নিজস্ব প্রতিবেদক, নাবিলা কবির: রানি পেলো সম্মানসূচক ডক্টরেট।
ভারতীয় চলচ্চিত্রের রানি মুখার্জি আলোকিত হীরকের নাম।
ব্যাঙ্গল বিউটি খ্যাত এই অভিনেত্রীর অভিনয় প্রতিভার জাদুকরী স্পর্শে গত তিন দশকে তিনি নিজেকে নিয়ে গেছেন এক অনন্য উচ্চতায়।
সেই সাফল্যের ধারাবাহিকতায় এবার বিশ্বমঞ্চ থেকে এল এক বিশাল স্বীকৃতি।
অস্ট্রেলিয়ার নামকরা ‘লা ট্রোব বিশ্ববিদ্যালয়’ রানি মুখার্জিকে সম্মানসূচক ‘ডক্টর অফ লেটারস’ (D.Litt) উপাধিতে ভূষিত করেছে।
‘ইন্ডিয়ান ফিল্ম ফেস্টিভ্যাল অফ মেলবোর্ন’ (IFFM)-এর মঞ্চে এই বিশেষ সম্মাননা প্রদান করা হয়।
এই অর্জন কোনো ছোটখাটো বিষয় নয়। লা ট্রোব বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো একটি আন্তর্জাতিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান যখন একজন অভিনেত্রীকে এই উচ্চ সম্মান প্রদান করে,
তখন তা বিশ্বজুড়ে ভারতীয় চলচ্চিত্রের জয়গানের সমতুল্য হয়ে ওঠে।
উল্লেখ্য যে, এই তালিকায় শাহরুখ খানের মতো মহাতারকাদের নাম রয়েছে। ২০১৯ সালে শাহরুখ খান এই স্বীকৃতি পেয়েছিলেন। এবার সেই একই উচ্চতায় নিজের জায়গা করে নিলেন রানি মুখার্জি।
কেন রানি মুখার্জি?
রানি মুখার্জি কেবল একজন অভিনেত্রী নন, তিনি একজন সমাজসচেতন শিল্পী।
‘ব্ল্যাক’ সিনেমায় একজন দৃষ্টি ও বাকপ্রতিবন্ধী মেয়ের সংগ্রামের গল্প হোক, কিংবা
‘হিচকি’ সিনেমায় টুরেট সিনড্রোমে আক্রান্ত শিক্ষিকার লড়াই রানি বারবার তার অভিনয়ের মাধ্যমে সামাজিক কুসংস্কারের বিরুদ্ধে কথা বলেছেন।
‘মর্দানি’ সিরিজের সিনেমাগুলোতে তিনি নারীর সাহসিকতাকে নতুন সংজ্ঞায়িত করেছেন।
এই সম্মাননা কেবল তার সিনেমার সাফল্যের জন্য নয়, বরং তার দীর্ঘ ক্যারিয়ারে যে ধরনের সাহসী
এবং প্রভাবশালী চরিত্রে তিনি কাজ করেছেন, তার স্বীকৃতি হিসেবেই তাকে এই সম্মান জানানো হয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয়টির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, রানি মুখার্জি গত তিন দশক ধরে চলচ্চিত্র শিল্পের মাধ্যমে যে সামাজিক পরিবর্তনের বার্তা দিয়েছেন
এবং নারী ক্ষমতায়নের পক্ষে যে সাহসী অবস্থান নিয়েছেন, তা বিশ্বজুড়ে প্রশংসিত।
একজন শিল্পী হিসেবে মানুষের জীবনের গভীরে পৌঁছে যাওয়ার ক্ষমতা তার অসাধারণ।
অনুষ্ঠানের আবহ ও অনুভূতি মেলবোর্নের এই বিশেষ অনুষ্ঠানে রানি মুখার্জির উপস্থিতিও ছিল দেখার মতো।
তাকে যখন ডক্টরেট উপাধি দেওয়া হয়, তখন পুরো প্রেক্ষাগৃহ করতালি আর ভালোবাসায় ফেটে পড়েছিল।
মঞ্চে দাঁড়িয়ে রানি তার অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে বলেন, “এটি আমার জীবনের অন্যতম সেরা প্রাপ্তি। লা ট্রোব বিশ্ববিদ্যালয়ের এই উদারতা আমার হৃদয়ে আজীবন গাঁথা থাকবে।”
তিনি আরও বলেন যে, তার এই দীর্ঘ যাত্রায় অনেক চড়াই-উতরাই ছিল, কিন্তু মানুষের ভালোবাসা
এবং তাদের সাপোর্টই তাকে বারবার লড়াই করার শক্তি জুগিয়েছে।
একজন অনুপ্রেরণা রানি মুখার্জির এই সম্মাননা কেবল তার ব্যক্তিগত অর্জন নয়, এটি সেই সব নারীদের জন্য একটি বড় উদাহরণ যারা নিজেদের স্বপ্ন পূরণে অনড়।
ভারতীয় চলচ্চিত্রের এমন একজন অভিনেত্রী, যিনি গ্ল্যামারের বাইরে গিয়েও চরিত্রকে বাস্তব করে তোলার জন্য পরিশ্রম করেছেন,
তিনি যখন এমন আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি পান, তখন তা নতুন প্রজন্মের অভিনয়শিল্পীদের জন্য বড় অনুপ্রেরণা হয়ে দাঁড়ায়।
মেলবোর্নের সেই উৎসবমুখর বিকেলে রানি মুখার্জি আবারও প্রমাণ করলেন, তার ক্যারিয়ারের বয়স বা সময় কোনো বাধা নয়, বরং কাজের গুণমান এবং দায়বদ্ধতাই একজন শিল্পীকে অমর করে রাখে।
ভারতীয় চলচ্চিত্রের ইতিহাসে রানি মুখার্জির এই ডক্টরেট পাওয়ার ঘটনাটি স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে।
আজ রানি কেবল পর্দা নয়, বরং শিক্ষার এই উচ্চমঞ্চেও নিজেকে এক নতুন রূপে প্রতিষ্ঠিত করলেন। মেলবোর্নের সেই মুহূর্তটি ছিল অভিনয়ের পাশাপাশি প্রকৃত প্রতিভার এক মহোৎসব।
-প্রেসপয়েন্টবিডি/আন্তর্জাতিক













