জয়শ্রী রানী: রাজধানীর বংশালের মিরনজিল্লা হরিজন পল্লীতে গায়ে কেরোসিন ঢেলে আগুন দিয়ে আত্মহত্যার ঘটনায় প্ররোচনার অভিযোগে দুইজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
গ্রেফতাররা হলেন মিনাক্ষী রানী (৩০) ও বিকি বাবু ওরফে শ্রী বিকি হেলা। ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) বংশাল থানা পুলিশ তাদের গ্রেফতার করে।
পুলিশ জানায়, গত ২ অক্টোবর সকালে নিশা রানী (২৮) তার বান্ধবী মিনাক্ষী রানীর সঙ্গে ঢাকেশ্বরী মন্দিরে পূজা দিতে যান। সেখানে মিনাক্ষীর কথিত প্রেমিক বিকি বাবুর সঙ্গে তাদের দেখা হয়। পরে তারা মন্দির থেকে বের হয়ে নাশতা করেন এবং রমনা কালী মন্দিরে যান।
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, রমনা কালী মন্দিরে মিনাক্ষী ও বিকি বাবুর ঘনিষ্ঠ আচরণ দেখে নিশা মানসিকভাবে ক্ষুব্ধ হন। একপর্যায়ে তিনি মন্দিরের পাশের একটি বাথরুমে গিয়ে নিজের মাথায় আঘাত করার চেষ্টা করেন। পরে মিনাক্ষী তাকে সেখান থেকে নিয়ে একটি রেস্টুরেন্টে যান। সেখানেও নিশা নিজের গলার নিচে নখ দিয়ে আঘাত করার চেষ্টা করেন বলে জানায় পুলিশ।
পরে ওইদিন সন্ধ্যায় মিনাক্ষীর বাসায় বিকি বাবু গেলে খবর পেয়ে নিশাও সেখানে যান। পুলিশের দাবি, সেখানে মিনাক্ষী ও বিকি বাবু তাদের সম্পর্কের ক্ষেত্রে বাধা দেওয়ার অভিযোগে নিশাকে গালমন্দ ও অপমানজনক কথাবার্তা বলেন।
এরপর ২ অক্টোবর দিবাগত রাত আনুমানিক ৩টার দিকে বংশাল থানাধীন সিটি কলোনীতে মিনাক্ষীর বাসার ভেতর নিশা নিজের গায়ে কেরোসিন ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেন বলে পুলিশ জানায়। আশপাশের লোকজন তাকে গুরুতর দগ্ধ অবস্থায় উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে ভর্তি করেন।
চিকিৎসাধীন অবস্থায় ৪ অক্টোবর রাত ১টা ২৫ মিনিটে নিশা রানী মারা যান। পরে নিহতের পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে বংশাল থানায় মামলা করা হয়।
মামলার তদন্তে গোয়েন্দা তথ্য, সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা ও প্রযুক্তির সহায়তায় দুইজনকে শনাক্তের পর গ্রেফতার করা হয় বলে জানিয়েছে পুলিশ।
সোমবার (৫ অক্টোবর) সকাল সাড়ে ৬টার দিকে বংশাল থানা এলাকা থেকে মিনাক্ষী রানীকে এবং একই দিন রাত আনুমানিক সাড়ে ৩টার দিকে সিরাজগঞ্জের নাবিল হাইওয়ে হোটেল থেকে বিকি বাবুকে গ্রেফতার করা হয়।
গ্রেফতার দুজনকে আদালতে পাঠানো হয়েছে বলে জানিয়েছে বংশাল থানা পুলিশ।
তবে, মৃত নিশার পরিবারের সাথে কথা বললে তারা কোন তথ্য নিতে নাকচ করেন।













