সাংস্কৃতিক সহযোগিতায় সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর করেছে বাংলাদেশ-রাশিয়া

প্রেসপয়েন্ট বিডি

প্রকাশ :সেপ্টেম্বর ২৪, ২০২৬

সাংস্কৃতিক সহযোগিতায় সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর করেছে বাংলাদেশ-রাশিয়া

জয়শ্রী রানী: বাংলাদেশ ও রাশিয়ার মধ্যে সাংস্কৃতিক সহযোগিতা আরও বিস্তৃত করার লক্ষ্যে একটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষরিত হয়েছে।

আজ বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) রাশিয়ার সেইন্ট পিটার্সবার্গে অনুষ্ঠিত দ্বাদশ সেইন্ট পিটার্সবার্গ ইন্টারন্যাশনাল ইউনাইটেড কালচারস ফোরামের আয়োজনে দুই দেশের মধ্যে এ সমঝোতা স্মারক সই হয়।

বাংলাদেশ সরকারের সংস্কৃতি মন্ত্রণালয় এবং রাশিয়ান ফেডারেশনের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মধ্যে এই চুক্তি সম্পন্ন হয়। বাংলাদেশের পক্ষে সমঝোতা স্মারকে স্বাক্ষর করেন সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী।

সমঝোতার আওতায় দুই দেশের মধ্যে সাংস্কৃতিক বিনিময়, ঐতিহ্য সংরক্ষণ, শিল্প ও সংস্কৃতি, জাদুঘর, প্রত্নতত্ত্ব এবং সৃজনশীল কর্মকাণ্ডে সহযোগিতার সুযোগ বাড়ানোর বিষয়গুলো গুরুত্ব পেয়েছে। এর মাধ্যমে দুই দেশের সাংস্কৃতিক অঙ্গনের প্রতিষ্ঠান ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের মধ্যে পারস্পরিক যোগাযোগ আরও বাড়ার সুযোগ তৈরি হতে পারে।

সেইন্ট পিটার্সবার্গে অনুষ্ঠিত আন্তর্জাতিক এই ফোরামে বাংলাদেশ তার বহুমাত্রিক সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যও তুলে ধরছে। বাংলাদেশের প্রত্নতাত্ত্বিক সম্পদ, লোকজ উৎসব, বাংলা সংগীত এবং পাহাড় ও সমতলের বিভিন্ন জনগোষ্ঠীর সংস্কৃতির বৈচিত্র্য আন্তর্জাতিক পরিসরে উপস্থাপনের সুযোগ তৈরি হয়েছে।

ফোরামের বিভিন্ন আয়োজনে বাংলাদেশের সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের বিভিন্ন দিক তুলে ধরার কর্মসূচিও রয়েছে। ২৫ সেপ্টেম্বর ‘ফোক আর্টিজান ক্রাফটওয়ার্ক রিবুটেড’ শীর্ষক একটি অধিবেশনে সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরীর বক্তব্য দেওয়ার কথা রয়েছে। সেখানে বাংলাদেশের লোকশিল্প ও ঐতিহ্যবাহী কারুশিল্পের সম্ভাবনা তুলে ধরার কথা রয়েছে।

এর আগে ফোরামের আয়োজনে বাংলাদেশের সংস্কৃতিমন্ত্রীর সঙ্গে মিয়ানমারের ধর্ম ও সংস্কৃতিমন্ত্রীরও সৌজন্য সাক্ষাৎ হয়েছে। সেখানে দুই দেশের প্রত্নতাত্ত্বিক ঐতিহ্য, বৌদ্ধ সংস্কৃতি এবং অভিন্ন ঐতিহাসিক বৈশিষ্ট্য নিয়ে আলোচনা হয়।

বাংলাদেশের তিন সদস্যের প্রতিনিধি দল সংস্কৃতিমন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরীর নেতৃত্বে এই আন্তর্জাতিক ফোরামে অংশ নিচ্ছে। ২৪ থেকে ২৬ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত চলা আয়োজনটিতে বাংলাদেশের অংশগ্রহণের মাধ্যমে দেশের সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্য আন্তর্জাতিক দর্শক ও অংশগ্রহণকারীদের সামনে তুলে ধরার সুযোগ তৈরি হয়েছে।

বাংলাদেশ ও রাশিয়ার মধ্যে সাংস্কৃতিক সহযোগিতার এই সমঝোতা দুই দেশের পারস্পরিক সাংস্কৃতিক যোগাযোগ, ঐতিহ্য সংরক্ষণ ও সৃজনশীল কর্মকাণ্ডে ভবিষ্যৎ সহযোগিতার একটি কাঠামো হিসেবে কাজ করবে বলে সংশ্লিষ্ট তথ্য থেকে জানা গেছে।

আরো পড়ুন...

টেকসই জ্বালানি রূপান্তরে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর