অবৈধ বালু উত্তোলন চলছে শঙ্খ নদে

Jaya Sarkar

প্রকাশ :অক্টোবর ১৩, ২০২৬

অবৈধ বালু উত্তোলন চলছে শঙ্খ নদে

মো: আব্দুল্লাহ মামুন সোহান,চট্টগ্রাম প্রতিনিধি: চট্টগ্রামের শঙ্খ নদে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের কারণে নদীতীরবর্তী জনপদে ভাঙনঝুঁকি বাড়ছে।

বিশেষ করে বাঁশখালী উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় নদীভাঙনের আশঙ্কায় উদ্বেগের মধ্যে রয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। অভিযোগ রয়েছে, ড্রেজার ও শ্যালো মেশিন দিয়ে নদীর তলদেশ থেকে বালু তোলার ফলে নদীতীরের বসতভিটা, ফসলি জমি এবং বেড়িবাঁধ হুমকির মুখে পড়ছে।

স্থানীয়দের আশঙ্কা, পরিস্থিতির অবনতি হলে প্রায় ২০০ বসতঘর ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।

শঙ্খ নদী চট্টগ্রামের দক্ষিণাঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ নদীগুলোর একটি। নদীটির তীরবর্তী বাঁশখালীর বিভিন্ন এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে ভাঙনের সমস্যা রয়েছে। নদী থেকে অপরিকল্পিতভাবে বালু উত্তোলন এবং বর্ষা মৌসুমে প্রবল স্রোত ও জোয়ারের কারণে এ ঝুঁকি আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন এলাকাবাসী।

বাঁশখালীর পুকুরিয়া ইউনিয়নের তেচ্ছিপাড়া থেকে খানখানাবাদ ইউনিয়নের প্রেমাশিয়া পর্যন্ত বিভিন্ন এলাকায় ড্রেজার দিয়ে বালু উত্তোলনের অভিযোগ রয়েছে। নদীভাঙনে সাধনপুর ইউনিয়নের রাতাখোর্দ গ্রামের বাসিন্দা আলী আহমদ চারবার তাঁর বসতভিটা সরাতে বাধ্য হয়েছেন। স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরাও বালু উত্তোলনের কারণে ভাঙনঝুঁকি বাড়ার কথা জানিয়েছেন।

এদিকে ২০২৬ সালের জুনে প্রকাশিত আরেকটি প্রতিবেদনে খানখানাবাদ ইউনিয়নের তেচ্ছিপাড়া, রোসাঙ্গিরীপাড়া ও ঈশ্বরবাবুর হাটসংলগ্ন এলাকায় নতুন করে ভাঙনের আশঙ্কার কথা উঠে আসে। ওই এলাকায় অবৈধভাবে উত্তোলিত বালু মজুত ও বিক্রির অভিযোগে উপজেলা প্রশাসন দুটি মিনি ডাম্পার এবং দুটি বালুর স্তূপ জব্দ করে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও জানানো হয়।

অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধে বিভিন্ন সময়ে প্রশাসনের অভিযান পরিচালিত হলেও স্থানীয়দের অভিযোগ, অভিযান শেষে আবারও কোথাও কোথাও বালু তোলার কার্যক্রম শুরু হয়। ফলে নদীতীরের মানুষের মধ্যে স্থায়ী সমাধান নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে।নদীভাঙনের ঝুঁকি কমাতে অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধ, নিয়মিত নজরদারি, ঝুঁকিপূর্ণ স্থানে নদীতীর সংরক্ষণ এবং ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা জরুরি। পাশাপাশি নদীর কোন অংশে কতটুকু বালু উত্তোলন হচ্ছে, তার যথাযথ পর্যবেক্ষণ এবং অনুমোদনহীন ড্রেজারের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।

স্থানীয় বাসিন্দাদের আশঙ্কা, দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে নদীভাঙনে বসতভিটা ও কৃষিজমি হারানোর ঝুঁকি আরও বাড়তে পারে। তবে প্রায় ২০০ বসতঘর ঝুঁকিতে থাকার তথ্যটি সংশ্লিষ্ট প্রশাসন বা স্থানীয় জনপ্রতিনিধির মাধ্যমে নিশ্চিত করা প্রয়োজন।