উপাচার্যকে অবরুদ্ধ রাখার ঘোষণা চুয়েট শিক্ষার্থীদের

প্রেসপয়েন্ট বিডি

প্রকাশ :অক্টোবর ১২, ২০২৬

উপাচার্যকে অবরুদ্ধ রাখার ঘোষণা চুয়েট শিক্ষার্থীদের

মো: আব্দুল্লাহ মামুন সোহান,চট্টগ্রাম প্রতিনিধি: চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (চুয়েট) উপাচার্য পরিবর্তনের দাবিকে কেন্দ্র করে চলমান অচলাবস্থা আরও কঠোর অবস্থানের দিকে যাচ্ছে। দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত বর্তমান উপাচার্যকে অবরুদ্ধ রাখার ঘোষণা দিয়েছেন আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা। তাঁদের এই অবস্থানের ফলে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

সোমবার (১২ অক্টোবর) ক্যাম্পাসে উপাচার্যকে ঘিরে আন্দোলন নতুন পর্যায়ে পৌঁছায়। শিক্ষার্থীরা উপাচার্য ভবনের সামনে অবস্থান নিয়ে তাঁদের দাবি আদায়ের পক্ষে স্লোগান দেন। একপর্যায়ে ভবনে প্রবেশ ও অবস্থান নিয়ে উত্তেজনা তৈরি হয়। পরে আন্দোলনকারীরা দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত উপাচার্যকে অবরুদ্ধ রাখার ঘোষণা দেন।

আন্দোলনকারীদের প্রধান দাবি, বর্তমান উপাচার্য অধ্যাপক ড. শেখ শরীফুল আলমকে দায়িত্ব থেকে সরিয়ে সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে পুনর্বহাল করতে হবে। শিক্ষার্থীদের একাংশ মনে করছেন, তাঁদের দাবি মেনে না নেওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়াই সমাধানের জন্য চাপ তৈরির উপায়। তবে এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পরবর্তী পদক্ষেপ কী হবে, তা এখনো স্পষ্ট নয়।

চুয়েটে উপাচার্য পরিবর্তন নিয়ে বিরোধের কারণে শিক্ষা কার্যক্রমের স্বাভাবিক পরিবেশ নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। দীর্ঘ সময় ধরে আন্দোলন চলতে থাকলে ক্লাস, পরীক্ষা, গবেষণা এবং প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত গ্রহণে প্রভাব পড়তে পারে। শিক্ষার্থীদের একাডেমিক ক্ষতি এড়াতে সংকটের দ্রুত সমাধান প্রয়োজন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

এ ধরনের পরিস্থিতিতে শিক্ষার্থীদের দাবিগুলো যথাযথভাবে পর্যালোচনা করার পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক কার্যক্রম সচল রাখাও গুরুত্বপূর্ণ। আলোচনার মাধ্যমে সমাধান না এলে বিরোধ দীর্ঘায়িত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। একই সঙ্গে কোনো ব্যক্তিকে অবরুদ্ধ রাখার মতো পদক্ষেপের ক্ষেত্রে নিরাপত্তা ও আইনগত বিষয়ও বিবেচনায় নেওয়া প্রয়োজন।

বর্তমান পরিস্থিতিতে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ, শিক্ষার্থী প্রতিনিধি এবং সংশ্লিষ্ট শিক্ষা প্রশাসনের মধ্যে কার্যকর আলোচনা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। আলোচনার মাধ্যমে গ্রহণযোগ্য সিদ্ধান্তে পৌঁছানো গেলে উত্তেজনা কমানো এবং শিক্ষা কার্যক্রম স্বাভাবিক করার সুযোগ তৈরি হতে পারে।

চুয়েটে আন্দোলন কত দিন চলবে এবং কর্তৃপক্ষ শিক্ষার্থীদের দাবির বিষয়ে কী সিদ্ধান্ত নেবে, তা এখনো অনিশ্চিত। পরিস্থিতির পরবর্তী অগ্রগতি নির্ভর করছে দুই পক্ষের অবস্থান, আলোচনার উদ্যোগ এবং প্রশাসনের আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্তের ওপর।

আরো পড়ুন....

ধানখেত থেকে স্কুলছাত্রীর মরদেহ উদ্ধারে হোটেল কর্মচারী গ্রেফতার