঠামো ও পরিবেশগত সুবিধা না থাকায় এগুলো নেওয়া হচ্ছে নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ উপজেলার মুড়াপাড়া এলাকায় অবস্থিত ওয়াটা কেমিক্যালস লিমিটেডের কারখানায়, যেখানে পরিবেশবান্ধব ও বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে এসব রাসায়নিক ধ্বংস করা হবে।
শনিবার প্রথম ধাপে মোট ১০৬ টন রাসায়নিক পণ্য নারায়ণগঞ্জের উদ্দেশে পাঠানো হয়, আর রোববার থেকে সেখানে শুরু হবে মূল ধ্বংস প্রক্রিয়া।
জানা গেছে, বাংলাদেশ জাতীয় কর্তৃপক্ষ, রাসায়নিক অস্ত্র কনভেনশন (বিএনএসিডব্লিউসি)-এর সুপারিশক্রমে এবং চট্টগ্রাম কাস্টম হাউসের ধ্বংস কমিটির উদ্যোগে এই কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।
এই বিশেষ অভিযানে সার্বিক সহায়তা দিচ্ছে বিএনএসিডব্লিউসি, চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ, চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ, জেলা প্রশাসন, ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স, বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি), বাংলাদেশ কাউন্সিল অব সায়েন্টিফিক অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিয়াল রিসার্চ (বিসিএসআইআর), বিস্ফোরক অধিদপ্তর, পরিবেশ অধিদপ্তর ও আনসার ব্যাটালিয়ন। রাসেল আহমেদ জানান, দীর্ঘদিনের এই বিপজ্জনক রাসায়নিক অপসারণের ফলে একদিকে যেমন বন্দরের নিরাপত্তাঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে কমবে, তেমনি খালি হওয়া এই জায়গা ভবিষ্যতে বন্দরের কার্যক্রম সম্প্রসারণেও কাজে লাগানো সম্ভব হবে।













