সেতু মাহমুদ: ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীদের ধারাবাহিক হামলার পর পাল্টা সামরিক অভিযান জোরদার করেছে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট।
হুতিদের দাবি, গত ২৪ ঘণ্টায় তাদের নিয়ন্ত্রিত এলাকায় ১২০টির বেশি বিমান হামলা চালানো হয়েছে। তবে হামলার এই সংখ্যা স্বাধীনভাবে যাচাই করা যায়নি। সৌদি আরব ও হুতিদের মধ্যে সংঘাত তীব্র হওয়ায় মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
সাম্প্রতিক দিনগুলোতে সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরসহ দেশটির গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় একাধিক হামলার ঘটনা ঘটেছে। ১০ অক্টোবরের হামলায় সৌদি কর্তৃপক্ষের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, অন্তত ১৩ জন নিহত এবং তিন শতাধিক মানুষ আহত হন। নিহতদের মধ্যে বাংলাদেশের নাগরিকও ছিলেন। হামলার পর বিমানবন্দরের কার্যক্রম ব্যাহত হয় এবং একাধিক আন্তর্জাতিক এয়ারলাইনসের ফ্লাইট বাতিল বা অন্যত্র সরিয়ে নেওয়া হয়।
১২ অক্টোবর প্রকাশিত সিবিএস নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়, রিয়াদ বিমানবন্দরে নতুন করে হামলার ঘটনায় আরও একজন নিহত হন এবং ১১ জন আহত হন বলে সৌদি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। হুতিরা বিমানবন্দর লক্ষ্য করে একাধিক অভিযান চালানোর দাবি করেছে। একই সময়ে সৌদি বিমান প্রতিরক্ষা বাহিনী দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের খামিস মুশাইত অভিমুখে ছোড়া একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করেছে বলে সৌদি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।
সংঘাতের বিস্তার নিয়ে উদ্বেগ
রিয়াদে ধারাবাহিক হামলার পর সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট হুতিদের অবস্থানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান চালাচ্ছে। ইয়েমেনের গৃহযুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে জড়িত সৌদি আরব ও হুতিদের মধ্যে ২০২২ সালে যুদ্ধবিরতি হয়েছিল। তবে সাম্প্রতিক মাসগুলোতে সংঘাত আবার তীব্র হয়েছে এবং গুরুত্বপূর্ণ বিমানবন্দর, সামরিক স্থাপনা ও জ্বালানি অবকাঠামো হামলার ঝুঁকিতে পড়েছে।
হুতিরা সৌদি আরবের বিভিন্ন স্থাপনায় হামলার দাবি করলেও এসব অভিযানের সব বিবরণ স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। অন্যদিকে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের বিমান হামলায় হতাহত ও ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণাঙ্গ চিত্রও সব ক্ষেত্রে স্পষ্ট নয়। সংঘাতের কারণে বেসামরিক মানুষের নিরাপত্তা, আঞ্চলিক যোগাযোগ এবং জ্বালানি সরবরাহব্যবস্থা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে।
বিশ্লেষকদের মতে, পাল্টাপাল্টি হামলা অব্যাহত থাকলে পরিস্থিতি আরও জটিল হতে পারে। তবে সামরিক অভিযানের ফলাফল বা হুতিদের ভবিষ্যৎ সম্পর্কে এখনই নিশ্চিত সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর সুযোগ নেই। সংঘাতের গতিপ্রকৃতি নির্ভর করবে উভয় পক্ষের সামরিক পদক্ষেপ, আঞ্চলিক শক্তিগুলোর ভূমিকা এবং কূটনৈতিক উদ্যোগের ওপর।
Google News-এ Press Point BD-এর খবর দেখুন আমাদের সর্বশেষ সংবাদ ও প্রতিবেদন Google News-এ পড়ুন।














