জরায়ুমুখের ক্যানসার: সচেতনতা এবং প্রতিরোধ

প্রেসপয়েন্ট বিডি

প্রকাশ :জুলাই ২৬, ২০২৬

জরায়ুমুখের ক্যানসার: সচেতনতা এবং প্রতিরোধ

স্বাস্থ্য ডেস্ক: (নাবিলা কবির: নিজস্ব প্রতিবেদক): জরায়ুমুখের ক্যানসার: সচেতনতা এবং প্রতিরোধ।

নারীদের স্বাস্থ্যঝুঁকির মধ্যে জরায়ুমুখের ক্যানসার বা সার্ভিকাল ক্যানসার (Cervical Cancer) অন্যতম প্রধান উদ্বেগের বিষয়। World Health org

বিশ্বজুড়ে নারীদের ক্যানসারে মৃত্যুর অন্যতম প্রধান কারণ এটি। তবে আশার কথা হলো, সঠিক সময়ে সচেতন হলে এবং কিছু প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করলে এই ক্যানসার শতভাগ প্রতিরোধ এবং নিরাময় করা সম্ভব।

জরায়ুমুখের ক্যানসার কী এবং কেন হয়?

জরায়ুর নিচের অংশ যা জরায়ু ও যোনিপথকে যুক্ত করে, তাকে জরায়ুমুখ বা সার্ভিক্স বলা হয়।

এই অংশে যখন অনিয়ন্ত্রিতভাবে কোষের অস্বাভাবিক বৃদ্ধি ঘটে, তখন তাকে জরায়ুমুখের ক্যানসার বলে।

এই ক্যানসারের মূল কারণ হলো 'হিউম্যান প্যাপিলোমা ভাইরাস' বা এইচপিভি (HPV) নামক একটি ভাইরাসের সংক্রমণ।

এটি প্রধানত যৌন মিলনের মাধ্যমে ছড়ায়। সাধারণত দীর্ঘমেয়াদী এইচপিভি সংক্রমণ (বিশেষ করে টাইপ ১৬ এবং ১৮) কোষের পরিবর্তনের মাধ্যমে ক্যানসারের রূপ নেয়।

ঝুঁকির কারণসমূহ:

  • কম বয়সে যৌন জীবন শুরু করা বা একাধিক যৌনসঙ্গী থাকা।
  • অল্প বয়সে গর্ভধারণ বা ঘন ঘন সন্তান প্রসব করা।
  • দীর্ঘদিন ধরে জন্মনিয়ন্ত্রণ পিল ব্যবহার করা।
  • শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কম থাকা (যেমন- এইচআইভি বা অন্যান্য সংক্রমণ)।
  • ধূমপান করা বা পরোক্ষ ধূমপানের শিকার হওয়া।

প্রাথমিক লক্ষণসমূহ:

জরায়ুমুখের ক্যানসারের প্রাথমিক পর্যায়ে সাধারণত কোনো স্পষ্ট লক্ষণ প্রকাশ পায় না। তবে রোগ বাড়ার সাথে সাথে কিছু উপসর্গ দেখা দিতে পারে:

  • মাসিকের নিয়মিত সময়ের বাইরে বা যৌন মিলনের পরে রক্তপাত হওয়া।
  • মেনোপজ বা ঋতুস্রাব চিরতরে বন্ধ হয়ে যাওয়ার পরেও রক্তপাত হওয়া।
  • তলপেটে বা কোমরে অস্বাভাবিক ব্যথা অনুভব করা।
  • দুর্গন্ধযুক্ত বা অতিরিক্ত স্রাব যাওয়া।

প্রতিরোধ এবং প্রতিকার:

জরায়ুমুখের ক্যানসার প্রতিরোধের সবচেয়ে বড় হাতিয়ার হলো সচেতনতা এবং টিকাগ্রহণ।

১. এইচপিভি টিকা (HPV Vaccine): ৯ থেকে ২৬ বছর বয়সী মেয়েদের এবং কিশোরীদের এই টিকা দেওয়া সবচেয়ে নিরাপদ ও কার্যকর। বিশেষ করে ১২-১৩ বছর বয়সে যৌন জীবন শুরুর আগেই টিকা নেওয়া সবচেয়ে ভালো সুরক্ষা দেয়।
২. নিয়মিত স্ক্রিনিং বা পরীক্ষা: ৩০ বছরের বেশি বয়সী নারীদের নিয়মিত স্ক্রিনিং করানো উচিত। 'প্যাপ স্মিয়ার টেস্ট' (Pap Smear) এবং 'এইচপিভি ডিএনএ টেস্ট'-এর মাধ্যমে জরায়ুমুখের কোষের অস্বাভাবিকতা ক্যানসারে রূপ নেওয়ার আগেই শনাক্ত করা সম্ভব। প্রাথমিক অবস্থায় ধরা পড়লে এটি সম্পূর্ণ নিরাময়যোগ্য।
৩. স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন: ধূমপান থেকে বিরত থাকা, ব্যক্তিগত পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা এবং নিরাপদ যৌন সম্পর্ক বজায় রাখা অত্যন্ত জরুরি।

শেষ কথা:
লজ্জা বা ভয়ের কারণে অনেক নারী এই রোগের লক্ষণ লুকিয়ে রাখেন, যা পরবর্তীতে প্রাণঘাতী হয়ে উঠতে পারে। জরায়ুমুখের ক্যানসারের বিরুদ্ধে প্রধান প্রতিরোধ হলো নিয়মিত পরীক্ষা এবং সময়মতো টিকা নেওয়া। নিজের এবং পরিবারের নারী সদস্যদের সুস্থতার স্বার্থে আমাদের সকলকে এ বিষয়ে खुलकर কথা বলতে হবে এবং সচেতনতা বাড়াতে হবে। সঠিক সময়ে সচেতনতাই পারে একটি প্রাণ বাঁচিয়ে পরিবারে ফিরিয়ে আনতে পারে হাসি।

-প্রেসপয়েন্টবিডি/ম্বাস্থ্য

আরো পড়ুন..... 

কিডনি রোগের প্রাথমিক লক্ষণ ও প্রতিরোধ

ফ্যাটি লিভার: লক্ষণ ও চিকিৎসা

রজোবৃত্তি বা মেনোপজ কি?