নাবিলা কবির: দেশের সরকারি হাসপাতালগুলোতে প্রয়োজনের তুলনায় চিকিৎসকের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে কম বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী।
বর্তমানে সরকারি স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানে ৩০ হাজার ৩১১ জন চিকিৎসক কর্মরত থাকলেও চিকিৎসাসেবা নির্বিঘ্ন রাখতে প্রয়োজন প্রায় ৮৮ হাজার ৯০৯ জন।
স্বাস্থ্যমন্ত্রীর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, সরকারি হাসপাতাল ও স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলোতে চিকিৎসকের এই ঘাটতি দেশের স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থার ওপর বাড়তি চাপ তৈরি করছে। স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়
বিপুলসংখ্যক রোগী প্রতিদিন সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসলেও তাদের অনুপাতে পর্যাপ্ত চিকিৎসক নিয়োগ দেওয়া সম্ভব হয়নি।
বিশেষ করে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের সরকারি হাসপাতালগুলোতে চিকিৎসক সংকটের বিষয়টি দীর্ঘদিন ধরে আলোচনায় রয়েছে।
এসব প্রতিষ্ঠানে প্রয়োজনীয় সংখ্যক চিকিৎসক না থাকায় কর্মরত চিকিৎসকদের ওপর অতিরিক্ত দায়িত্ব পড়ছে।
ফলে রোগীর চাপ সামলাতে গিয়ে চিকিৎসকদের দীর্ঘ সময় কাজ করতে হচ্ছে এবং অনেক ক্ষেত্রে কাঙ্ক্ষিত সেবা নিশ্চিত করাও কঠিন হয়ে পড়ছে।
স্বাস্থ্যসংশ্লিষ্টদের মতে, দেশের জনসংখ্যা বৃদ্ধি এবং স্বাস্থ্যসেবা গ্রহণের প্রবণতা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে চিকিৎসকের চাহিদাও দ্রুত বাড়ছে।
পাশাপাশি সরকারি হাসপাতালগুলোতে রোগীর চাপ তুলনামূলক বেশি হওয়ায় পর্যাপ্ত জনবল নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি।
চিকিৎসক সংকটের পাশাপাশি সরকারি স্বাস্থ্য খাতে নার্স, টেকনোলজিস্ট ও অন্যান্য সহায়ক জনবলের ঘাটতিও রয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করেন।
একটি হাসপাতালের কার্যকর চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে শুধু চিকিৎসক নিয়োগই যথেষ্ট নয়; প্রয়োজন পর্যাপ্ত নার্স,
মেডিকেল টেকনোলজিস্ট, ফার্মাসিস্ট এবং অন্যান্য স্বাস্থ্যকর্মীর সমন্বিত উপস্থিতি।
বিশেষজ্ঞদের মতে, চিকিৎসকের সংখ্যা বাড়ানোর পাশাপাশি তাদের সুষম বণ্টনের দিকেও নজর দেওয়া প্রয়োজন।
রাজধানী ও বড় শহরকেন্দ্রিক চিকিৎসকনির্ভরতা কমিয়ে প্রত্যন্ত অঞ্চল ও গ্রামীণ স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলোতে পর্যাপ্ত চিকিৎসক নিশ্চিত করা গেলে সাধারণ মানুষের স্বাস্থ্যসেবা পাওয়ার সুযোগ আরও বাড়বে।
সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসকের প্রয়োজনীয় সংখ্যা ৮৮ হাজার ৯০৯ জনের বিপরীতে বর্তমানে রয়েছেন ৩০ হাজার ৩১১ জন।
অর্থাৎ প্রয়োজনের তুলনায় এখনো প্রায় ৫৮ হাজার ৫৯৮ জন চিকিৎসকের ঘাটতি রয়েছে।
স্বাস্থ্য খাতে এই বিশাল জনবল ঘাটতি পূরণে নতুন চিকিৎসক নিয়োগ, পদ সৃষ্টি এবং প্রত্যন্ত অঞ্চলে চিকিৎসকদের কাজের উপযোগী পরিবেশ নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেওয়ার দাবি উঠছে।
একই সঙ্গে সরকারি হাসপাতালের অবকাঠামো ও অন্যান্য স্বাস্থ্যকর্মীর সংখ্যাও বাড়ানোর প্রয়োজন রয়েছে।
স্বাস্থ্যসেবা মানুষের মৌলিক অধিকারগুলোর একটি।
তাই সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসকের এই ঘাটতি দ্রুত কমিয়ে দেশের প্রত্যন্ত এলাকার মানুষসহ সব শ্রেণির নাগরিকের জন্য মানসম্মত
ও সহজলভ্য চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করা এখন বড় চ্যালেঞ্জ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।













