শাহজালাল বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনালে ৭৬৫ কোটি টাকা ব্যয় বাড়ল

প্রেসপয়েন্ট বিডি

প্রকাশ :অক্টোবর ১৫, ২০২৬

শাহজালাল বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনালে ৭৬৫ কোটি টাকা ব্যয় বাড়ল

জয়শ্রী রানী: হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনাল নির্মাণ ও পরামর্শক সেবার ব্যয় আরও ৭৬৫ কোটি ৬৫ লাখ টাকা বাড়ানোর প্রস্তাবে অনুমোদন দিয়েছে সরকার। নির্মাণকাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে পৌঁছালেও প্রকল্পের দুটি চুক্তিতে এই অতিরিক্ত ব্যয় যুক্ত হচ্ছে।

আজ বুধবার (১৪ অক্টোবর) প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, মঙ্গলবার সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির সভায় বিমানবন্দর সম্প্রসারণ প্রকল্পের নির্মাণ ও পরামর্শক সেবার চুক্তির ব্যয় বাড়ানোর প্রস্তাব অনুমোদন ও সুপারিশ করা হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।

নির্মাণ চুক্তিতে বাড়তি ৩৬০ কোটি টাকা

প্রকল্পের মূল নির্মাণকাজের চুক্তিমূল্য ছিল প্রায় ২০ হাজার ৫৯৮ কোটি ৬৫ লাখ টাকা। নতুন করে ৩৬০ কোটি ৬৫ লাখ টাকা যোগ হওয়ায় চুক্তিমূল্য বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় ২০ হাজার ৯৫৯ কোটি ৩০ লাখ টাকা। অর্থাৎ নির্মাণ চুক্তির ব্যয় প্রায় ১ দশমিক ৭৫ শতাংশ বাড়ছে।

নির্মাণকাজের দায়িত্বে রয়েছে অ্যাভিয়েশন ঢাকা কনসোর্টিয়াম (এডিসি)। জাপানের মিতসুবিশি করপোরেশন ও ফুজিতা করপোরেশন এবং দক্ষিণ কোরিয়ার স্যামসাং সিঅ্যান্ডটি যৌথভাবে এই কনসোর্টিয়াম গঠন করেছে।

পরামর্শক সেবায় বাড়তি ৪০৫ কোটি টাকা

প্রকল্পের পরামর্শক সেবার চুক্তিতেও ৪০৫ কোটি টাকা বাড়ানোর অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এতে এই খাতের চুক্তিমূল্য প্রায় ৭৭২ কোটি টাকা থেকে বেড়ে প্রায় ১ হাজার ১৭৭ কোটি টাকায় দাঁড়াচ্ছে। মূল চুক্তির তুলনায় এই বৃদ্ধি প্রায় ৫২ দশমিক ৪৮ শতাংশ।

পরামর্শক সেবার দায়িত্বে রয়েছে জাপান, সিঙ্গাপুর ও বাংলাদেশের কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের সমন্বয়ে গঠিত একটি যৌথ উদ্যোগ।

কাজ প্রায় শেষ, তবু বাড়ছে ব্যয়

এর আগে ২৯ সেপ্টেম্বর জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় তৃতীয় টার্মিনাল প্রকল্পের তৃতীয় সংশোধনী অনুমোদিত হয়। ওই সংশোধনীতে প্রকল্পের মোট ব্যয় বেড়ে ২২ হাজার ২১৩ কোটি ৯ লাখ ৬৪ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয় এবং মেয়াদ বাড়িয়ে ২০২৭ সালের জুন পর্যন্ত করা হয়।

প্রকল্পের বাস্তব অগ্রগতি ৯৯ শতাংশের বেশি হলেও টার্মিনালের পূর্ণাঙ্গ কার্যক্রম এখনো শুরু হয়নি। অবশিষ্ট কাজ, প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা সম্পন্ন করা এবং পরিচালনাসংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয় প্রকল্পটির সময়সীমা ও ব্যয়ের সঙ্গে যুক্ত রয়েছে।

তৃতীয় টার্মিনাল চালু হলে দেশের প্রধান আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের যাত্রীসেবা ও বিমান পরিচালনার সক্ষমতা বাড়ানোর সুযোগ তৈরি হবে। তবে অতিরিক্ত ব্যয়ের পাশাপাশি প্রকল্পের অবশিষ্ট কাজ নির্ধারিত সময়ে শেষ করা এবং টার্মিনালটি কার্যকরভাবে চালু করাও গুরুত্বপূর্ণ।

Google News-এ Press Point BD-এর খবর দেখুন আমাদের সর্বশেষ সংবাদ ও প্রতিবেদন Google News-এ পড়ুন।

আরো পড়ুন...

চট্টগ্রামে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযানে গ্রেপ্তার ৮৫৭