আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
মালদ্বীপে কর্মরত বিদেশি নাগরিকদের মধ্যে প্রায় ৯৮ শতাংশের বায়োমেট্রিক নিবন্ধন সম্পন্ন হয়েছে। একই সঙ্গে দেশটিতে অনথিভুক্ত বাংলাদেশি কর্মীদের নিয়মিতকরণ, তাঁদের কর্মপরিবেশ ও আইনি সুরক্ষা এবং বেতন-রেমিট্যান্সসংক্রান্ত সুবিধা নিয়ে আলোচনা হয়েছে বাংলাদেশ ও মালদ্বীপের উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে।
বুধবার (৪ নভেম্বর) মালদ্বীপের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আলী ইহুসানের সঙ্গে বাংলাদেশের হাইকমিশনার ড. মো. নাজমুল ইসলামের বৈঠকে এসব বিষয় নিয়ে কথা হয়। এতে স্বরাষ্ট্র, শ্রম ও প্রযুক্তি খাতের সংশ্লিষ্ট বিষয় ছাড়াও প্রবাসীদের জীবনমান উন্নয়ন এবং দুই দেশের সরকারি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সহযোগিতা জোরদারের প্রসঙ্গ উঠে আসে।
বৈঠকে আলী ইহুসান জানান, দেশটিতে কর্মরত বিদেশি নাগরিকদের প্রায় ৯৮ শতাংশের বায়োমেট্রিক তথ্য সংগ্রহ ও নিবন্ধন শেষ হয়েছে। এ কার্যক্রমের অগ্রগতিতে মালদ্বীপ সরকারকে অভিনন্দন জানান হাইকমিশনার। তাঁর মতে, বায়োমেট্রিক তথ্যের মাধ্যমে বিদেশি কর্মীদের পরিচয় ও চাকরিসংক্রান্ত তথ্য যাচাই সহজ হবে। পাশাপাশি নিয়মিতকরণ এবং সরকারি সেবা পাওয়ার ক্ষেত্রেও এটি সহায়ক হবে।
অনথিভুক্ত বাংলাদেশি কর্মীদের বৈধভাবে কাজ করার সুযোগ নিয়েও বৈঠকে আলোচনা হয়। মালদ্বীপের মন্ত্রী জানান, নিয়মিতকরণ কার্যক্রমের নির্ধারিত সময় শেষ হলেও বর্তমানে কোনো প্রতিষ্ঠানে কর্মরত বিদেশি কর্মীদের কাগজপত্র অসম্পূর্ণ থাকলে তাঁদের বৈধ হওয়ার সুযোগ থাকতে পারে। এ ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট নিয়োগকর্তাকে ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষ, লেবার রিলেশনস অথরিটি কিংবা সিটি কাউন্সিলের সঙ্গে যোগাযোগ করতে হবে।
এ ধরনের সুযোগ সম্পর্কে প্রবাসী কর্মী ও নিয়োগকর্তাদের অবহিত করার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন হাইকমিশনার। কর্মীদের কর্মস্থল ছেড়ে নিখোঁজ হওয়া এবং নিয়োগচুক্তি অনুযায়ী কাজের ব্যবস্থা না করার মতো ঘটনায় সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে জরিমানাসহ ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়টিও আলোচনায় আসে।
বৈঠকে বাংলাদেশি কর্মীদের উপার্জিত অর্থ দেশে পাঠানোর প্রক্রিয়া আরও সহজ ও সাশ্রয়ী করার প্রস্তাব দেন হাইকমিশনার। তিনি বলেন, প্রবাসে কাজ করা অধিকাংশ বাংলাদেশির আয়ের ওপর তাঁদের পরিবারের আর্থিক নিরাপত্তা নির্ভর করে। তাই নিরাপদ ব্যাংকিং ব্যবস্থায় কম খরচে রেমিট্যান্স পাঠানো এবং প্রবাসীদের ব্যাংক হিসাব খোলার সুযোগ বাড়ানো জরুরি। নিয়োগচুক্তিতে নির্ধারিত শর্ত ও বৈদেশিক মুদ্রার বিনিময় হার অনুযায়ী বেতন পরিশোধের বিষয়টিও আলোচনায় স্থান পায়।
প্রবাসীদের বিভিন্ন সমস্যা সমাধানে দুই দেশের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও প্রতিষ্ঠানের মধ্যে নিয়মিত যোগাযোগের ব্যবস্থা গড়ে তোলার বিষয়ে উভয় পক্ষ সম্মতি জানায়। মালদ্বীপের বিভিন্ন দ্বীপে থাকা অনথিভুক্ত বাংলাদেশিদের তথ্য আদান-প্রদান এবং তাঁদের সচেতন করতে যৌথ উদ্যোগ নেওয়ার বিষয়েও আলোচনা হয়। এসব কার্যক্রমে নিবন্ধন, নিয়মিতকরণ, কর্মীদের অধিকার ও দায়িত্ব এবং প্রতারণা থেকে সতর্ক থাকার বিষয়ে প্রচার চালানোর কথা রয়েছে।
বৈঠক শেষে হাইকমিশনার দুই দেশের মধ্যে প্রাতিষ্ঠানিক সহযোগিতা বাড়ানোর উদ্যোগকে স্বাগত জানান। নিয়মিত তথ্য বিনিময় ও সমন্বয়ের মাধ্যমে মালদ্বীপে বাংলাদেশি কর্মীদের অধিকার, নিরাপত্তা ও কল্যাণ নিশ্চিত করার পাশাপাশি তাঁদের বিভিন্ন সমস্যা সমাধান সহজ হবে বলে উভয় পক্ষ আশাবাদ ব্যক্ত করে।














