এক ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতির লক্ষ্য

Ahmed Siam

প্রকাশ :অক্টোবর ২৮, ২০২৬

নিজস্ব প্রতিবেদক:

আগামী আট বছরের মধ্যে বাংলাদেশের অর্থনীতির আকার এক ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলার ছাড়িয়ে যাওয়ার আশা প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, ২০৩৪ সালের মধ্যে দেশের বার্ষিক জিডিপি এ পর্যায়ে পৌঁছাতে পারে। পাশাপাশি ২০৩০ সালের মধ্যে বাংলাদেশ বিশ্বের নবম বৃহত্তম ভোক্তা অর্থনীতিতে পরিণত হবে বলে তাঁর প্রত্যাশা।

জাপান সফরকালে বুধবার (২৮ অক্টোবর) টোকিওতে অনুষ্ঠিত ‘বাংলাদেশ-জাপান ইকোনমিক ফোরাম ডায়ালগ’-এ এসব কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী। জাপান এক্সটার্নাল ট্রেড অর্গানাইজেশনের (জেট্রো) কার্যালয়ে আয়োজিত অনুষ্ঠানে তিনি মূল বক্তব্য দেন। প্রধানমন্ত্রীর প্রেস উইং এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের ১৮ কোটির বেশি মানুষের বাজার এবং বিপুলসংখ্যক তরুণ কর্মক্ষম জনগোষ্ঠী অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির বড় সম্ভাবনা তৈরি করেছে। এ সুযোগ কাজে লাগাতে জাপানি বিনিয়োগ বাড়ানো এবং দুই দেশের অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব আরও শক্তিশালী করা জরুরি।

সম্প্রতি বাংলাদেশ ও জাপানের মধ্যে স্বাক্ষরিত অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তিকে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে তুলে ধরেন তিনি। চুক্তির ফলে বাংলাদেশের ৭ হাজার ৩৩৭টি পণ্য জাপানের বাজারে শুল্কমুক্ত সুবিধা পাবে বলে জানান প্রধানমন্ত্রী। এতে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য সম্প্রসারণের পাশাপাশি নতুন বিনিয়োগের পথ খুলবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

জাপানি উদ্যোক্তাদের বিনিয়োগে উৎসাহিত করতে দেশের ব্যবসার পরিবেশ উন্নয়নের বিষয়েও কথা বলেন তারেক রহমান। তিনি জানান, নির্ভরযোগ্য জ্বালানি সরবরাহ, অবকাঠামোগত উন্নয়ন এবং কাস্টমস ও করব্যবস্থা সহজ করার মাধ্যমে বিনিয়োগকারীদের দীর্ঘদিনের সমস্যাগুলো সমাধানে সরকার কাজ করছে।

নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজারে জাপানি অর্থনৈতিক অঞ্চলের উদাহরণ তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী আরও বেশি জাপানি বিনিয়োগের আহ্বান জানান। বিশেষ করে নবায়নযোগ্য জ্বালানি, বিদ্যুৎ উৎপাদনের দক্ষ প্রযুক্তি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, ক্লাউড কম্পিউটিং ও রোবোটিকস খাতে বিনিয়োগের সম্ভাবনার কথা উল্লেখ করেন তিনি।

এ ছাড়া বাংলাদেশ-জাপান প্রযুক্তি পার্ক গড়ে তোলা এবং মহাকাশবিজ্ঞান ও উপগ্রহ প্রকৌশলে যৌথভাবে কাজ করার প্রস্তাব দেন প্রধানমন্ত্রী। দেশের ছয়টি প্রধান বিভাগীয় শহরের মধ্যে যোগাযোগ বাড়াতে এলিভেটেড হাইওয়ে ও উচ্চগতির রেল নেটওয়ার্ক নির্মাণের পরিকল্পনায়ও জাপানের সহযোগিতা চান তিনি।

বাংলাদেশি তরুণদের জাপানি ভাষা শেখার সুযোগ বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দিয়ে তারেক রহমান বলেন, এতে জাপানের সঙ্গে ব্যবসা, কর্মসংস্থান ও সাংস্কৃতিক যোগাযোগ আরও সহজ হবে।

বক্তব্যের শেষ দিকে জাপানকে বাংলাদেশের দীর্ঘদিনের বিশ্বস্ত বন্ধু হিসেবে উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী। বাংলাদেশের অর্থনৈতিক সম্ভাবনা কাজে লাগাতে দেশটির উদ্যোক্তাদের নতুন শিল্প স্থাপন ও বিনিয়োগ বাড়ানোর আহ্বান জানান তিনি।

Google News-এ Press Point BD-এর খবর দেখুন আমাদের সর্বশেষ সংবাদ ও প্রতিবেদন Google News-এ পড়ুন।