অতিন বিশ্বাস: অভিনেত্রী রিধির মৃত্যু, প্রেমিক হাসিবুর কারাগারে।
ভাটারায় মডেল ও অভিনেত্রী লিনা আক্তার ওরফে রিধিকা রিধির মৃত্যুর ঘটনায় দায়ের করা আত্মহত্যায় প্ররোচনার মামলায় গ্রেপ্তার তাঁর প্রেমিক হাসিবুর রহমানকে কারাগারে পাঠিয়েছেন আদালত।
তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত তাকে কারাগারে আটক রাখার আবেদন জানিয়েছিল পুলিশ।
রাজধানীর ভাটারা থানাধীন বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার একটি বাসা থেকে মডেল
ও অভিনেত্রী লিনা আক্তার ওরফে রিধিকা রিধির মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় তাঁর প্রেমিক হাসিবুর রহমানকে কারাগারে পাঠিয়েছেন আদালত।
রোববার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মাহবুব আলম শুনানি শেষে এ আদেশ দেন।
এর আগে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ভাটারা থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আব্দুল ওয়াদুত হাসিবুর রহমানকে আদালতে হাজির করে তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত তাকে কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন।
অন্যদিকে আসামিপক্ষের আইনজীবীরা তাঁর জামিনের আবেদন করেন।
আদালতে জানানো হয়, জামিন আবেদনের শুনানি আগামী ১৮ আগস্ট অনুষ্ঠিত হবে।
মামলার এজাহার ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ঘটনার আগের রাতে রিধি তাঁর বাসায় দুই বান্ধবী ইশান ও জান্নাতের সঙ্গে ছিলেন।
রাত ১১টার দিকে মোবাইল ফোনে হাসিবুরের সঙ্গে তাঁর কথা-কাটাকাটি হয়।
একপর্যায়ে রিধি তাঁর বান্ধবীদের ড্রয়িংরুমে গিয়ে ঘুমাতে বলেন। পরে ভোরের দিকে হাসিবুর রিধির ফ্ল্যাটে যান।
তিনি দরজায় ডাকাডাকি করলে বান্ধবীরা দরজা খুলে দেন।
পুলিশের কাছে দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, তখন হাসিবুর জানান, রিধি তাঁর ওপর রাগ করে গলায় ফাঁস দিয়েছেন।
পরে ঘরে ঢুকে রিধিকে সিলিং ফ্যানের সঙ্গে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পান তাঁরা।
দ্রুত তাঁকে উদ্ধার করে কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
রিধির মৃত্যুর ঘটনায় তাঁর মা মনি বেগম বাদী হয়ে ভাটারা থানায় আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগে মামলা করেন।
ওই মামলায় হাসিবুর রহমানকে আসামি করা হয়।
পুলিশ জানায়, ১৫ আগস্ট রাতে হাসিবুরকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে রোববার তাঁকে আদালতে হাজির করা হয়।
তদন্ত কর্মকর্তা মামলার তদন্তের স্বার্থে তাঁকে কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন।
পুলিশের দাবি, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে হাসিবুর ঘটনার সঙ্গে নিজের সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেছেন।
তবে আদালতে অভিযোগের বিচার এখনো হয়নি এবং তদন্তের মাধ্যমে ঘটনার প্রকৃত চিত্র স্পষ্ট হবে।
লিনা আক্তার ওরফে রিধিকা রিধি মডেলিংয়ের পাশাপাশি অভিনয়েও যুক্ত ছিলেন। বেশ কয়েকটি নাটকে অভিনয় করে পরিচিতি পান তিনি।
এদিকে মামলার তদন্ত এগিয়ে নিচ্ছে ভাটারা থানা পুলিশ।
রিধির মৃত্যুর আগে তাঁর সঙ্গে হাসিবুরের যোগাযোগ, ফোনালাপ এবং ঘটনাস্থলের পরিস্থিতিসহ সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
তদন্ত শেষ হলে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ ও আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগের বিষয়ে আরও স্পষ্ট তথ্য পাওয়া যাবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
-প্রেসপয়েন্টবিডি/বিনোদন













