রাকসুর অর্থ আত্মসাৎের অভিযোগ, তদন্তের দাবিতে ছাত্রদলের স্মারকলিপি

প্রেসপয়েন্ট বিডি

প্রকাশ :আগস্ট ২২, ২০২৬

রাকসুর অর্থ আত্মসাৎের অভিযোগ, তদন্তের দাবিতে ছাত্রদলের স্মারকলিপি

সৈয়দ আতিক ফয়সাল (রাবি প্রতিনিধি): রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (রাকসু) নেতাদের বিরুদ্ধে আর্থিক অসঙ্গতির অভিযোগ তুলে সুষ্ঠু তদন্ত ও জবাবদিহিতার দাবি জানিয়েছে শাখা ছাত্রদল।

আজ শনিবার (২২আগস্ট) দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক আব্দুল আলীমের কাছে এক স্মারকলিপি দিয়ে এই দাবি জানান তারা।
‎
‎স্মারকলিপি তারা মোট সাতটি দাবি জানিয়েছে। দাবি গুলো হলো রাকসু তহবিলে থেকে উত্তোলিত অর্থের পূর্ণাঙ্গ হিসাব প্রকাশ করতে হবে

এবং কোন খাতে, কত টাকা, কখন এবং কার অনুমোদনে উত্তোলন ও ব্যয় করা হয়েছে তা জানাতে হবে।

দাখাত না দেখিয়ে, যথাযথ বিল-ভাউচার ছাড়া কিংবা নির্ধারিত আর্থিক বিধি অনুসরণ না করে

উত্তোলিত অর্থের বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের লিখিত জবাবদিহির আওতায় আনতে হবে।

তহবিলের আয়-ব্যয়, ব্যাংক হিসাব,উত্তোলন সংক্রান্ত বিল-ভাউচার ও সংশ্লিষ্ট  কাগজপত্রের স্বচ্ছ, নিরপেক্ষ ও পূর্ণাঙ্গ করতে হবে।

তদন্তের প্রয়োজনে একটি স্বাধীন ও নিরপেক্ষ তদন্ত কমিটি গঠন করে তদন্ত প্রতিবেদন শিক্ষার্থীদের সামনে প্রকাশ করতে হবে।

তদন্তে অর্থ আত্মসাৎ, দুর্নীতি, আর্থিক বিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ প্রমাণিত হলে দায়ী ব্যক্তি

বা ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিধি

ও প্রচলিত আইন অনুযায়ী কঠোর শাস্তিমূলক ও আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।

যে অর্থের বৈধ ব্যয়ের প্রমাণ পাওয়া যাবে না অথবা অনিয়মের মাধ্যমে ব্যয়/আত্মসাৎ প্রমাণিত হবে,

সেই সমুদয় অর্থ উদ্ধার করে শিক্ষার্থীদের রাকসু ফান্ডে পুনরায় জমা দিতে হবে। 

ভবিষ্যতে রাকসু ফান্ডের অর্থ ব্যবস্থাপনায় নিয়মিত অডিট, আয়-ব্যয়ের হিসাব প্রকাশ, প্রতিটি ব্যয়ের বিল-ভাউচার

এবং শিক্ষার্থীদের কাছে আর্থিক স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।
‎
‎স্মারকলিপিতে ছাত্রদল নেতৃবৃন্দ বলেন, উপরোক্ত দাবিসমূহ দ্রুত বাস্তবায়ন করে রাকসু ফান্ডের সোয়া কোটি টাকা উত্তোলন

ও ব্যয়ের বিষয়ে সুষ্ঠু তদন্ত, সংশ্লিষ্টদের জবাবদিহি,

অনিয়ম প্রমাণিত হলে দৃষ্টান্তমূলক বিচার এবং আত্মসাৎ/অপব্যবহৃত অর্থ উদ্ধার করে শিক্ষার্থীদের রাকসু ফান্ডে ফেরত জমা দেওয়ার

প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান তারা।
‎
‎শিক্ষার্থীদের অর্থ কারও ব্যক্তিগত সম্পত্তি নয় উল্লেখ করে তারা বলেন, শিক্ষার্থীদের কল্যাণের জন্য থাকা রাকসু ফান্ডের অর্থ যদি যথাযথ খাত

ছাড়া ইচ্ছামতো উত্তোলন করা হয়ে থাকে এবং শিক্ষার্থীদের কল্যাণে ব্যয় না হয়ে থাকে, তাহলে এর পূর্ণাঙ্গ জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে।
‎
‎তারা অভিযোগ করেন, ৪২টি কর্মসূচিতে রাকসুর তহবিল থেকে ১ কোটি ২৯ লাখ ১৪ হাজার ৬৮৯ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।

এর মধ্যে উত্তোলন করা টাকার ৬১ লাখ ৫০ হাজার ৪৬৮ টাকার বিল-ভাউচার জমা দেওয়া হয়নি।

এমনকি অভিযোগ রয়েছে, সংশ্লিষ্টরা নিজেদের ইচ্ছামতো অর্থ উত্তোলন করেছেন

এবং উত্তোলিত অর্থের একটি বড় অংশ সাধারণ শিক্ষার্থীদের কল্যাণে ব্যয় করা হয়নি।
‎
‎এ বিষয়ে উপ-উপাচার্য অধ্যাপক আব্দুল আলীম বলেন, 'উপাচার্য মহোদয়ের অনুপস্থিতিতে

ছাত্রদল রাকসুর অর্থনৈতিক প্রসঙ্গে একটি স্মারকলিপি দিয়েছেন।

এখানে রাকসুর বিরুদ্ধে আর্থিক বিধি না মেনে তহবিল থেকে অর্থ উত্তোলনের অনেকগুলো অভিযোগ করা হয়েছে।

উপাচার্য রাজশাহী ফিরলেই এ বিষয়টি আমরা খতিয়ে দেখব।

জনগণের ট্যাক্সের এবং শিক্ষার্থীদের প্রদাণকৃত অর্থ ব্যয়ে কোনো অনিয়ম হলে অবশ্যই বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।'

আরো পড়ুন…..

রাকসুর তহবিলের অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ, ছাত্রদলের বিক্ষোভ