চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে বিএনপির ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি

Jaya Sarkar

প্রকাশ :অক্টোবর ৪, ২০২৬

অতিন বিশ্বাস: দলীয় পরিচয় ব্যবহার করে দখল, চাঁদাবাজি, ভাঙচুর কিংবা প্রভাব বিস্তারের অভিযোগে জড়িত নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছে ক্ষমতাসীন বিএনপি। দলের ভাবমূর্তি ও সাংগঠনিক শৃঙ্খলা রক্ষায় ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি অনুসরণের কথা জানিয়েছে দলটির হাইকমান্ড।

সাম্প্রতিক সময়ে কয়েকটি কমিটি বিলুপ্ত, নেতা-কর্মীদের বহিষ্কার এবং এক সংসদ সদস্যের পদত্যাগের ঘটনায় এ অবস্থান আলোচনায় এসেছে।

দলীয় সূত্রের বরাতে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিএনপির নাম ব্যবহার করে কেউ অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়ালে তাঁর বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থার পাশাপাশি প্রয়োজন অনুযায়ী আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার কথা বলছে নেতৃত্ব। বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীও সুনির্দিষ্ট প্রমাণের ভিত্তিতে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছেন।

কমিটি বিলুপ্ত, বহিষ্কার একাধিক নেতাসাম্প্রতিক সাংগঠনিক পদক্ষেপের মধ্যে রয়েছে ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির ৫১ সদস্যের আহ্বায়ক কমিটি বিলুপ্ত করা। একই সময়ে ঢাকা মহানগর উত্তর যুবদল ও ঢাকা মহানগর পশ্চিম ছাত্রদলের কমিটিও বিলুপ্ত করা হয়। এ ছাড়া বিএনপি এবং এর অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের ১৪ নেতাকে বহিষ্কারের খবর প্রকাশিত হয়েছে।দলীয় পরিচয় ব্যবহার করে অনিয়ম বা শৃঙ্খলাবিরোধী কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে এসব পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। তবে কমিটি বিলুপ্তির প্রতিটি সিদ্ধান্তের সঙ্গে নির্দিষ্ট কোনো ঘটনার সরাসরি সম্পর্ক রয়েছে এমন দাবি করার আগে সংশ্লিষ্ট দলীয় বিজ্ঞপ্তি যাচাই করা প্রয়োজন।

মিরপুরের স্বাস্থ্যকেন্দ্রের ঘটনায় এমপির পদত্যাগরাজধানীর মিরপুরে রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারে হামলা, ভাঙচুর, লুটপাট ও দখলের অভিযোগের পর সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টির পদত্যাগের বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশে তিনি ১ অক্টোবর পদত্যাগ করেন।

এ ঘটনায় সংশ্লিষ্টতার অভিযোগকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক ও সাংগঠনিক পর্যায়ে আলোচনা তৈরি হয়েছে। তবে অভিযোগের বিষয়গুলোকে প্রমাণিত অপরাধ হিসেবে উপস্থাপন না করে তদন্ত ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বক্তব্যের ভিত্তিতে প্রতিবেদন করা জরুরি।

আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় কঠোরতার বার্তাদখল ও চাঁদাবাজির অভিযোগ কেবল রাজনৈতিক দলের অভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলার বিষয় নয়; এর সঙ্গে নাগরিকের নিরাপত্তা, সম্পত্তির অধিকার এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিও জড়িত। সাম্প্রতিক কয়েকটি ঘটনার পর ৩৮ জন বিশিষ্ট নাগরিকও নিরপেক্ষ তদন্ত ও দায়ীদের জবাবদিহি নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।

বিএনপির হাইকমান্ডের ঘোষিত কঠোর অবস্থান বাস্তবে কতটা কার্যকর হয়, তা নির্ভর করবে অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত, প্রমাণের ভিত্তিতে ব্যবস্থা গ্রহণ এবং আইনের সমান প্রয়োগের ওপর। রাজনৈতিক পরিচয় নির্বিশেষে অপরাধের অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার নিশ্চিত করাই এ ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ।