সেতু মাহমুদ: ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান উত্তেজনা কমাতে কূটনৈতিক তৎপরতা অব্যাহত থাকলেও ওয়াশিংটনের সঙ্গে সরাসরি আলোচনার পথে আপাতত যাচ্ছে না তেহরান। নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনকে ঘিরে নতুন করে আলোচনার সম্ভাবনা তৈরি হলেও ইরানের প্রতিনিধিদল যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সরাসরি বৈঠকে বসবে না বলে জানিয়েছে দেশটির রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম ।
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাকচির নেতৃত্বে দেশটির প্রতিনিধিদল নিউইয়র্কে অবস্থান করছে। তবে ইরানি কর্মকর্তাদের বক্তব্য অনুযায়ী, মার্কিন প্রতিনিধিদের সঙ্গে সরাসরি নতুন কোনো আলোচনা বা বৈঠকের পরিকল্পনা তাদের নেই। এর পরিবর্তে কাতারসহ মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে সর্বশেষ পরিস্থিতি এবং অমীমাংসিত বিষয়গুলো নিয়ে যোগাযোগ অব্যাহত রাখার পথ বেছে নিয়েছে তেহরান।
ইরানের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা আইআরএনএ জানিয়েছে, নিউইয়র্কে থাকা ইরানি প্রতিনিধিদলের যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সরাসরি আলোচনার পরিকল্পনা নেই। একই সঙ্গে ইরান জানিয়েছে, তাদের অবস্থান ও শর্তগুলো ইতোমধ্যে কাতারের মধ্যস্থতায় মার্কিন পক্ষের কাছে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে।
এদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এর আগে জানিয়েছিলেন, ইরানের সঙ্গে আলোচনা আবার শুরু হতে পারে। তবে তেহরানের পক্ষ থেকে দেওয়া সাত দিনের একটি প্রস্তাব তিনি প্রত্যাখ্যান করেছেন। ওই প্রস্তাবের সঙ্গে হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়ার বিষয়টি যুক্ত ছিল।
হরমুজ প্রণালি বর্তমান অচলাবস্থার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে উঠেছে। বিশ্বের জ্বালানি সরবরাহের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের অবস্থান পরস্পরবিরোধী। এর প্রভাব ইতোমধ্যে আন্তর্জাতিক তেলবাজারেও পড়ছে। রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, ২৯ সেপ্টেম্বর ব্রেন্ট অপরিশোধিত তেলের দাম ১ দশমিক ৪ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ১০৬ দশমিক ৭৭ ডলারে উঠেছিল।
এর আগে সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তারা মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে পরোক্ষ যোগাযোগ করেছিলেন। তখন ইরানের পক্ষ থেকে যুদ্ধ বন্ধ, যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক পদক্ষেপ বন্ধ এবং ইরানের জব্দ সম্পদ ছাড়সহ বিভিন্ন শর্ত তুলে ধরা হয়েছিল। তবে দুই দেশের অবস্থানের মধ্যে এখনও উল্লেখযোগ্য দূরত্ব রয়েছে।
ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনিও সাম্প্রতিক এক লিখিত বিবৃতিতে যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেছেন। ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে প্রচারিত ওই বিবৃতিতে তিনি বলেন, শত্রুপক্ষকে শেষ পর্যন্ত মধ্যপ্রাচ্য থেকে সরে যেতে হবে। হরমুজ প্রণালির পরিস্থিতি এবং আঞ্চলিক সামরিক সংঘাতের প্রেক্ষাপটে তার এই বক্তব্য তেহরানের কঠোর অবস্থানেরই ইঙ্গিত দিচ্ছে।
তবে সরাসরি আলোচনা নাকচ করা হলেও কূটনৈতিক যোগাযোগ পুরোপুরি বন্ধ হয়নি। কাতারসহ মধ্যস্থতাকারীরা ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে পৃথকভাবে যোগাযোগ চালিয়ে যাচ্ছে। আলোচনার সম্ভাব্য কাঠামোতে হরমুজ প্রণালি, নিষেধাজ্ঞা, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি এবং যুদ্ধবিরতির মতো বিষয়গুলো গুরুত্ব পেতে পারে। মার্কিন কর্মকর্তারাও জানিয়েছেন, পারমাণবিক ইস্যুতে তেহরানের কাছ থেকে বাস্তব অগ্রগতি পাওয়া গেলে নিষেধাজ্ঞা শিথিলের মতো পদক্ষেপ বিবেচনা করা হতে পারে।
ফলে সরাসরি বৈঠকের দরজা আপাতত বন্ধ থাকলেও মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে। আগামী দিনগুলোতে তেহরান ও ওয়াশিংটনের অবস্থান কতটা কাছাকাছি আসে এবং হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে অচলাবস্থা নিরসনে কোনো সমঝোতার পথ তৈরি হয় কি না, সেটিই এখন আন্তর্জাতিক কূটনীতির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন।














