মো: আব্দুল্লাহ মামুন সোহান,চট্টগ্রাম প্রতিনিধি: চট্টগ্রাম নগরের হালিশহরে কিশোর ও তরুণদের ভয়ভীতি দেখিয়ে আটকে রাখা, যৌন নিপীড়ন, ভিডিও ধারণ এবং সেই ভিডিও প্রকাশের হুমকি দিয়ে টাকা আদায়ের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় এক যুবদল নেতার বিরুদ্ধে। ভুক্তভোগীদের ভাষ্য অনুযায়ী, নিজেদের রাজনৈতিক পরিচয় ও প্রভাবের কথা বলে একটি চক্র তাঁদের টার্গেট করত। অভিযোগের সঙ্গে নুর হোসাইন নুরু ও তাঁর কয়েকজন সহযোগীর নাম উঠে এসেছে।
ভুক্তভোগীদের বড় একটি অংশ সন্দ্বীপের বাসিন্দা, যাঁরা পরিবারের সঙ্গে হালিশহর এলাকায় বসবাস করেন। তাঁদের বয়স মূলত ১৭ থেকে ২২ বছরের মধ্যে। অভিযোগ রয়েছে, তাঁদের কাউকে ‘ছাত্রলীগের কর্মী’ আখ্যা দিয়ে আটকে রাখা হতো। পরে মারধর, যৌন নিপীড়ন এবং মোবাইল ফোনে ভিডিও ধারণের মাধ্যমে ভয় দেখানো হতো। টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে ভিডিও ছড়িয়ে দেওয়া কিংবা পুলিশের হাতে তুলে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হতো বলে ভুক্তভোগীরা জানিয়েছেন।
কিছু ভুক্তভোগী সামাজিকভাবে হেয় হওয়ার ভয় এবং পরিবারের নিরাপত্তার কথা চিন্তা করে দীর্ঘদিন বিষয়টি গোপন রেখেছিলেন। তাঁদের কেউ কেউ এলাকা ছেড়ে অন্যত্র চলে গেছেন বলেও দাবি করেছেন। ভুক্তভোগীদের বক্তব্য অনুযায়ী, হালিশহরের কয়েকটি স্থানে তাঁদের ডেকে নিয়ে যাওয়া বা আটকে রাখার ঘটনা ঘটেছে। তবে এসব অভিযোগের সব কটি ঘটনা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়েছে কি না, তা আলাদাভাবে নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন।
অর্থ আদায়ের অভিযোগের মধ্যে এক তরুণের বর্ণনা বিশেষভাবে উঠে এসেছে। তাঁর দাবি, কয়েকজন ব্যক্তি তাঁকে ঘিরে ধরে অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে টাকা দাবি করেন। প্রাণনাশের আশঙ্কায় তিনি নগদ ৩০ হাজার টাকা দেওয়ার পাশাপাশি মোবাইল আর্থিক সেবার মাধ্যমে আরও ৫০ হাজার টাকা পাঠান। অর্থাৎ তাঁর দাবি অনুযায়ী, মোট ৮০ হাজার টাকা দেওয়ার পর তাঁকে ছেড়ে দেওয়া হয়। এরপরও ফোন করে দেখা করার জন্য চাপ দেওয়া এবং পুলিশের কাছে ধরিয়ে দেওয়ার ভয় দেখানোর অভিযোগ করেছেন তিনি।
আরেক কিশোরের অভিযোগ, তাঁকে একটি এলাকা থেকে জোর করে অটোরিকশায় তুলে নিয়ে মারধর করা হয় এবং ভিডিও ধারণ করা হয়। পরে তাঁর কাছে এক লাখ টাকা দাবি করা হয়। পরিবারের সহায়তায় মোবাইল আর্থিক সেবার মাধ্যমে কয়েক দফায় টাকা পাঠানোর পর তাঁকে ছেড়ে দেওয়া হয় বলে তাঁর ভাষ্য। একই ধরনের ঘটনায় আরও কয়েকজন অর্থ আদায় ও নির্যাতনের অভিযোগ করেছেন।
এদিকে, এসব অভিযোগের মধ্যে হালিশহর থানায় একটি মামলা হয়েছে বলে মূল প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। মামলার বাদী ১৭ বছর বয়সী এক কিশোর। এজাহারের বরাতে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, তাঁকে জোর করে একটি কক্ষে নিয়ে গিয়ে যৌন নিপীড়ন ও ভিডিও ধারণ করা হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে। পরে ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখানো হয়। অভিযোগে নুর হোসাইন নুরু ও মোয়াজ্জেমের নাম রয়েছে। মামলাটি নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন এবং পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইনের আওতায় করা হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
মূল সংবাদে মামলার তদন্তকারী হিসেবে হালিশহর থানার উপপরিদর্শক মো. ইয়াসিনের নাম উল্লেখ রয়েছে। তবে মামলার সর্বশেষ অবস্থা, অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ এবং পুলিশি তদন্তের অগ্রগতি সম্পর্কে নতুন করে নিশ্চিত তথ্য পাওয়া প্রয়োজন।
প্রতিবেদনে অভিযুক্তদের রাজনৈতিক পরিচয় এবং স্থানীয় রাজনৈতিক ব্যক্তিদের সঙ্গে ছবি ব্যবহারের কথাও উল্লেখ করা হয়েছে। তবে কারও সঙ্গে ছবি থাকা বা রাজনৈতিক পরিচয় দাবি করাই অপরাধে জড়িত থাকার প্রমাণ নয়। অভিযোগগুলোর সত্যতা তদন্তের মাধ্যমে নির্ধারিত হওয়া জরুরি। এ বিষয়ে অভিযুক্ত নুর হোসাইন নুরু ও মোয়াজ্জেমের বক্তব্য পাওয়া যায়নি বলে মূল সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে।
কিশোর ও তরুণদের নিরাপত্তা, ব্যক্তিগত ভিডিওর অপব্যবহার এবং ভয় দেখিয়ে অর্থ আদায়ের অভিযোগগুলো অত্যন্ত গুরুতর। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তদন্তে প্রতিটি অভিযোগের সত্যতা যাচাই, ভুক্তভোগীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত এবং প্রমাণের ভিত্তিতে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া এখন গুরুত্বপূর্ণ। একই সঙ্গে ভুক্তভোগীদের পরিচয় ও ব্যক্তিগত তথ্য প্রকাশের ক্ষেত্রে সতর্কতা বজায় রাখা প্রয়োজন, যাতে তাঁরা নতুন করে সামাজিক হয়রানির শিকার না।
Google News-এ Press Point BD-এর খবর দেখুন আমাদের সর্বশেষ সংবাদ ও প্রতিবেদন Google News-এ পড়ুন।














