সৈয়দ আতিক ফয়সাল,রাবি প্রতিনিধি: রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় (রাবি) পেশাগত দায়িত্ব পালনের সময় সাংবাদিকদের ওপর দেশীয় অস্ত্রসহ ছাত্রদলের হামলার ঘটনায় নিজেদের নেতাকর্মীদের জড়িত থাকার প্রত্যক্ষ প্রমাণ থাকা সত্ত্বেও ছাত্রশিবিরকে দায়ী করেছেন বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের সভাপতি সুলতান আহমেদ রাহী। একই সঙ্গে এই ঘটনাকে ‘অনাকাঙ্ক্ষিত ভুল বোঝাবুঝি’ দাবি করে বিষয়টি তদন্তের আশ্বাস দিয়েছেন তিনি।
রবিবার রাতে ( ৪ অক্টোবর) বিশ্ববিদ্যালয়ের জিয়াউর রহমান হলে সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনার পর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নিজ টাইমলাইনে এক পোস্টে এসব কথা বলেন তিনি। সুলতান আহমেদ রাহী লিখেন, 'সাংবাদিক ও ছাত্রদলের মধ্যে দূরত্ব তৈরিতে ছাত্রশিবির চক্রান্ত করছে'।
তিনি লিখেন, 'রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংবাদিকরা আমাদের ভাই, আমাদের বন্ধু এবং বিশ্ববিদ্যালয় ও সমাজের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। আমরা বিশ্বাস করি, সাংবাদিকরা জাতির বিবেক ও সত্য প্রকাশের অন্যতম মাধ্যম'।
হামলায় নিজ সংগঠনের নেতাকর্মীদের সম্পৃক্ততার ভিডিও ও ছবি প্রকাশ্যে এলেও তা সরাসরি এড়িয়ে যান ছাত্রদল সভাপতি। শিবিরকে অভিযুক্ত করে তিনি লিখেন, 'রাবি ছাত্রদলের কোনো নেতাকর্মী ইচ্ছাকৃতভাবে কোনো সাংবাদিক ভাইয়ের গায়ে হাত তুলবে না। রাবি ছাত্রদল ও সাংবাদিকদের মধ্যে দূরত্ব ও ভুল বোঝাবুঝি তৈরি করতে শিবিরের অপচেষ্টার আমরা নিন্দা জানাই।'
হামলার বিষয়টি এড়িয়ে গিয়ে ঘটনাটিকে ‘অনাকাঙ্ক্ষিত’ আখ্যা দিয়ে রাহী আরও লিখেন 'আজকের ঘটনায় কোনো সাংবাদিক ভাই অনাকাঙ্ক্ষিতভাবে ভুল বোঝাবুঝির শিকার হয়ে থাকলে, বিষয়টি আমরা গুরুত্বের সঙ্গে দেখছি এবং ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটনে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করবো।'
তবে হামলার ফুটেজে থাকা শাখা ছাত্রদলের সহ-সভাপতি আহসান হাবিব সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে লিখেন, কোন নিরপেক্ষ সাংবাদিকের ওপর হামলা করা হয়নি। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে নিয়ে কটুক্তিকারী সাবেক ছাত্রলীগ নেতা, জিয়া হলের জিএস আরিফুলকে ধরতে জিয়া হলে গেলে সংক্ষুব্ধ ছাত্রদল নেতাকর্মীদের উপর যেসব সাংবাদিক নামধারী গুপ্ত শিবির ছানা হামলা করতে এসেছে তাদেরকে প্রতিহত করা হয়েছে মাত্র।'
এর আগে, রাত ৮ টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবহন মার্কেট থেকে মিছিল নিয়ে জিয়াউর রহমান হল সংসদের জিএস আরিফুল ইসলামকে মারার উদ্দেশ্যে হল গেইটে আসেন ছাত্রদল নেতারা। এসময় তাদের হাতে বস্তা ভর্তি দেশীয় অস্ত্র রামদা, চাপাতি, হকি স্টিক, পাইপ, ব্যাজবলসহ অন্যান্য বিভিন্ন অস্ত্র দেখা যায়। পরে প্রক্টর খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে আসলে তারা অস্ত্র লুকিয়ে ফেলে। পরে ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের হল গেইটে অস্ত্র হাতে দেখতে পেয়ে সাংবাদিকরা এগিয়ে গেলে তাদের দেশীয় অস্ত্র দিয়ে নৃশংস হামলা চালায়।
গুরুতর আহত সাংবাদিকেরা হলেন আগামীর সময়ের প্রতিনিধি জাহিদুল ইসলাম, দ্য ডেইলি স্টারের প্রতিনিধি নূর আহসান মৃদুল, বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি আরিফ উজ্জামান কোরবান ও দৈনিক সমকালের প্রতিনিধি মাঈনুল ইসলাম রাজু। এ ছাড়া আরও কয়েকজন সাংবাদিক আহত হয়েছেন।
অন্যদিকে হামলাকারীরা হলেন বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের সহ-সভাপতি আহসান হাবীব, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হাসিবুল ইসলাম, ছাত্রদলের সহ-সভাপতি শরিফুল ইসলাম, সহ-দপ্তর সম্পাদক শাহরিয়ার আলম। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ছাত্রদলের অন্তত ১০ জন নেতা-কর্মী এ হামলায় অংশ নেন।














