চট্টগ্রামে গ্যাসের দূর্ভোগ

প্রেসপয়েন্ট বিডি

প্রকাশ :আগস্ট ১৬, ২০২৬

চট্টগ্রামে গ্যাসের দূর্ভোগ

ডেস্ক রিপোর্ট: চট্টগ্রামে গ্যাসের দূর্ভোগ দিনদিন যেনো বেড়েই চলেছে। গত কদিন ধরে চট্টগ্রামে চলছে গ্যাসের হাহাকারই।

মহেশখালীর দুটি ভাসমান এলএনজি টার্মিনালের মধ্যে সামিট থেকে গ্যাস সরবরাহ শুরু হয়েছে। এক্সিলারেট এনার্জির টার্মিনাল থেকে আংশিক গ্যাস সরবরাহ চলছে।

গতকাল শনিবার সকালে চট্টগ্রামে ১২০ মিলিয়ন ঘনফুট এবং রাতে ১৫০ মিলিয়ন ঘনফুটের মতো গ্যাস সরবরাহ দেওয়া হয়েছে।

দেশের বৃহত্তম বন্দরনগরী চট্টগ্রামে দিন দিন তীব্র হচ্ছে গ্যাস সংকট। নগরীর অধিকাংশ আবাসিক এলাকায় দিনের বড় একটা সময় জ্বলছে না রান্নার চুলা।

বিশেষ করে সকাল ও দুপুরের সময়টায় গ্যাসের চাপ এতটাই কমে যাচ্ছে যে অনেক পরিবারকে বিকল্প উপায়ে রান্নার ব্যবস্থা করতে হচ্ছে।

গৃহিণীদের অভিযোগ, প্রতিদিন কখন গ্যাস আসবে আর কখন যাবে তার কোনো নির্দিষ্ট সময়সূচি নেই।

ফলে সংসারের দৈনন্দিন কাজকর্ম চালানো রীতিমতো চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। অনেকে বাধ্য হয়ে ছোট গ্যাস সিলিন্ডার

বা ইলেকট্রিক চুলার দিকে ঝুঁকছেন, যা বাড়তি খরচের বোঝা তৈরি করছে।

শুধু আবাসিক এলাকা নয়, সংকটের ছাপ পড়েছে পরিবহন খাতেও। নগরীর বিভিন্ন সিএনজি ফিলিং স্টেশনে দেখা যাচ্ছে দীর্ঘ যানজট।

ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে থেকেও অনেক অটোরিকশা ও গাড়িচালক প্রয়োজনীয় গ্যাস না পেয়ে ফিরে যাচ্ছেন।

এতে গণপরিবহন সংকট দেখা দিয়েছে, যার প্রভাব পড়ছে সাধারণ যাত্রীদের ওপর বেড়েছে ভাড়া, কমেছে গাড়ির সংখ্যা।

আবার শিল্পে সরবরাহ বাড়ালে বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো বন্ধ রাখতে হচ্ছে। সিএনজি রিফুয়েলিং স্টেশনগুলোতে গাড়ির লাইন কয়েক কিলোমিটার ছাড়িয়ে যাচ্ছে।

দেশের অন্যতম প্রধান শিল্প ও বন্দরনগরী হিসেবে চট্টগ্রামে বিদ্যুৎ, সার, স্টিল, সিমেন্ট, পোশাক, কাচ, জাহাজ নির্মাণসহ বিভিন্ন শিল্পে বিপুল পরিমাণ গ্যাস প্রয়োজন।

শিল্প-কারখানার মালিকরাও এই সংকটে বিপাকে পড়েছেন। পর্যাপ্ত গ্যাস না পাওয়ায় অনেক কারখানা তাদের স্বাভাবিক উৎপাদন ক্ষমতার একটি অংশ নিয়েই চলছে।

এতে রপ্তানিমুখী শিল্প প্রতিষ্ঠানগুলো নির্ধারিত সময়ে পণ্য সরবরাহ করতে না পারার শঙ্কায় রয়েছে, যা দেশের অর্থনীতির জন্যও উদ্বেগের বিষয়।

এই সংকটের রেশ গিয়ে পড়েছে বিদ্যুৎ উৎপাদনেও।

গ্যাসনির্ভর বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো পূর্ণ সক্ষমতায় উৎপাদন করতে না পারায় নগরীতে বেড়েছে লোডশেডিং, যা জনদুর্ভোগকে আরও তীব্র করে তুলেছে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এই সংকট দীর্ঘস্থায়ী হলে চট্টগ্রামের বাণিজ্যিক কর্মকাণ্ড ও সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ওপর এর নেতিবাচক প্রভাব আরও গভীর হতে পারে।

দ্রুত টেকসই সমাধানের দাবি জানিয়েছেন নগরবাসী ও ব্যবসায়ীরা, যাতে স্বাভাবিক জনজীবন ও অর্থনৈতিক কার্যক্রম পুনরায় সচল হয়। Petrobangla

পেট্রোবাংলার দায়িত্বশীল একজন কর্মকর্তা বলেন, এর আগে আসা ‘আল হামরা’ নামের এলএনজিবাহী জাহাজটি সামিটের টার্মিনালে খালাসের ক্ষেত্রে জাহাজটির উপযোগিতা ও নিরাপত্তা নিয়ে আপত্তি ছিল।

গত ২১ জুলাই মহেশখালীতে এঙিলারেট পরিচালিত এলএনজি টার্মিনালে আগুনের ঘটনা ঘটে ফলে বয়লার পরিচালনার সঙ্গে যুক্ত বৈদ্যুতিক তার ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং টার্মিনালটি বন্ধ হয়ে যায়।

বর্তমানে সেখান থেকে ৩০০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ হচ্ছে যা পূর্ণ সরবরাহ প্রায় অর্ধেক।

অন্যদিকে, সামিট টার্মিনাল বন্ধ হয়ে যাওয়ায় গ্যাস সরবরাহ ব্যবস্থায় বড় সংকট তৈরি হয়।

ফলে বিদ্যুৎকেন্দ্রে গ্যাস সরবরাহ কমে যাওয়ার পাশাপাশি শিল্পকারখানায় উৎপাদন ব্যাহত হয়। চট্টগ্রামের বিভিন্ন এলাকায় গ্যাসের চাপ কমে যায়।

সিএনজি স্টেশনগুলোতেও দীর্ঘ অপেক্ষা তৈরি হয়। বাসাবাড়িতেও গ্যাসের চুলা বন্ধ হয়ে যায়।

দেশীয় উৎপাদন ও আমদানি করা এলএনজি মিলিয়ে স্বাভাবিক সময়ে জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ থাকে প্রায় ২ হাজার ৬০০ মিলিয়ন ঘনফুট।

মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের কারণে কাতার থেকে দীর্ঘমেয়াদি চুক্তির আওতায় এলএনজি সরবরাহে বাধা তৈরি হয়েছে।

আবার শিল্পে সরবরাহ বাড়ালে বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো বন্ধ রাখতে হচ্ছে। সিএনজি রিফুয়েলিং স্টেশনগুলোতে গাড়ির লাইন কয়েক কিলোমিটার ছাড়িয়ে যাচ্ছে।

দেশের অন্যতম প্রধান শিল্প ও বন্দরনগরী হিসেবে চট্টগ্রামে বিদ্যুৎ, সার, স্টিল, সিমেন্ট, পোশাক, কাচ, জাহাজ নির্মাণসহ বিভিন্ন শিল্পে বিপুল পরিমাণ গ্যাস প্রয়োজন।

-প্রেসপয়েন্টবিডি/জাতীয়

আরো পড়ুন….. 

প্রধানমন্ত্রীর কিশোরগঞ্জ সফর