গর্ভবতী নন অথচ পিরিয়ড হচ্ছে না? জেনে নিন তাহলে

প্রেসপয়েন্ট বিডি

প্রকাশ :আগস্ট ১৮, ২০২৬

গর্ভবতী নন অথচ পিরিয়ড হচ্ছে না? জেনে নিন তাহলে

নাবিলা কবির: গর্ভবতী নন অথচ পিরিয়ড হচ্ছে না? জেনে নিন তাহলে।

পিরিয়ড মিস হওয়ার পেছনে গর্ভাবস্থা ছাড়াও নানাবিধ শারীরিক, হরমোনগত ও জীবনযাত্রার কারণ জড়িত থাকতে পারে।

পিরিয়ড মিস হওয়ার মূল কারণসমূহ

গর্ভধারণ ছাড়াও নারীদের ঋতুচক্র ব্যাহত হওয়ার পেছনে প্রধান কারণগুলো নিচে আলোচনা করা হলো:

​হরমোনের ভারসাম্যহীনতা ও পিসিওএস (PCOS): পলিসিস্টিক ওভারি সিন্ড্রোম (PCOS) বর্তমান সময়ে নারীদের মধ্যে অত্যন্ত পরিচিত একটি সমস্যা।

এতে ডিম্বাশয়ে ছোট ছোট সিস্ট তৈরি হয় এবং অ্যান্ড্রোজেন হরমোনের মাত্রা বেড়ে যায়, যা ডিম্বস্ফোটন বা ওভুলেশনে বাধা দেয়।

​থাইরয়েডের সমস্যা: হাইপোথাইরয়েডিজম বা হাইপারথাইরয়েডিজমের কারণে থাইরয়েড হরমোনের মাত্রা ঠিক থাকে না।

এটি শরীরের মেটাবলিজম এবং হরমোন উৎপাদনে প্রভাব ফেলে, যার ফলে পিরিয়ড অনিয়মিত বা বন্ধ হয়ে যায়।

​অতিরিক্ত মানসিক চাপ (Stress): কর্মক্ষেত্র বা ব্যক্তিগত জীবনের অতিরিক্ত চাপ মস্তিষ্কের হাইপোথ্যালামাসকে প্রভাবিত করে।

হাইপোথ্যালামাস হরমোন নিয়ন্ত্রণকারী গ্রন্থিগুলোকে পরিচালিত করায়, মানসিক চাপ কর্টিসল হরমোন বাড়িয়ে দিয়ে পিরিয়ডের স্বাভাবিক চক্রকে নষ্ট করে দেয়।

​ওজনের ওঠানামা: শরীরের ওজন হঠাৎ করে খুব বেশি কমে গেলে কিংবা অতিরিক্ত স্থূলতা (Obesity) দেখা দিলে হরমোনের ভারসাম্য নষ্ট হয়।

অতিরিক্ত চর্বি শরীরে ইস্ট্রোজেনের মাত্রায় তারতম্য ঘটায়।

​ঝুঁকিপূর্ণ বা প্রdisposing কারণসমূহ

​কিছু জীবনযাত্রা এবং বাহ্যিক বিষয় পিরিয়ড মিস হওয়ার ঝুঁকি বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়:

​তীব্র বা অতিরিক্ত শরীরচর্চা: মাত্রাতিরিক্ত শারীরিক পরিশ্রম বা অ্যাথলেটিক প্রশিক্ষণ শরীরের ফ্যাট পার্সেন্টেজ খুব কমিয়ে দেয়,

যা ইস্ট্রোজেন হরমোনের মাত্রা হ্রাস করে পিরিয়ড বন্ধ করে দিতে পারে।

​অপুষ্টি ও খাদ্যাভ্যাসে অনিয়ম: যারা ক্রাশ ডায়েট করেন বা অ্যানোরেক্সিয়া নার্ভোসার মতো ইটিং ডিসঅর্ডারে ভোগেন, তাদের শরীরে পুষ্টির চরম ঘাটতি দেখা দেয়।

এর ফলে শরীর প্রজনন প্রক্রিয়া ধীর বা বন্ধ করে শক্তি সংরক্ষণ করতে চায়।

​পেরিমেনোপজ (Perimenopause): বয়স বাড়ার সাথে সাথে (সাধারণত ৪৫ থেকে ৫৫ বছরের মধ্যে)

নারীদের মেনোপজের আগের পর্যায়ে হরমোনের তারতম্যের কারণে পিরিয়ড মিস হতে শুরু করে।

​জন্মনিয়ন্ত্রণ পদ্ধতি (Contraceptives) ও পিরিয়ড

জন্মনিয়ন্ত্রণ পিলের ব্যবহার বা গর্ভনিরোধক পদ্ধতি পিরিয়ড মিস হওয়ার একটি বড় কারণ।

অনেক সময় হরমোনাল কন্ট্রাসেপ্টিভ যেমন—জন্মনিয়ন্ত্রণ বড়িক, ইনজেকশন বা ইমপ্লান্ট ব্যবহার করলে জরায়ুর আস্তরণ পাতলা হয়ে যায়।

এর ফলে পিরিয়ডের রক্তপাত খুবই অল্প হয় অথবা সাময়িকভাবে মাসিক পুরোপুরি বন্ধ থাকতে পারে।

এই পদ্ধতিগুলো বন্ধ করার পরেও শরীরের স্বাভাবিক হরমোন চক্র ফিরে আসতে কিছুটা সময় (কয়েক মাস পর্যন্ত) লাগতে পারে।

​চিকিৎসা ও করণীয়

পিরিয়ড মিস হওয়ার চিকিৎসা নির্ভর করে এর মূল কারণের ওপর। চিকিৎসকের কাছে গেলে সাধারণত রক্ত পরীক্ষা (হরমোন ও থাইরয়েড পরীক্ষা), পেভলিক আল্ট্রাসাউন্ড বা অন্যান্য প্রয়োজনীয় পরীক্ষা করা হয়।

জীবনযাত্রার পরিবর্তন: মানসিক চাপ কমাতে যোগব্যায়াম, মেডিটেশন এবং পর্যাপ্ত ঘুমানের অভ্যাস করতে হবে। সুষম খাবার গ্রহণ এবং সঠিক ওজন বজায় রাখা জরুরি।

ঔষধ ও হরমোন থেরাপি: থাইরয়েডের সমস্যা থাকলে তার নির্দিষ্ট ওষুধ সেবন করতে হবে।

পিসিওএস বা হরমোনের ঘাটতি থাকলে চিকিৎসকরা অনেক সময় হরমোন রিপ্লেসমেন্ট থেরাপি বা জন্মনিয়ন্ত্রণ পিল দিয়ে চক্র নিয়মিত করার পরামর্শ দেন।

চিকিৎসকের পরামর্শ: টানা দুই থেকে তিন মাস পিরিয়ড বন্ধ থাকলে বা অতিরিক্ত শারীরিক সমস্যা দেখা দিলে নিজে নিজে ওষুধ

না খেয়ে অবশ্যই একজন স্ত্রী রোগ বিশেষজ্ঞের (Gynecologist) শরণাপন্ন হতে হবে।