ডেস্ক রিপোর্ট: প্লাস্টিক মাটিতে ২ বছরে সম্পূর্ণরূপে পচে যায় ঠিক এমনটাই বলছে গবেষণা।
বিশ্বের সবচেয়ে দীর্ঘস্থায়ী কিছু প্লাস্টিককে হয়তো শেষ পর্যন্ত পরিবেশে শত শত বছর ধরে থাকতে হবে না।
মাটির নিচে প্রক্রিয়াজাত প্লাস্টিক ২ বছরের মধ্যে সম্পূর্ণ গলে মাটির সাথে মিশ যায় বলে দাবি করেছে মালেশিয়ার একদল গবেষক।
মালয়েশিয়ার নেতৃত্বে একটি আন্তর্জাতিক গবেষণা দল বলছে, প্রক্রিয়াজাত পলিথিন এবং পলিপ্রোপিলিন দুই বছরের মধ্যে মাটিতে সম্পূর্ণরূপে ভেঙে যায়।
এই প্রক্রিয়ায় কোনো মাইক্রোপ্লাস্টিক তৈরি হয় না বলেও জানান তারা।
গবেষণাটি মালয়েশিয়ার স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিয়াল রিসার্চ ইনস্টিটিউট (সিরিম), যুক্তরাজ্যের ইম্পেরিয়াল কলেজ লন্ডন এবং বায়োটেকনোলজি প্রতিষ্ঠান পলিমেটেরিয়া এর যৌথ উদ্যাগে পরিচালিত হয়েছে।
গবেষণার ফলাফল প্রকাশিত হয়েছে ম্যাটেরিয়ালস ডিগ্রেডেশন সাময়িকীর একটি বিশেষ সংখ্যায়।
মালয়েশিয়ার সংবাদমাধ্যম নিউ স্ট্রেইটস টাইমসে এই খবর প্রকাশিত হয়েছে।
গবেষণার মূল কথা
গবেষকরা পলিইথিলিন ও পলিপ্রোপিলিন বা প্যাকেজিং ও ব্যাগ তৈরিতে বহুল ব্যবহৃত দুই ধরনের প্লাস্টিক নিয়ে পরীক্ষা চালান।
তবে সাধারণ প্লাস্টিকের বদলে এতে ব্যবহার করা হয়েছিল পলিমেটেরিয়া কোম্পানির উদ্ভাবিত "বায়োট্রান্সফরমেশন" প্রযুক্তিতে প্রক্রিয়াজাত বিশেষ প্লাস্টিক।
প্রকৃতিতে উন্মুক্ত হওয়ার পর এই প্লাস্টিক ধীরে ধীরে একধরনের "জৈব-প্রাপ্য মোম"-এ রূপান্তরিত হয়।
এরপর মাটির স্বাভাবিক অণুজীবরা এই মোমকে প্রাকৃতিক তেল বা মাখনের মতোই খেয়ে ফেলে, ফলে কোনো ক্ষতিকর অবশিষ্টাংশ থাকে না।
গবেষকদের দাবি, এই প্রক্রিয়ার জন্য কোনো বিশেষ শিল্প-কম্পোস্টিং ব্যবস্থার প্রয়োজন হয়নি সাধারণ মাটির পরিবেশেই এটি ঘটেছে।
বিশ্বব্যাপী প্রতি বছর উৎপাদিত প্লাস্টিক প্যাকেজিং বর্জ্যের প্রায় ৩২ শতাংশ পরিবেশে ছড়িয়ে পড়ে বলে জানানো হয়েছে গবেষণায়।
অন্যদিকে, সিরিম-এর সিনিয়র গবেষক মুহাম্মদ জুহায়র জুল হাইমি বলেছেন, এই ফলাফলগুলো দেখায় কেন শক্তিশালী বর্জ্য ব্যবস্থাপনার পাশাপাশি উপকরণের উদ্ভাবনও প্রসারিত হওয়া উচিত।
উন্নত মানের প্লাস্টিক সাহায্য করতে পারে, কিন্তু একইভাবে বর্জ্য কমানো, পণ্যের পুনঃব্যবহার এবং পুনর্ব্যবহার ব্যবস্থার উন্নতিও সহায়ক হতে পারে।
এই বিপুল পরিমাণ বর্জ্যের একটি বড় অংশ যদি এই ধরনের বায়োডিগ্রেডেবল প্রযুক্তিতে তৈরি হয়, তাহলে মাটি ও জলাশয়ে প্লাস্টিক দূষণ উল্লেখযোগ্যভাবে কমতে পারে বলে মনে করছেন গবেষকরা।
তবে গবেষকরা এই প্রযুক্তিকে সব সমস্যার সমাধান হিসেবে না দেখিয়ে বরং একটি ব্যবহারিক বিকল্প হিসেবে উপস্থাপন করেছেন।
এটি ভোক্তা ও ব্র্যান্ডগুলোর জন্য প্লাস্টিক ব্যবহারের ধরন সম্পূর্ণ বদলে না দিয়েই একটি বাড়তি টেকসই বিকল্প হতে পারে।
সাধারণ বাজারে প্রচলিত অ-প্রক্রিয়াজাত প্লাস্টিক মাটিতে ভাঙতে অনেক বেশি সময় নেয়।
বিশেষজ্ঞদের হিসাব অনুযায়ী, সাধারণ পিইটি (পলিইথিলিন টেরেফথালেট) দিয়ে তৈরি পানির বোতল সম্পূর্ণ পচতে প্রায় ৪৫০ বছর সময় লাগতে পারে।
এমনকি একটি পৃথক গবেষণায় দেখা গেছে, মাটির গভীরে পুঁতে রাখা পিইটি শিট তিন বছরেও কার্যত অপরিবর্তিত থেকে গেছে।
নতুন এই আবিষ্কার আশার আলো হলেও তা কেবল বিশেষভাবে তৈরি প্লাস্টিকের ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য যা বাজারে প্রচলিত সাধারণ প্লাস্টিক পণ্যের জন্য নয়।
ভবিষ্যতে এই প্রযুক্তি বাণিজ্যিকভাবে ব্যাপক আকারে ব্যবহৃত হলে তা প্লাস্টিক দূষণ মোকাবিলায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
-প্রেসপয়েন্টবিডি/আন্তর্জাতিক













