বঙ্গভবন ঘিরে নিরাপত্তার চাদর, নজরদারিতে পুরো এলাকা

প্রেসপয়েন্ট বিডি

প্রকাশ :আগস্ট ২১, ২০২৬

বঙ্গভবন ঘিরে নিরাপত্তার চাদর, নজরদারিতে পুরো এলাকা

অতিন বিশ্বাস: রাষ্ট্রপতির শপথ শুধু একটি আনুষ্ঠানিকতা নয়; রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদে নতুন ব্যক্তির দায়িত্ব গ্রহণের এই আয়োজনকে ঘিরে নিরাপত্তার গুরুত্বও থাকে সর্বোচ্চ পর্যায়ে।

আজ শুক্রবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় বঙ্গভবনের দরবার হলে নবনির্বাচিত রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের শপথকে সামনে রেখে

রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ এই রাষ্ট্রীয় স্থাপনাকে ঘিরে তাই নেওয়া হয়েছে বিশেষ নিরাপত্তা ও ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা।

সকাল থেকেই বঙ্গভবন ও আশপাশের এলাকায় সাধারণ দিনের তুলনায় বাড়তি নিরাপত্তা দেখা গেছে।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের পাশাপাশি প্রবেশপথ ও গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে নজরদারি জোরদার করা হয়েছে।

বঙ্গভবনের সামনের এলাকা পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখার পাশাপাশি ফুটপাত থেকেও অবৈধ ব্যবসায়ীদের সরিয়ে দেওয়া হয়েছে।

ফলে অনুষ্ঠানস্থলের আশপাশে চলাচল ও নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনা তুলনামূলকভাবে নিয়ন্ত্রিত রাখা সম্ভব হয়েছে।

শপথ অনুষ্ঠানের নিরাপত্তা পরিকল্পনার সবচেয়ে দৃশ্যমান অংশ হচ্ছে সড়ক নিয়ন্ত্রণ।

ঢাকা মহানগর পুলিশ জানিয়েছে, শুক্রবার বিকেল ৩টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত বঙ্গভবন ও আশপাশের এলাকায় বিশেষ ট্রাফিক ব্যবস্থা কার্যকর থাকবে। DMP

এর উদ্দেশ্য শুধু যানজট কমানো নয়; রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, বিচার বিভাগের শীর্ষ ব্যক্তি, কূটনীতিক ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ অতিথিদের যাতায়াত নির্বিঘ্ন রাখা।

ডিএমপির নির্দেশনা অনুযায়ী বঙ্গভবন রোড ও আশপাশের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সড়কে সাধারণ যানবাহনের প্রবেশ সীমিত বা বন্ধ রাখা হচ্ছে।

বিকল্প রুটে যানবাহন পরিচালনার ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে। অর্থাৎ বঙ্গভবনকে কেন্দ্র করে একটি নিয়ন্ত্রিত ট্রাফিক বলয় তৈরি করা হয়েছে,

যাতে অনুষ্ঠান চলাকালে ভিআইপি মুভমেন্ট ও জরুরি যান চলাচলে কোনো ধরনের বাধা সৃষ্টি না হয়।

এবারের শপথ অনুষ্ঠানটির গুরুত্বও নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে বাড়তি মাত্রা দিয়েছে।

অনুষ্ঠানে বিদায়ী রাষ্ট্রপতি, নবনির্বাচিত রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, স্পিকার, প্রধান বিচারপতি, সাবেক রাষ্ট্রপতি, মন্ত্রিসভার সদস্য,

বিভিন্ন দেশের কূটনীতিক, উচ্চপদস্থ সরকারি কর্মকর্তা ও বিশিষ্ট ব্যক্তিদের উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে।

এতসংখ্যক গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তির একই স্থানে উপস্থিতি স্বাভাবিকভাবেই নিরাপত্তা ঝুঁকি বাড়ায়।

প্রবেশ নিয়ন্ত্রণই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ

রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনার নিরাপত্তায় সবচেয়ে কার্যকর স্তরগুলোর একটি হলো প্রবেশ নিয়ন্ত্রণ।

বঙ্গভবনে অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়া অতিথিদের জন্য নির্দিষ্ট প্রবেশব্যবস্থা এবং সাধারণ মানুষের চলাচলের ক্ষেত্রে নিয়ন্ত্রণ রাখা হচ্ছে।

এর ফলে কে অনুষ্ঠানে প্রবেশ করছেন, কার যানবাহন কোথায় যাচ্ছে এবং কোন এলাকায় কার উপস্থিতি প্রয়োজন এসব বিষয় নিরাপত্তা ব্যবস্থার আওতায় রাখা সম্ভব হচ্ছে।

এ ধরনের ব্যবস্থায় শুধু মূল অনুষ্ঠানস্থল নয়, প্রবেশপথ, পার্শ্ববর্তী রাস্তা ও গুরুত্বপূর্ণ সংযোগস্থলও নিরাপত্তা পরিকল্পনার অংশ হয়ে যায়।

বঙ্গভবনের সামনের ব্যারিকেড ও আশপাশের এলাকা পুনর্বিন্যাসের ঘটনাও সেই সামগ্রিক প্রস্তুতির অংশ হিসেবে দেখা যাচ্ছে।

বঙ্গভবন ঘিরে বর্তমান ব্যবস্থাকে বিশ্লেষণ করলে এটিকে একক কোনো নিরাপত্তা ব্যবস্থা না বলে বহুস্তরীয় নিরাপত্তা বলয় বলা যায়।

প্রথম স্তরে রয়েছে বঙ্গভবনের নিজস্ব নিরাপত্তা ও প্রবেশ নিয়ন্ত্রণ।

দ্বিতীয় স্তরে আশপাশের সড়ক ও গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অবস্থান। তৃতীয় স্তরে রয়েছে ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ

ও বিকল্প রুটে যানবাহন পরিচালনা। এর সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের চলাচল, অনুষ্ঠানস্থলের শৃঙ্খলা এবং জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার সক্ষমতাও যুক্ত থাকে।

আরো পড়ুন…..

এফডিএ প্রধান হিসেবে ডা. হাইডি ওভারটনকে বেছে নিলেন ট্রাম্পকে/

ট্রাম্পের বৈঠকের ডাক, কিমের নীরবতা মাঝেই ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়ল উত্তর কোরিয়া