অপরিকল্পিত গাড়ি পার্কিং, চট্টগ্রামে বাড়তি যানজটের কারণ

প্রেসপয়েন্ট বিডি

প্রকাশ :অক্টোবর ১৩, ২০২৬

অপরিকল্পিত গাড়ি পার্কিং, চট্টগ্রামে বাড়তি যানজটের কারণ

মো: আব্দুল্লাহ মামুন সোহান,চট্টগ্রাম প্রতিনিধি: বন্দরনগরী চট্টগ্রামে যানজটের পেছনে অপরিকল্পিত ও অবৈধ গাড়ি পার্কিং বড় একটি সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। নগরের ব্যস্ত সড়ক, বিপণিবিতান, হাসপাতাল ও বাণিজ্যিক এলাকার আশপাশে পর্যাপ্ত পার্কিং সুবিধার অভাব এবং নির্ধারিত পার্কিংয়ের জায়গা অন্য কাজে ব্যবহারের কারণে সড়কে যান চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। এতে কর্মজীবী মানুষ, শিক্ষার্থী, রোগী ও সাধারণ যাত্রীদের প্রতিদিনই বাড়তি সময় ব্যয় করতে হচ্ছে।

আজ মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) চট্টগ্রামের নিউমার্কেট থেকে জিইসি মোড় এলাকার সরেজমিনে দেখা যায়, রাস্তাজুড়ে অবৈধ দোকানসহ যেখানে সেখানে পার্কিংয়ের কারণে রাস্তা দখল হয়ে থাকে।

ফিরিঙ্গিবাজারের স্থানীয় বাসিন্দা তৃষা চৌধুরি বলেন, ”আমার অফিস জিইসি মোড়ে। বাসা থেকে অফিসের পর ১৫ মিনিটের হলেও রাস্তায় অতিরিক্ত জ্যামের কারনে সেটা ৩০ বা ৪০ মিনিট হয়ে যায়। বিশেষ করে অফিস শেষে বাসায় ফেরার পথে একপ্রকার যুদ্ধ চলে রাস্তায়।”

নগরের বিভিন্ন এলাকায় সড়কের পাশে গাড়ি দাঁড় করিয়ে রাখা, যাত্রী ওঠানো-নামানো এবং নির্ধারিত পার্কিংয়ের জায়গা ব্যবহার না করার প্রবণতা যান চলাচলের স্বাভাবিক গতি কমিয়ে দেয়। বিশেষ করে ব্যস্ত মোড় ও সরু সড়কে একাধিক গাড়ি রাস্তার পাশে দাঁড়িয়ে থাকলে চলাচলের জায়গা সংকুচিত হয়ে পড়ে। এর প্রভাব পড়ে পুরো সড়কের যান চলাচলে।

আজিজুল হক নামের আরেক বাসিন্দা বলেন, “দুই তিন বছর আগেও চট্টগ্রামের অবস্থা এমন ছিলো না। এখন নগরীর প্রায় সব এলাকার চিত্র একই। তবে নিউমার্কেট এলাকায় অতিরিক্ত জ্যামের কারণ হলো চালকদের নিয়ন্ত্রণহীন গতি। শহরে টোট ও সিটিবাস চালকরা তোদের ইচ্ছামতো গাড়ি থামিয়ে লোক ওঠানো নামানো করে ফলে যানজোট বাধে।

চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (চউক) সাম্প্রতিক অভিযান ও বক্তব্যেও পার্কিং সমস্যার বিষয়টি উঠে এসেছে। গত ২৭ আগস্ট নগরের আগ্রাবাদ অ্যাকসেস রোডে নির্ধারিত পার্কিংয়ের জায়গা বাণিজ্যিক কাজে ব্যবহারের দায়ে দুটি সুপারশপকে মোট ১৯ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়। একই অভিযানে নকশা লঙ্ঘনের দায়ে ১৩টি ভবনের মালিকদের ২২ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছিল। চউক চেয়ারম্যানের বক্তব্য অনুযায়ী, পার্কিংয়ের জায়গা অন্য কাজে ব্যবহারের ফলে নগরে যানজট ও জনদুর্ভোগ বাড়ছে।

এ ছাড়া ২৭ সেপ্টেম্বর জিইসি মোড় এলাকার বিভিন্ন বাণিজ্যিক ভবন ও শপিং কমপ্লেক্সে পার্কিং, অনুমোদিত নকশা এবং ফুটপাত দখলসংক্রান্ত অনিয়মের বিরুদ্ধে অভিযান চালায় চউক। নগরের অন্যতম ব্যস্ত এই এলাকায় সড়ক ও ফুটপাতের যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করা যানজট কমানোর জন্য গুরুত্বপূর্ণ।

সম্প্রতি পতেঙ্গায় দেশের প্রথম সাইকেল ট্র্যাকে অবৈধ পার্কিংয়ের বিরুদ্ধেও অভিযান চালিয়েছে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন (চসিক)। ১১ অক্টোবর পরিচালিত ওই অভিযানে দুটি মামলায় মোট ৬ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করা হয় এবং একটি গাড়ি জব্দের তথ্য জানিয়েছে বাসস। ঘটনাটি দেখায়, নির্ধারিত চলাচলের জায়গায় গাড়ি রাখা শুধু যানজট নয়, সাইকেল আরোহীদের নিরাপদ চলাচলেও বাধা সৃষ্টি করতে পারে।

বিশেষজ্ঞ ও নগর পরিকল্পনাবিদদের আলোচনায় সাধারণত সড়কের ধারণক্ষমতা, অপরিকল্পিত নগরায়ণ, পর্যাপ্ত পার্কিংয়ের অভাব এবং দুর্বল ট্রাফিক ব্যবস্থাপনাকে যানজটের সঙ্গে সম্পর্কিত সমস্যা হিসেবে দেখা হয়। তবে চট্টগ্রামের যানজটের সব দায় শুধু পার্কিংয়ের ওপর চাপানো যায় না। সড়কের সংকীর্ণতা, নির্মাণকাজ, ফুটপাত দখল এবং যত্রতত্র যাত্রী ওঠানো-নামানোর মতো বিষয়ও পরিস্থিতিকে জটিল করে।

যানজট কমাতে ভবন নির্মাণের অনুমোদিত নকশা অনুযায়ী পার্কিংয়ের জায়গা সংরক্ষণ, সড়কে অবৈধ পার্কিংয়ের বিরুদ্ধে নিয়মিত ব্যবস্থা, নির্দিষ্ট স্থানে যাত্রী ওঠানো-নামানোর ব্যবস্থা এবং ব্যস্ত এলাকায় কার্যকর ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা জরুরি। পাশাপাশি পার্কিং সুবিধা না থাকা ভবন ও বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে নিয়ম মানা হচ্ছে কি না, তা নিয়মিত তদারক করা প্রয়োজন।

চট্টগ্রামের যানজট নিরসনে শুধু অভিযান চালানো যথেষ্ট নয়; প্রয়োজন ধারাবাহিক নজরদারি, আইন প্রয়োগ এবং পরিকল্পিত পার্কিং ব্যবস্থার সমন্বিত উদ্যোগ। সড়ককে পার্কিংয়ের বিকল্প হিসেবে ব্যবহার বন্ধ করা গেলে যান চলাচলের জায়গা বাড়বে এবং নগরবাসীর দৈনন্দিন দুর্ভোগ কমানোর সুযোগ তৈরি হবে।

Google News-এ Press Point BD-এর খবর দেখুন আমাদের সর্বশেষ সংবাদ ও প্রতিবেদন Google News-এ পড়ুন।

আরো পড়ুন...

উপাচার্যকে অবরুদ্ধ রাখার ঘোষণা চুয়েট শিক্ষার্থীদের