মানবিকতার দৃষ্টান্ত রেখে সাতকানিয়া ছাড়লেন ইউএনও খোন্দকার মাহমুদুল হাসান, অশ্রু আর ভালোবাসায় বিদায় জানালো উপজেলাবাসী

shohrab russel

প্রকাশ :আগস্ট ২৮, ২০২৬

মানবিকতার দৃষ্টান্ত রেখে সাতকানিয়া ছাড়লেন ইউএনও খোন্দকার মাহমুদুল হাসান

মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ মামুন সোহান, চট্টগ্রাম প্রতিনিধি: বদলির আদেশে সাতকানিয়া উপজেলা ছেড়ে যাচ্ছেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার জনাব খোন্দকার মাহমুদুল হাসান।

তার বিদায়ের খবরে পুরো উপজেলায় নেমে এসেছে বিষাদের ছায়া।

পদাধিকারবলে অনেকেই সরকারি কর্মকর্তা হন, কিন্তু হৃদয়ের উষ্ণতা আর আন্তরিকতা দিয়ে সাধারণ মানুষের মনে স্থায়ী আসন গড়তে পারেন হাতে গোনা কয়েকজন। খোন্দকার মাহমুদুল হাসান ছিলেন সেই বিরল ব্যক্তিত্বদের একজন, যিনি চেয়ারের ক্ষমতা নয়, মানুষের ভালোবাসা দিয়ে রাজত্ব করেছেন সাতকানিয়াবাসীর মনে।

উপজেলা প্রশাসন সাতকানিয়া এবং সাতকানিয়া-লোহাগাড়া মানবিক ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে বলা হয়, তিনি কেবল একজন সরকারি কর্মকর্তা ছিলেন না।

ছিলেন হাজারো গরিব, অসহায় ও বিপদগ্রস্ত মানুষের শেষ আশ্রয়স্থল।

তার প্রতিটি পদক্ষেপে ফুটে উঠেছে মানবিকতার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত যা আগামী দিনগুলোতেও সাতকানিয়াবাসীকে অনুপ্রেরণা জোগাবে।

সাম্প্রতিক সময়ে ঘটে যাওয়া ভয়াবহ বন্যার কথা স্মরণ করে বিবৃতিতে বলা হয়, যখন চারদিকে পানি আর মানুষের হাহাকার, তখন নিজের জীবনের ঝুঁকি উপেক্ষা করে তিনি ছুটে গেছেন প্রত্যন্ত অঞ্চলের প্রতিটি বাড়িতে।

সরকারি নিয়মের বাইরে গিয়ে রাত-দিন পরিশ্রম করে ত্রাণ, বিশুদ্ধ পানি ও প্রয়োজনীয় ওষুধ পৌঁছে দিয়েছেন দুর্গত মানুষের দোরগোড়ায়।

তার সেই দিনগুলোর ত্যাগ আর পরিশ্রমের কথা আজও কৃতজ্ঞচিত্তে স্মরণ করছে উপজেলাবাসী।

শুধু দুর্যোগ নয়, শিক্ষাক্ষেত্রেও তিনি রেখেছেন অনন্য অবদান।

অর্থের অভাবে যেন কোনো মেধাবী শিক্ষার্থীর স্বপ্ন থেমে না যায়, সে বিষয়ে তিনি ছিলেন অত্যন্ত সচেতন।

এমন অসংখ্য গরিব ও মেধাবী শিক্ষার্থীর পড়াশোনার দায়িত্ব নিজ কাঁধে তুলে নিয়েছেন তিনি।

কারও বই-খাতার ব্যবস্থা, কারও টিউশন ফি আবার কাউকে উচ্চ শিক্ষার পথ দেখানো সবকিছুতেই ছিল তার প্রত্যক্ষ সহযোগিতা।

কতজন শিক্ষার্থী যে তার সহায়তায় আজ স্বপ্নের বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ছে তার কোনো হিসাব নেই।

উপজেলার সার্বিক উন্নয়নেও তার ভূমিকা ছিল চোখে পড়ার মতো।

দীর্ঘদিনের জরাজীর্ণ রাস্তাঘাট সংস্কার, নতুন ব্রিজ-কালভার্ট নির্মাণ এবং যোগাযোগ ব্যবস্থার আধুনিকায়নে তার নেওয়া উদ্যোগের সুফল এখন ভোগ করছে পুরো উপজেলার মানুষ।

পাশাপাশি সরকারি সেবাকে মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে তিনি সবসময় চেষ্টা করেছেন দপ্তরকে জনবান্ধব করে তুলতে।

উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তা-কর্মচারী থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষ সবাই জানেন, বিপদে-আপদে, কর্মসংস্থান কিংবা যে কোনো সামাজিক প্রয়োজনে তার দপ্তরের দরজা ছিল সবার জন্য অবারিত।

কোনো প্রকার দাপ্তরিক জটিলতা বা অহংকার ছিল না তার মাঝে।

একজন অভিভাবকের মতো তিনি আপন করে নিয়েছিলেন সাতকানিয়ার প্রতিটি মানুষকে।

বিবৃতিতে বলা হয়, স্যারের এই বদলি সাতকানিয়াবাসীর জন্য নিঃসন্দেহে একটি অপূরণীয় ক্ষতি।

তবে তিনি যে মানবিকতার বীজ বপন করে গেছেন তা আগামী দিনে এই উপজেলাকে আরও আলোকিত করবে। নতুন কর্মস্থলেও তিনি সফলতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করবেন এবং মানুষের ভালোবাসায় সিক্ত হবেন এমন প্রত্যাশাই করছেন সকলে।

শেষে উপজেলা প্রশাসন ও সাতকানিয়া-লোহাগাড়া মানবিক ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকে তার সুস্বাস্থ্য, দীর্ঘায়ু ও উত্তরোত্তর সাফল্য কামনা করা হয়।

সেই সঙ্গে গভীর শ্রদ্ধা, ভালোবাসা ও অশেষ শুভকামনা জানিয়ে বিদায় জানানো হয় প্রিয় পথপ্রদর্শককে।

আরো পড়ুন...

রক্তদাতা থেকে সংগঠন প্রতিষ্ঠাতা হয়ে উঠার গল্প