সারাদেশে চলছে ভ্যাপসা তাপদাহ, সাগরে গভীর নিম্নচাপ

প্রেসপয়েন্ট বিডি

প্রকাশ :সেপ্টেম্বর ২৯, ২০২৬

সারাদেশে চলছে ভ্যাপসা তাপদাহ, সাগরে গভীর নিম্নচাপ

জয়শ্রী রানী: উত্তর মেরু থেকে বাতাস আসা শুরু হয়েছে। ফলে উত্তরবঙ্গে ভোরে দেখা মিলছে হালকা কুয়াশার। তবে দক্ষিণের চিত্র ভিন্ন। এখানে তীব্র রোদ, বাতাসে জলীয়বাষ্পের আধিক্য এবং পর্যাপ্ত বৃষ্টির অভাবে দিনভর গরম অনুভূত হচ্ছে। এর মধ্যে বঙ্গোপসাগরের উত্তর আন্দামান সাগর ও মিয়ানমার উপকূলসংলগ্ন এলাকায় সৃষ্টি হওয়া গভীর নিম্নচাপ পরিস্থিতিকে আরও আলোচনায় এনেছে।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, উত্তর আন্দামান সাগর ও তৎসংলগ্ন মিয়ানমার উপকূলে অবস্থানরত নিম্নচাপটি ঘনীভূত হয়ে গভীর নিম্নচাপে পরিণত হয়েছে। এটি উত্তর-উত্তরপশ্চিম দিকে অগ্রসর হচ্ছে। তবে আবহাওয়াবিদদের মতে, সিস্টেমটির সরাসরি বড় ধরনের প্রভাব বাংলাদেশে পড়ার আশঙ্কা কম।

কেন এত ভ্যাপসা গরম?

আবহাওয়াবিদদের ব্যাখ্যা অনুযায়ী, সাগরে কোনো নিম্নচাপ বা আবহাওয়াগত সিস্টেম তৈরি হলে তার আশপাশের বায়ুপ্রবাহ ও আর্দ্রতার পরিস্থিতিতে পরিবর্তন আসে। বর্তমানে দেশের ওপর মৌসুমি বায়ু তুলনামূলকভাবে কম সক্রিয় থাকায় অনেক এলাকায় বৃষ্টির পরিমাণও কমেছে। ফলে বাতাসে আর্দ্রতা থাকলেও পর্যাপ্ত বৃষ্টি না হওয়ায় গরমের অনুভূতি বেড়ে যাচ্ছে।

সোমবার দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৩৭ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়েছে সিলেটে। একই দিনে ঢাকায় সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ৩৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস। তাপমাত্রার সঙ্গে বাতাসে আর্দ্রতা বেশি থাকায় বাস্তবে অনুভূত গরম আরও বেশি মনে হতে পারে।

আবহাওয়াবিদ মো. তরিফুল নেওয়াজ কবির জানিয়েছেন, সাগরে কোনো নিম্নচাপ বা আবহাওয়াগত সিস্টেম তৈরি হলে স্থলভাগে তুলনামূলক বেশি গরম অনুভূত হতে পারে। গত কয়েক দিনের ভ্যাপসা গরমের পেছনে এ ধরনের আবহাওয়াগত পরিবর্তনের ভূমিকা রয়েছে।

বৃষ্টি হলে কি কমবে অস্বস্তি?

আবহাওয়া অধিদপ্তরের পূর্বাভাস বলছে, আগামী কয়েক দিনে দেশের কিছু অঞ্চলে বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। মঙ্গলবার সন্ধ্যা পর্যন্ত চট্টগ্রাম বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। এরপরের ২৪ ঘণ্টায় চট্টগ্রাম বিভাগের অনেক জায়গায় এবং ঢাকা, খুলনা, বরিশাল ও সিলেট বিভাগের কিছু এলাকায় বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। চট্টগ্রাম বিভাগের কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারী বর্ষণও হতে পারে।

তবে এই বৃষ্টি পুরো দেশের গরম একসঙ্গে কমিয়ে দেবে—এমন নিশ্চয়তা নেই। কারণ দেশের অনেক এলাকায় আবহাওয়া প্রধানত শুষ্ক থাকার সম্ভাবনাও রয়েছে। ফলে অঞ্চলভেদে গরম ও অস্বস্তির মাত্রায় পার্থক্য থাকতে পারে।

স্বস্তি মিলবে কবে?

আবহাওয়া অধিদপ্তরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামী কয়েক দিনে উল্লেখযোগ্যভাবে তাপমাত্রা কমে যাওয়ার সম্ভাবনা নেই। তবে গভীর নিম্নচাপটি স্থলভাগে উঠে দুর্বল হয়ে গেলে এবং বায়ুপ্রবাহের ধরনে পরিবর্তন এলে পরিস্থিতিতে কিছুটা স্বস্তি আসতে পারে। বিশেষ করে চট্টগ্রামসহ দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে বৃষ্টির সম্ভাবনা থাকায় এসব এলাকায় সাময়িকভাবে গরমের অস্বস্তি কমতে পারে।

এদিকে গভীর নিম্নচাপের কারণে চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মোংলা ও পায়রা সমুদ্রবন্দরকে ১ নম্বর দূরবর্তী সতর্কসংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে। উত্তর বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারগুলোকে সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে।

সব মিলিয়ে, আপাতত ভ্যাপসা গরম থেকে স্বস্তির সবচেয়ে বড় সম্ভাবনা বৃষ্টির ওপরই নির্ভর করছে। আগামী কয়েক দিনে বিচ্ছিন্নভাবে বৃষ্টি বাড়লে অনেক এলাকায় অস্বস্তি কিছুটা কমতে পারে। তবে দেশজুড়ে টানা স্বস্তিদায়ক আবহাওয়া ফিরতে আরও কিছুটা সময় লাগতে পারে।

আরো পড়ুন

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সরাসরি আলোচনা নাকচ খামেনির