ডিসেম্বরে হরতালের হুঁশিয়ারি জেডিপির

প্রেসপয়েন্ট বিডি

প্রকাশ :সেপ্টেম্বর ২৪, ২০২৬

ডিসেম্বরে হরতালের হুঁশিয়ারি জেডিপির

অতিন বিশ্বাস: গণভোটের রায় ও জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়ন না হলে আগামী ডিসেম্বরে হরতাল কর্মসূচি দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে জাস্টিস অ্যান্ড ডেমোক্রেসি পার্টি (জেডিপি)। একই সঙ্গে দেশে হাম ও ডেঙ্গুর পরিস্থিতি নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেছে দলটি।

আজ বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর জাতীয় জাদুঘরের সামনে আয়োজিত এক প্রতিবাদ সভায় দলটির নেতারা এসব কথা বলেন। ‘জুলাইয়ের আকাঙ্ক্ষার আলোকে রাষ্ট্র পরিচালনায় ব্যর্থতা, জনবিরোধী আইন প্রণয়ন ও জনদুর্ভোগের বিরুদ্ধে’ শিরোনামে এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।

সভায় জেডিপির আহ্বায়ক নাঈম আহমাদ বলেন, গণভোটের রায় ও জুলাই সনদ বাস্তবায়নে কার্যকর পদক্ষেপ না নেওয়া হলে ডিসেম্বর মাসে হরতালের কর্মসূচি দেওয়া হতে পারে। তিনি একই সঙ্গে স্বাস্থ্য খাতের বিভিন্ন সংকট নিয়েও সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।

নাঈম আহমাদের দাবি, সরকারি হাসপাতালগুলোতে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক পদ শূন্য রয়েছে। জেলা পর্যায়ের হাসপাতালগুলোতে চিকিৎসক সংকটের কারণে চিকিৎসাসেবা ব্যাহত হচ্ছে বলেও তিনি অভিযোগ করেন। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, এ পরিস্থিতিতে অনেক রোগী উন্নত চিকিৎসার জন্য দেশের বাইরে যেতে বাধ্য হচ্ছেন।

সভায় দেশে চলমান হাম ও ডেঙ্গু পরিস্থিতি নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়। নাঈম আহমাদ দাবি করেন, হাম ও ডেঙ্গুতে আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছে এবং পরিস্থিতি মোকাবিলায় স্বাস্থ্য অবকাঠামো আরও কার্যকর করা প্রয়োজন। তিনি সতর্ক করে বলেন, সরকার পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থ হলে আক্রান্ত শিশুদের অভিভাবকেরা রাজপথে নেমে আসতে পারেন।

স্বাস্থ্য খাতের সাম্প্রতিক পরিস্থিতি নিয়ে বিভিন্ন প্রতিবেদনেও উদ্বেগের বিষয়টি উঠে এসেছে। বিডিনিউজ২৪-এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চলতি বছর দেশে হাম দ্রুত ছড়িয়েছে এবং এর মধ্যেই ডেঙ্গুর প্রকোপও বাড়ছে। জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা সমন্বিত ব্যবস্থা জোরদারের প্রয়োজনীয়তার কথা বলেছেন।

এদিকে রয়টার্সের সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সেপ্টেম্বরের শুরুতেই বাংলাদেশে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি ও মৃত্যুর সংখ্যা দ্রুত বাড়ছিল। একই সময়ে দেশকে হাম পরিস্থিতিও মোকাবিলা করতে হচ্ছে। হাসপাতালগুলোতে রোগীর চাপ বাড়ায় চিকিৎসাসেবা ব্যবস্থার ওপরও চাপ তৈরি হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।

প্রতিবাদ সভায় গণভোটের রায় বাস্তবায়নের বিষয়টিও গুরুত্ব পায়। গণভোট বাস্তবায়ন নাগরিক ফোরামের আহ্বায়ক ফাহিম মাশরুর অভিযোগ করেন, গণভোটের ফলকে যথাযথভাবে কার্যকর করা হচ্ছে না। তাঁর বক্তব্যে গণভোটের ফল এবং পরবর্তী সাংবিধানিক সংস্কার প্রক্রিয়া নিয়ে রাজনৈতিক মতপার্থক্যের বিষয়টি উঠে আসে।

সভায় নতুন সাইবার সুরক্ষা আইন এবং গুম প্রতিরোধ-সংক্রান্ত আইন নিয়েও সমালোচনা করেন বক্তারা। একই সঙ্গে জুলাই গণহত্যার বিচার, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি, সার ও জ্বালানি সংকট নিরসন এবং দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণের দাবিও জানানো হয়।

তবে জেডিপির হরতালের হুঁশিয়ারি দলটির রাজনৈতিক কর্মসূচি ও বক্তব্যের অংশ। এটি সরকারের পক্ষ থেকে গৃহীত কোনো সিদ্ধান্ত নয়। একইভাবে হাম ও ডেঙ্গু পরিস্থিতি নিয়ে দলটির নেতাদের বক্তব্যকে তাদের রাজনৈতিক দাবি ও উদ্বেগ হিসেবে বিবেচনা করতে হবে।

আরো পড়ুন...

সাংস্কৃতিক সহযোগিতায় সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর করেছে বাংলাদেশ-রাশিয়া