বাপ্পা মজুমদার: তৃণমূল কংগ্রেস ছেড়ে ভারতীয় জনতা পার্টিতে (বিজেপি) যোগ দেওয়ার কারণ জানিয়েছেন টালিউড অভিনেত্রী ও সাবেক তৃণমূল রাজ্যসভা সদস্য কোয়েল মল্লিক। তাঁর বক্তব্য, গত কয়েক মাসে পশ্চিমবঙ্গে যে উন্নয়নমূলক কাজ হয়েছে, তা দেখে তিনি বিজেপিতে যোগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
আজ সোমবার (৫ অক্টোবর) কলকাতায় বিজেপির রাজ্য কার্যালয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে দলে যোগ দেওয়ার পর সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন কোয়েল। এর আগে রোববার পশ্চিমবঙ্গের রাজ্যসভা উপনির্বাচনে তাঁকে বিজেপির প্রার্থী করার ঘোষণা দেওয়া হয়।‘উন্নয়ন দেখে খুশি হয়েছি’।
বিজেপিতে যোগ দেওয়ার কারণ জানতে চাইলে কোয়েল বলেন, সাম্প্রতিক কয়েক মাসে রাজ্যে যে উন্নয়নের কাজ শুরু হয়েছে, তা দেখে তিনি আনন্দিত। বাংলার মানুষ ভালো থাকুক এবং তাদের জন্য আরও কাজের সুযোগ তৈরি হোক এটাই তাঁর প্রত্যাশা।
তিনি আরও বলেন, মানুষের সেবা করার ইচ্ছা থেকেই রাজনীতিতে তাঁর আগ্রহ। বিজেপিতে থেকে সেই কাজ করার সুযোগ পাবেন বলে মনে করছেন তিনি।
কোয়েল জানান, তিনি কোনো রাজনৈতিক দলের বিরুদ্ধে নেতিবাচক মন্তব্য করতে চান না। বরং নিজের দলের ইতিবাচক দিকগুলো তুলে ধরে মানুষের জন্য কাজ করতে চান।তৃণমূল থেকে রাজ্যসভা, এরপর পদত্যাগ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে তৃণমূল কংগ্রেসের মনোনয়নে রাজ্যসভার সদস্য নির্বাচিত হন কোয়েল মল্লিক।
৬ এপ্রিল তিনি উচ্চকক্ষে শপথ নেন। তবে কয়েক মাসের মধ্যেই, ১৬ জুলাই রাজ্যসভার সদস্যপদ থেকে পদত্যাগ করেন তিনি।এরপর থেকেই তাঁর পরবর্তী রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে জল্পনা শুরু হয়। অবশেষে বিজেপি তাঁকে পশ্চিমবঙ্গের একটি রাজ্যসভা আসনের উপনির্বাচনে প্রার্থী করার ঘোষণা দেয়।
এরপর সোমবার আনুষ্ঠানিকভাবে বিজেপিতে যোগ দেন তিনি।রাজ্যসভায় ফেরার পথে কোয়েলকোয়েল মল্লিকের ছেড়ে দেওয়া রাজ্যসভা আসনেই আগামী ১৬ অক্টোবর উপনির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। বিজেপির প্রার্থী হিসেবে তিনি ওই নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন।দলবদল নিয়ে সমালোচনার বিষয়ে কোয়েল বলেন, তাঁর প্রতি যারা নেতিবাচক মন্তব্য করছেন, তাদের প্রতি তাঁর কোনো ক্ষোভ নেই। তিনি নিজের সিদ্ধান্তকে মানুষের জন্য কাজ করার সুযোগ হিসেবে দেখছেন।
অভিনেত্রী জানান, ছোটবেলা থেকেই মানুষের জন্য কাজ করার আগ্রহ তাঁর মধ্যে ছিল। রাজনীতিতে সক্রিয় হয়ে পশ্চিমবঙ্গের উন্নয়ন ও কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রে অবদান রাখার ইচ্ছার কথাও তুলে ধরেন তিনি।কোয়েলের বিজেপিতে যোগদান এবং একই আসনে রাজ্যসভা উপনির্বাচনে প্রার্থী হওয়া পশ্চিমবঙ্গের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিবর্তনের মধ্যে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে।













