নাবিলা কবির: আজ ২৫ সেপ্টেম্বর, বিশ্বব্যাপী পালিত হচ্ছে "বিশ্ব ফুসফুস দিবস"। প্রতিবছর এই দিনে ফুসফুসের স্বাস্থ্য সচেতনতা বৃদ্ধি ও শ্বাসযন্ত্রের বিভিন্ন রোগ প্রতিরোধে জনসচেতনতা তৈরির লক্ষ্যে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থাসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক স্বাস্থ্য সংগঠনের উদ্যোগে দিবসটি পালিত হয়ে থাকে।
চিকিৎসকদের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে বিশ্বজুড়ে প্রতি আটজনের মধ্যে একজন মানুষ কোনো না কোনো ফুসফুসজনিত রোগে ভুগছেন যা প্রায় ১০০ কোটি মানুষের সমান। এই প্রেক্ষাপটে দিনটি উপলক্ষে ফুসফুস সুস্থ রাখতে বিশেষজ্ঞরা বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ দিয়েছেন
ধূমপান ও পরোক্ষ ধূমপান থেকে দূরে থাকুন: ফুসফুস সুস্থ রাখার প্রথম ও সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ধাপ ধূমপান পরিহার। বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেন, শুধু ধূমপায়ী নন, পরোক্ষ ধূমপানের শিকার ব্যক্তি, বিশেষত শিশুরাও একই রকম ঝুঁকিতে থাকে। তাই বাড়ি ও কর্মস্থলে ধোঁয়ামুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করা জরুরি।
নিয়মিত শরীরচর্চা করুন: হাঁটা, জগিং কিংবা দৌড়ানো ফুসফুসের জন্য কার্যকর ব্যায়াম হিসেবে কাজ করে। প্রতিদিন অন্তত ১৫ থেকে ৩০ মিনিট দ্রুত হাঁটার পাশাপাশি শ্বাস-প্রশ্বাসের ব্যায়াম (ব্রিদিং এক্সারসাইজ), প্রাণায়াম ও মেডিটেশনও ফুসফুসের কার্যক্ষমতা বাড়াতে বিশেষভাবে সহায়ক। mohfw.gov.bd
সুষম খাদ্যাভ্যাস নিশ্চিত করুন: ভিটামিন এ, সি, ই, ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড এবং ম্যাগনেসিয়াম ও সেলেনিয়ামসমৃদ্ধ খাবার ফুসফুসের কার্যক্ষমতা বৃদ্ধিতে সহায়তা করে। এছাড়া লেবুজাতীয় ফল এবং টমেটোতে থাকা লাইকোপেন বায়ুদূষণের ক্ষতিকর প্রভাব থেকে ফুসফুসকে সুরক্ষা দেয়।
বায়ুদূষণ এড়িয়ে চলুন: দূষিত পরিবেশ ও ধুলাবালি এড়িয়ে চলা এবং প্রয়োজনে মানসম্মত মাস্ক ব্যবহার করা উচিত। ঘরে পর্যাপ্ত বায়ু চলাচলের ব্যবস্থা নিশ্চিত করাও গুরুত্বপূর্ণ।
সংক্রমণ প্রতিরোধ ও নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা: নিয়মিত হাত ধোয়া, হাঁচি-কাশির সঠিক শিষ্টাচার মেনে চলা এবং বয়স অনুযায়ী প্রয়োজনীয় টিকা গ্রহণের মাধ্যমে ফুসফুসের বিভিন্ন সংক্রমণ অনেকাংশে প্রতিরোধ করা সম্ভব। পাশাপাশি নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষার মাধ্যমে ফুসফুসের সমস্যা প্রাথমিক পর্যায়ে শনাক্ত করাও অত্যন্ত জরুরি।
চিকিৎসকরা বলছেন, ফুসফুসের যত্ন কোনো একদিনের বিষয় নয় বরং প্রতিদিনের অভ্যাসেই লুকিয়ে থাকে সুস্থ ফুসফুসের রহস্য। ধোঁয়ামুক্ত পরিবেশ, স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন এবং সময়মতো চিকিৎসাগ্রহণের মাধ্যমেই সম্ভব প্রতিটি শ্বাসকে আরও নিরাপদ করে তোলা।













